দামুড়হুদায় অগ্নিকাণ্ডে নিঃস্ব মোতালেবের পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন ইউএনও
ছবিঃ বিপ্লবী বার্তা

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার হাউলী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের রঘুনাথপুর গ্রামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একটি পরিবার সর্বস্ব হারিয়েছে। বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে সৃষ্ট এ আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে মোঃ মোতালেব হোসেনের বসতঘরসহ সারা জীবনের সঞ্চয় ও সহায়-সম্বল।


স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (২২ ডিসেম্বর) রাত আনুমানিক ৯টা ৪০ মিনিটের দিকে মোতালেব হোসেনের বাড়িতে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুনের লেলিহান শিখা পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। প্রাণ বাঁচাতে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত ঘর থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হলেও আগুনের তীব্রতায় ঘরের কোনো মালামাল রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।


আগুনের খবর পেয়ে স্থানীয় গ্রামবাসী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ছুটে এসে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তাদের তৎপরতায় আগুন আশপাশের বসতবাড়িতে ছড়িয়ে পড়া থেকে রক্ষা পায়।


অগ্নিকাণ্ডে মোতালেব হোসেনের পরিবারের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। আগুনে পুড়ে গেছে আসবাবপত্র, মজুতকৃত খাদ্যশস্য, পরিধেয় বস্ত্র, লেপ-তোশকসহ ঘরের প্রয়োজনীয় সব জিনিসপত্র। সবচেয়ে মর্মান্তিক বিষয় হলো—পরিবারের সন্তানদের শিক্ষাজীবনের গুরুত্বপূর্ণ একাডেমিক সনদপত্র এবং জমি-জমার মূল দলিলপত্র সম্পূর্ণভাবে পুড়ে গেছে। এছাড়া ঘরে থাকা নগদ টাকা ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রীও নষ্ট হয়েছে। ফলে পরিবারটি এখন খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে।


ঘটনার খবর পেয়ে মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) সকাল ১০টার দিকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের বাড়িতে সশরীরে উপস্থিত হন দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ উবায়দূর রহমান সাহেল। তিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের সান্ত্বনা দেন।


প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক সহায়তা হিসেবে ইউএনও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে শীতবস্ত্র (কম্বল), শুকনো খাবার এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী—চাল, ডাল ও তেল তুলে দেন। পাশাপাশি তিনি পরিবারটিকে ভবিষ্যতে আরও আর্থিক সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দেন।


ইউএনও মোঃ উবায়দূর রহমান সাহেল জানান, প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ইউএনও অফিসে লিখিত আবেদন করলে সরকারি তহবিল থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে আরও বড় পরিসরে পুনর্বাসন সহায়তা দেওয়া হবে।


প্রশাসনের এই দ্রুত ও মানবিক সহায়তায় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন মোতালেব হোসেন ও তার পরিবারের সদস্যরা। তারা এই দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ানোর জন্য উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় গ্রামবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং সবার কাছে দোয়া কামনা করেন।