ইরান যুদ্ধে আমাদেরকে জড়ানোর অনুমতি কে দিল: ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে আল-হাবতুর
ছবিঃ সংগৃহীত

সংযুক্ত আরব আমিরাতের শীর্ষ ব্যবসায়ী খালাফ আহমদ আল-হাবতুর, যিনি হোটেল, বিলাসবহুল ভবন, শিক্ষা ও নির্মাণ খাতে বিশাল বিনিয়োগের মালিক এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বন্ধু, সম্প্রতি ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে একটি খোলা চিঠি লিখেছেন। চিঠিতে তিনি সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধে উপসাগরীয় দেশগুলোকে জড়ানোর অনুমতি কে দিয়েছে। তিনি ট্রাম্পকে সতর্ক করেছেন, যুদ্ধের সিদ্ধান্তের ফলে উপসাগরীয় দেশগুলোর রাজনীতি, অর্থনীতি এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা বিপন্ন হতে পারে।


চিঠিতে আল-হাবতুর লিখেছেন, যুদ্ধের প্রভাব শুধু আমিরাতে সীমাবদ্ধ নেই, বরং আশপাশের দেশগুলোর ওপরও প্রভাব ফেলছে। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, যুদ্ধের আগে কি ট্রাম্প মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতির হিসাব নিয়েছিলেন, এবং যদি যুদ্ধ বিস্তৃত হয়, প্রথমে পুড়ে মরবে উপসাগরীয় দেশগুলো। আল-হাবতুরের মতে, এই অঞ্চলের জনগণ প্রশ্ন করার অধিকার রাখে, যুদ্ধ কি ট্রাম্পের একার সিদ্ধান্ত ছিল, নাকি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও তার সরকারের চাপের ফল।


বর্তমান যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাবও ভয়ঙ্কর। হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বিশ্বের তেলের প্রায় ২০ শতাংশ সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। কাতার ইতিমধ্যেই চুক্তিভিত্তিক গ্যাস সরবরাহ বজায় রাখতে পারবে না এবং সৌদি আরব তাদের তেল উৎপাদন কমিয়েছে। ফলে তেলের দাম দ্রুত ব্যারেলপ্রতি ১৫০ ডলারের ওপরে পৌঁছাতে পারে। চীন, ভারত ও জাপানসহ বিশ্বের দেশগুলো জ্বালানি সংকটে পড়বে, উৎপাদন খাত ও কৃষিক্ষেত্রে ক্ষতি হবে এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার ঝুঁকি তৈরি হবে।


উপসাগরের দেশগুলোর জাতীয় সম্পদ তহবিল প্রায় চার লাখ কোটি ডলার, যার একটি বড় অংশ যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ করা আছে। যুদ্ধ বা অর্থনৈতিক সংকটের কারণে এই তহবিলের ওপরও প্রভাব পড়বে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, উপসাগরের চার দেশের এই বিনিয়োগের প্রায় দুই লাখ কোটি ডলার যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছে। যদি এসব গুটিয়ে নেওয়া হয়, মার্কিন পুঁজিবাজারে তা প্রভাব ফেলবে এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা ভেঙে পড়বে।


আল-হাবতুরের মতে, ট্রাম্পের শান্তির উদ্যোগ ‘বোর্ড অব পিস’ ঘোষণা করার আগেই যুদ্ধ বাঁধানো হয়েছে। তিনি লিখেছেন, প্রকৃত নেতৃত্ব ধরা পড়ে প্রজ্ঞা, অন্যের প্রতি শ্রদ্ধা এবং শান্তি অন্বেষণে; যুদ্ধের সিদ্ধান্ত এই মানদণ্ডে দাঁড়ায় না। ব্যবসায়ী ও শাসকরা সাধারণত মুখ খোলেন না, কিন্তু যুদ্ধের কারণে উপসাগরীয় দেশের স্বার্থ বিপন্ন হওয়ায় আল-হাবতুর মুখ খুলেছেন।


মার্কিন প্রেসিডেন্ট ফ্লোরিডায় এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, যুদ্ধ শেষ হয়েছে। তবে একই সঙ্গে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, “আমি ইরানের ওপর এমন আঘাত করব যে তাদের টিকে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়বে।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুদ্ধে যাওয়ার পথ সহজ হলেও বের হওয়া মোটেই সহজ নয়। ট্রাম্পের পরিকল্পনায় যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলেও দ্রুত সমাধান নেই।


উপসংহারে, আল-হাবতুরের খোলা চিঠি শুধু ট্রাম্পকে সতর্ক করছে না, বরং উপসাগরীয় দেশগুলোর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থের জন্যও গুরুতর সংকেত বহন করছে। যুদ্ধের দীর্ঘায়িত প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, পুরো বিশ্ব অর্থনীতিকেও প্রভাবিত করতে পারে।