বিপ্লবী বার্তা

মূল পাতা

আন্তর্জাতিক

কঙ্গোয় ইবোলা ভাইরাসের থাবা, অন্তত ১১৮ জনের মৃত্যু

প্রকাশ : ১৯ মে ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ
 কঙ্গোয় ইবোলা ভাইরাসের থাবা, অন্তত ১১৮ জনের মৃত্যু
কঙ্গোতে বেড়েছে ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব। ছবি: সংগৃহীত

আফ্রিকার দেশ গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোতে ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। দেশটিতে এখন পর্যন্ত অন্তত ১১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া ৩৯০ জনের বেশি মানুষ ইবোলায় আক্রান্ত হয়েছেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো।

আফ্রিকা সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের প্রধান জ্যঁ কাসেয়া সতর্ক করে বলেছেন, এখন পর্যন্ত এই ধরনের ইবোলার বিরুদ্ধে অনুমোদিত কোনো কার্যকর ওষুধ বা টিকা নেই। তাই জনস্বাস্থ্যবিষয়ক নির্দেশনা মেনে চলার ওপর জোর দেন তিনি। বিশেষ করে আক্রান্ত ব্যক্তির মরদেহ দাফন বা সৎকারের সময় সর্বোচ্চ সতর্কতা অনুসরণের আহ্বান জানান।

অন্যদিকে সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) জানিয়েছে, উগান্ডা-তেও দুইজন ইবোলায় আক্রান্ত হয়েছেন এবং সেখানে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ইবোলার বর্তমান প্রাদুর্ভাবকে আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা হিসেবে ঘোষণা করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, ইবোলার ‘বুন্ডিবুগ্যো’ ধরন এই সংক্রমণের জন্য দায়ী।

এদিকে কঙ্গোয় কর্মরত এক মার্কিন চিকিৎসকও ইবোলায় আক্রান্ত হয়েছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তিনি একটি মেডিক্যাল মিশনারি দলের সদস্য ছিলেন। চিকিৎসার জন্য তাকে জার্মানিতে নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিসি নিউজ। তবে নিরাপত্তার কারণে ওই চিকিৎসকের নাম প্রকাশ করা হয়নি।

একাধিক সূত্রের বরাতে সিবিএস নিউজ আরও জানিয়েছে, কঙ্গোয় চলমান প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর অন্তত ছয়জন মার্কিন নাগরিক ইবোলা ভাইরাসের সংস্পর্শে এসেছেন। আক্রান্ত বা ঝুঁকিতে থাকা অল্পসংখ্যক মার্কিন নাগরিককে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে সহায়তা করছে সিডিসি।

স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট এসটিএটি জানিয়েছে, কঙ্গোয় অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের একটি ছোট দলকে নিরাপদ কোয়ারেন্টিন এলাকায় নেওয়ার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। তাদের জার্মানিতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে নেওয়া হতে পারে বলেও জানা গেছে। যদিও বিষয়টি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি।

সিডিসি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে ইবোলার ঝুঁকি তুলনামূলক কম। তবে ভাইরাসটি যেন দেশটিতে প্রবেশ করতে না পারে, সেজন্য বিভিন্ন সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আক্রান্ত অঞ্চল থেকে আসা যাত্রীদের নজরদারি, সংস্পর্শ অনুসন্ধান (কনট্যাক্ট ট্রেসিং) এবং পরীক্ষার সক্ষমতা বৃদ্ধি।

এছাড়া গত ২১ দিনের মধ্যে কঙ্গো, উগান্ডা বা দক্ষিণ সুদান সফর করেছেন এমন অ-মার্কিন নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করা হয়েছে।

মার্কিন সরকার ডিআর কঙ্গো ভ্রমণের ক্ষেত্রে নাগরিকদের জন্য সর্বোচ্চ মাত্রার সতর্কতা জারি করেছে।

ডব্লিউএইচও বলেছে, কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি প্রদেশে এখনো পরিস্থিতি মহামারির পর্যায়ে না পৌঁছালেও সংক্রমণের প্রকৃত সংখ্যা শনাক্তের তুলনায় অনেক বেশি হতে পারে। একই সঙ্গে স্থানীয় ও আঞ্চলিকভাবে রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও উল্লেখযোগ্য বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি।

উল্লেখ্য, ১৯৭৬ সালে প্রথম ইবোলা ভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব দেখা যায় ২০১৪ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে। সে সময় পশ্চিম আফ্রিকায় ২৮ হাজার ৬০০ জনের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয় এবং মৃত্যু হয় ১১ হাজার ৩২৫ জনের।

