কুড়িগ্রামে বইছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ, তীব্র ঠান্ডায় চরম ভোগান্তিতে সাধারন মানুষ
ছবিঃ বিপ্লবী বার্তা

একদিন পরে আবারো কুড়িগ্রামে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ শুরু হওয়ায় হিমেল হাওয়ার দাপটে জেঁকে বসেছে শীত। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত কুয়াশায় চাদরে ঢাকা থাকছে চারদিক। শীত ও ঠান্ডার তীব্রতায় ভোগান্তিতে পড়েছে মানুষজন। দুপুরের পর সূর্যের তেজ বাড়লে তবে কিছুটা স্বস্তি ফেরে সাধারণ মানুষের মাঝে। ২৪ ঘন্টার মধ্যে ১৭ থেকে ১৮ ঘন্টা এ জেলায় ঠান্ডা অনুভাব হচ্ছে।


রবিবার (১১ জানুয়ারি) সকাল ৬টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯ দশমিক ৮ ডিগ্রী সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাজারহাট আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার। 


কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার কাঁঠাল বাড়ি ইউনিয়নের শ্রমিক সিদ্দিক মিয়া বলেন, 'গত কয়েক দিন থাকি ২৪ ঘন্টায় মধ্যে ১৭ থেকে ১৮ ঘন্টায় ঠান্ডা থাকায় খুব কষ্ট হচ্ছে কাজ করতে পারছিনা। কাজ না করলে তো সংসার চলে না। তাতে ফির বাজারে যে জিনিস পাতির দাম। খুব চিন্তায় আছি।' 


রাজারহাট উপজেলার টকরাইহাট এলাকার কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, 'প্রচন্ড ঠান্ডা ও শীতে আলুর খুব ক্ষতি হতে পারে তাই ওষুধ দিচ্ছি। বিঘা প্রতি ওষুধ ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা বারতি যাচ্ছে। তাতে যদি আলুর দাম না পাই তাহলে আমরা ক্ষতি মুখে পরবো।' 


একই এলাকার কৃষি শ্রমিক ইসমাইল হোসেন বলেন, 'খুব শীত আর ঠান্ডা বাহে কি করমো সংসার তো চলা লাগবে তাই জমিতে কাজ করতে এসেছি।'


তবে কুয়াশা ও শীতের তীব্রতার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে উওরীয় হিমেল হাওয়া বয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন কৃষি শ্রমিক ও খেটে খাওয়া মানুষগুলো।

 

সেই সঙ্গে শীত জনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালেগুলোতে চিকিৎসা সেবা গ্রহণকারী রোগীর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে । এরমধ্যে শিশু, নারী ও বয়স্ক রোগীর সংখ্যাই বেশি।


কুড়িগ্রামের সিভিল সার্জন ডা: স্বপন কুমার বিশ্বাস বলেন, 'জেলায় শীতজনিত রোগে আক্রান্তদের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। জেলার ৯টি উপজেলায় হাসপাতাল গুলোতে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।'


কুড়িগ্রামের রাজারহাট কৃষি  আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার বলেন, 'আজ রবিবার সকাল ৬ টায় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এবং বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল সর্বোচ্চ ৯৯ শতাংশ।