বিপ্লবী বার্তা
ভারতের সাবেক রেলমন্ত্রী, সাবেক জাহাজ প্রতিমন্ত্রী এবং পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা মুকুল রায় মারা গেছেন। স্থানীয় সময় রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর। তার মৃত্যুতে রাজনৈতিক মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রায় দুবছর ধরে তিনি হাসপালে ভর্তি ছিলেন। তিনিএকমাত্র পুত্র, পুত্রবধূ, নাতি-নাতনি, আত্মীয় ও গুণগ্রাহীদের রেখে গেছেন।
তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই রাজ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা শোক প্রকাশ করেছেন। মুকুলের পৈতৃক ভিটা উত্তর ২৪ পরগনা জেলার কাঁচরাপাড়ার ৫৩ ঘটক রোডে বাড়ির সামনে জমায়েত হন দলের কর্মী, সমর্থকরা।
এদিকে বাবার মৃত্যুর খবর শুনে সোমবার সকালে হাসপাতালে ছুটে যান মুকুলের পুত্র ও তৃণমূল কংগ্রেসের কাউন্সিলর শুভ্রাংশু রায়। হাসপাতালে যাওয়ার আগে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, রোববার রাত দেড়টার দিকে হৃদরোগে আক্রান্ত হন, তারপর আর ফিরে আসেননি। প্রায় দুই বছর হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর।
শুভ্রাংশু রায় বলেন, বাবার মৃত্যুতে দলের বা অন্য কারও কি ক্ষতি হলো জানিনা তবে আমার মাথার ওপর থেকে ছাদ উড়ে গেল।
১৯৯৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন যুব কংগ্রেস নেত্রী মমতা ব্যানার্জীর হাত ধরে কংগ্রেস ছেড়ে বেরিয়ে আসেন এবং তৃণমূল কংগ্রেস নামে নতুন একটি দল গঠনে বড় ভূমিকা রাখেন মুকুল রায়। এরপর দীর্ঘ লড়াই আন্দোলন শেষে ২০১১ সালে দীর্ঘ ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসে তৃণমূল কংগ্রেস এবং মুখ্যমন্ত্রী হন মমতা ব্যানার্জী। তবে মন্ত্রিসভায় জায়গা না পেলেও দলকে সাংগঠনিক ভাবে শক্তিশালী করতে মূল দায়িত্ব দেওয়া হয় মুকুল রায়ের হাতেই।
রাজ্যজুড়ে দলকে চাঙ্গা করেন তিনি। একটা সময় দলের সেকেন্ড-ইন কমান্ড হয়ে উঠেছিলেন মুকুল রায়। ২০০৬ সালে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় তাকে। ২০০৬ সালে রাজ্যসভার সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ মুকুল রায় মনোমালিন্যের কারণে ২০১৭ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর তৃণমূল কংগ্রেস ছাড়েন। পরবর্তীতে বিজেপিতে যোগদান করেন। এরপর দল বিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে দল থেকে ছয় বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয় তাকে। ২০১৭ সালের অক্টোবরে রাজ্যসভার সংসদ সদস্যের পদ থেকেও ইস্তফা দেন মুকুল।
গত ২০২১ সালের এপ্রিল-মে মাসে অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাও করেছিলেন এবং কৃষ্ণনগর উত্তর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে বিজয়ী হয়েছিলেন তিনি। যদিও নির্বাচনের কয়েক মাস পরেই মমতা ব্যানার্জীর হাত ধরেই ফের তৃণমূল কংগ্রেসের ফিরে যান মুকুল রায়। এমনকি তার ছেলে তৃণমূলের সাবেক বিধায়ক শুভ্রাংশু রায় একটা সময় বাবার পথ অনুসরণ করে তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বেরিয়ে বিজেপিতে যোগদান করেন। পরে ফের বাবার হাত ধরে তৃণমূল কংগ্রেসের ফিরে আসেন শুভ্রাংশু।