ইবোলা ভাইরাস প্রাদুর্ভাব আন্তর্জাতিক

আপনার মতামত লিখুন

বিপ্লবী বার্তা

মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬


কঙ্গোয় ইবোলা ভাইরাসের থাবা, অন্তত ১১৮ জনের মৃত্যু

প্রকাশের তারিখ : ১৯ মে ২০২৬

featured Image

আফ্রিকার দেশ গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোতে ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। দেশটিতে এখন পর্যন্ত অন্তত ১১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া ৩৯০ জনের বেশি মানুষ ইবোলায় আক্রান্ত হয়েছেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো।

আফ্রিকা সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের প্রধান জ্যঁ কাসেয়া সতর্ক করে বলেছেন, এখন পর্যন্ত এই ধরনের ইবোলার বিরুদ্ধে অনুমোদিত কোনো কার্যকর ওষুধ বা টিকা নেই। তাই জনস্বাস্থ্যবিষয়ক নির্দেশনা মেনে চলার ওপর জোর দেন তিনি। বিশেষ করে আক্রান্ত ব্যক্তির মরদেহ দাফন বা সৎকারের সময় সর্বোচ্চ সতর্কতা অনুসরণের আহ্বান জানান।

অন্যদিকে সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) জানিয়েছে, উগান্ডা-তেও দুইজন ইবোলায় আক্রান্ত হয়েছেন এবং সেখানে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ইবোলার বর্তমান প্রাদুর্ভাবকে আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা হিসেবে ঘোষণা করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, ইবোলার ‘বুন্ডিবুগ্যো’ ধরন এই সংক্রমণের জন্য দায়ী।

এদিকে কঙ্গোয় কর্মরত এক মার্কিন চিকিৎসকও ইবোলায় আক্রান্ত হয়েছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তিনি একটি মেডিক্যাল মিশনারি দলের সদস্য ছিলেন। চিকিৎসার জন্য তাকে জার্মানিতে নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিসি নিউজ। তবে নিরাপত্তার কারণে ওই চিকিৎসকের নাম প্রকাশ করা হয়নি।

একাধিক সূত্রের বরাতে সিবিএস নিউজ আরও জানিয়েছে, কঙ্গোয় চলমান প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর অন্তত ছয়জন মার্কিন নাগরিক ইবোলা ভাইরাসের সংস্পর্শে এসেছেন। আক্রান্ত বা ঝুঁকিতে থাকা অল্পসংখ্যক মার্কিন নাগরিককে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে সহায়তা করছে সিডিসি।

স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট এসটিএটি জানিয়েছে, কঙ্গোয় অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের একটি ছোট দলকে নিরাপদ কোয়ারেন্টিন এলাকায় নেওয়ার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। তাদের জার্মানিতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে নেওয়া হতে পারে বলেও জানা গেছে। যদিও বিষয়টি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি।

সিডিসি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে ইবোলার ঝুঁকি তুলনামূলক কম। তবে ভাইরাসটি যেন দেশটিতে প্রবেশ করতে না পারে, সেজন্য বিভিন্ন সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আক্রান্ত অঞ্চল থেকে আসা যাত্রীদের নজরদারি, সংস্পর্শ অনুসন্ধান (কনট্যাক্ট ট্রেসিং) এবং পরীক্ষার সক্ষমতা বৃদ্ধি।

এছাড়া গত ২১ দিনের মধ্যে কঙ্গো, উগান্ডা বা দক্ষিণ সুদান সফর করেছেন এমন অ-মার্কিন নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করা হয়েছে।

মার্কিন সরকার ডিআর কঙ্গো ভ্রমণের ক্ষেত্রে নাগরিকদের জন্য সর্বোচ্চ মাত্রার সতর্কতা জারি করেছে।

ডব্লিউএইচও বলেছে, কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি প্রদেশে এখনো পরিস্থিতি মহামারির পর্যায়ে না পৌঁছালেও সংক্রমণের প্রকৃত সংখ্যা শনাক্তের তুলনায় অনেক বেশি হতে পারে। একই সঙ্গে স্থানীয় ও আঞ্চলিকভাবে রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও উল্লেখযোগ্য বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি।

উল্লেখ্য, ১৯৭৬ সালে প্রথম ইবোলা ভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব দেখা যায় ২০১৪ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে। সে সময় পশ্চিম আফ্রিকায় ২৮ হাজার ৬০০ জনের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয় এবং মৃত্যু হয় ১১ হাজার ৩২৫ জনের।


বিপ্লবী বার্তা

প্রকাশক
শেখ মাহমুদ উজ্জ্বল
সম্পাদক
ড. জাহিদ আহমেদ চৌধুরী
নির্বাহী সম্পাদক
কাইয়ুম তালুকদার (কানন)

কপিরাইট © ২০২৬ । বিপ্লবী বার্তা