প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেছেন, বিএনপির নেতৃত্বে যাত্রা শুরু করা নতুন সরকারের পররাষ্ট্রনীতির মূল লক্ষ্য হবে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ অর্থাৎ জাতীয় স্বার্থ ও উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া। তবে এর অর্থ কোনো ধরনের বিচ্ছিন্নতাবাদ নয়; বরং বিশ্বব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত থেকে দেশের স্বার্থকে এগিয়ে নেওয়া।
‘বাংলাদেশ ফার্স্ট: এ ফরেন পলিসি আউটলুক ফর এ নিউ বাংলাদেশ’ শীর্ষক নীতি আলোচনায় মূল বক্তব্যে এসব কথা বলেন হুমায়ুন কবির। আজ শনিবার বিকেল ৩টায় রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে এই আলোচনার আয়োজক শান্তি ও নিরাপত্তাবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজ (বিআইপিএসএস)।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টকে বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি ‘টার্নিং পয়েন্ট’ উল্লেখ করে হুমায়ুন কবির বলেন, ওই সময়ের পর দেশ নতুন পথে এগোতে শুরু করেছে।
হুমায়ুন কবীর বলেন, বর্তমান বিশ্বব্যবস্থা দ্রুত বদলে যাচ্ছে। একক শক্তির আধিপত্য কমছে, বড় শক্তিগুলোর প্রতিযোগিতা বাড়ছে, প্রযুক্তি ও জলবায়ু পরিবর্তন বৈশ্বিক রাজনীতির কেন্দ্রীয় ইস্যু হয়ে উঠছে। এমন বাস্তবতায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিকে আরও কৌশলগত, পেশাদার ও নমনীয় হতে হবে।
অতীতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি অনেক সময় কৌশলগত না হয়ে প্রতিক্রিয়াশীল ছিল উল্লেখ করে হুমায়ুন কবির বলেন, গত প্রায় দুই দশকে দেশ একটি নির্দিষ্ট রাষ্ট্রের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। এতে কূটনৈতিক ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতাও পুরোপুরি কাজে লাগানো হয়নি।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, বিএনপি সরকারের পররাষ্ট্রনীতির তিনটি মূল দিক থাকবে—কোনো নির্দিষ্ট দেশকেন্দ্রিক নীতি নয়, বহুমুখী কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং পরিবর্তিত বাস্তবতায় নমনীয়তা। পররাষ্ট্রনীতি কখনো স্বল্পমেয়াদি বা সংকীর্ণ রাজনৈতিক বিবেচনায় পরিচালিত হতে পারে না। এটি হতে হবে জাতীয় স্বার্থনির্ভর, প্রাতিষ্ঠানিক ও পেশাদার।
দীর্ঘ বক্তব্যে নতুন সরকারের পররাষ্ট্রনীতির পাঁচটি প্রধান স্তম্ভ তুলে ধরেন হুমায়ুন কবীর। তিনি বলেন, সার্বভৌমত্ব ও কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের ভিত্তিতে বাংলাদেশ সবার সঙ্গে সম্পর্ক রাখবে, তবে কোনো দেশের ওপর নির্ভরশীল হবে না। পররাষ্ট্রনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে অর্থনৈতিক কূটনীতি ও বৈশ্বিক শক্তিগুলোর সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক। পাশাপাশি সার্ক ও বিমসটেককে সক্রিয় করে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, বাণিজ্য ও জ্বালানি সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হবে। জনগণকেন্দ্রিক কূটনীতির অংশ হিসেবে প্রবাসী শ্রমিক, শিক্ষার্থী ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের স্বার্থ রক্ষার কথাও বলেন তিনি।

বুধবার, ১৩ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ মে ২০২৬
প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেছেন, বিএনপির নেতৃত্বে যাত্রা শুরু করা নতুন সরকারের পররাষ্ট্রনীতির মূল লক্ষ্য হবে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ অর্থাৎ জাতীয় স্বার্থ ও উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া। তবে এর অর্থ কোনো ধরনের বিচ্ছিন্নতাবাদ নয়; বরং বিশ্বব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত থেকে দেশের স্বার্থকে এগিয়ে নেওয়া।
‘বাংলাদেশ ফার্স্ট: এ ফরেন পলিসি আউটলুক ফর এ নিউ বাংলাদেশ’ শীর্ষক নীতি আলোচনায় মূল বক্তব্যে এসব কথা বলেন হুমায়ুন কবির। আজ শনিবার বিকেল ৩টায় রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে এই আলোচনার আয়োজক শান্তি ও নিরাপত্তাবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজ (বিআইপিএসএস)।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টকে বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি ‘টার্নিং পয়েন্ট’ উল্লেখ করে হুমায়ুন কবির বলেন, ওই সময়ের পর দেশ নতুন পথে এগোতে শুরু করেছে।
হুমায়ুন কবীর বলেন, বর্তমান বিশ্বব্যবস্থা দ্রুত বদলে যাচ্ছে। একক শক্তির আধিপত্য কমছে, বড় শক্তিগুলোর প্রতিযোগিতা বাড়ছে, প্রযুক্তি ও জলবায়ু পরিবর্তন বৈশ্বিক রাজনীতির কেন্দ্রীয় ইস্যু হয়ে উঠছে। এমন বাস্তবতায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিকে আরও কৌশলগত, পেশাদার ও নমনীয় হতে হবে।
অতীতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি অনেক সময় কৌশলগত না হয়ে প্রতিক্রিয়াশীল ছিল উল্লেখ করে হুমায়ুন কবির বলেন, গত প্রায় দুই দশকে দেশ একটি নির্দিষ্ট রাষ্ট্রের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। এতে কূটনৈতিক ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতাও পুরোপুরি কাজে লাগানো হয়নি।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, বিএনপি সরকারের পররাষ্ট্রনীতির তিনটি মূল দিক থাকবে—কোনো নির্দিষ্ট দেশকেন্দ্রিক নীতি নয়, বহুমুখী কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং পরিবর্তিত বাস্তবতায় নমনীয়তা। পররাষ্ট্রনীতি কখনো স্বল্পমেয়াদি বা সংকীর্ণ রাজনৈতিক বিবেচনায় পরিচালিত হতে পারে না। এটি হতে হবে জাতীয় স্বার্থনির্ভর, প্রাতিষ্ঠানিক ও পেশাদার।
দীর্ঘ বক্তব্যে নতুন সরকারের পররাষ্ট্রনীতির পাঁচটি প্রধান স্তম্ভ তুলে ধরেন হুমায়ুন কবীর। তিনি বলেন, সার্বভৌমত্ব ও কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের ভিত্তিতে বাংলাদেশ সবার সঙ্গে সম্পর্ক রাখবে, তবে কোনো দেশের ওপর নির্ভরশীল হবে না। পররাষ্ট্রনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে অর্থনৈতিক কূটনীতি ও বৈশ্বিক শক্তিগুলোর সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক। পাশাপাশি সার্ক ও বিমসটেককে সক্রিয় করে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, বাণিজ্য ও জ্বালানি সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হবে। জনগণকেন্দ্রিক কূটনীতির অংশ হিসেবে প্রবাসী শ্রমিক, শিক্ষার্থী ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের স্বার্থ রক্ষার কথাও বলেন তিনি।

আপনার মতামত লিখুন