বৈষম্যহীন রাষ্ট্র বিনির্মাণে বিএনপির পক্ষে ভোট চাইলেন জাবি শিক্ষকরা
ছবিঃ বিপ্লবীবার্তা

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বৈষম্যহীন ও মানবিক রাষ্ট্র বিনির্মাণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের নেতারা। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে শিক্ষক নেতারা এই আহ্বান জানান।


​বিবৃতিতে শিক্ষকরা বলেন, 'গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রচিন্তা, নাগরিক অধিকার এবং প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহির প্রশ্নে বাংলাদেশ আজ এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে।' সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও দীর্ঘদিনের শাসনসংকটের প্রেক্ষাপটে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে তাঁরা কেবল একটি নিয়মিত নির্বাচন নয়, বরং গণতন্ত্র পুনর্গঠন ও রাষ্ট্রকাঠামো সংস্কারের এক ঐতিহাসিক সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।


​বিবৃতিতে বিএনপির ঘোষিত ‘রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের ৩১ দফা’ এবং ‘নির্বাচনী ইশতেহার ২০২৬’ এর প্রশংসা করে বলা হয়, এতে একটি সুসংহত, বাস্তবসম্মত ও নীতিষ্ঠ রূপরেখা উপস্থাপিত হয়েছে, যা বর্তমান রাষ্ট্রসংকট উত্তরণে কার্যকর দিকনির্দেশনা দিতে সক্ষম। ৩১ দফায় প্রস্তাবিত নিরপেক্ষ নির্বাচনব্যবস্থা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের শক্তিশালীকরণের বিষয়গুলো আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মৌলিক শর্ত বলে মনে করেন তারা।


​শিক্ষকরা আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে তাঁরা বিশ্বাস করেন, একটি রাষ্ট্রের টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি গড়ে ওঠে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, মুক্তচিন্তা ও গবেষণার ওপর। বিএনপির প্রস্তাবিত নীতিমালায় শিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশ পুনরুদ্ধার এবং মেধাভিত্তিক প্রশাসন নিশ্চিত করার যে অঙ্গীকার রয়েছে, তা একাডেমিক সমাজের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।


​গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে দেশবাসীকে বিএনপিকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে সচেতন ভোটারদের সক্রিয় অংশগ্রহণের কামনা করেন শিক্ষক নেতারা।


​জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের পক্ষে বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন অধ্যাপক ড. সৈয়দ মোহাম্মদ কামরুল আহছান, অধ্যাপক ড. মাহবুব কবির, অধ্যাপক ড. মো. এনামউল্যা, অধ্যাপক ড. এম. নজরুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. মো. সোহেল রানা, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. আইরীন আক্তার, অধ্যাপক ড. খন্দকার মোহাম্মদ শরিফুল হুদা, অধ্যাপক ড. মো. শামছুল আলম, অধ্যাপক ড. শামীমা সুলতানা, অধ্যাপক ড. নাহরিন ইসলাম খান প্রমুখ।