শীতের আমেজ শেষ হতে না হতেই বাজারে দেখা মেলে লাল ও লালচে রঙের পাকা বরইয়ের। কাঁচা বরই লবণ-মরিচ দিয়ে খাওয়ার মজাই আলাদা, তবে এর চাটনি বা আচার সংরক্ষণ করে খাওয়া যায় অনেক দিন। চলুন দেখে নিই বিস্তারিত রেসিপিটি।
উপকরণ:
পাকা বরই: ৫০০ গ্রাম (শুকনা বা একদম পাকা ডাঁসা বরই ভালো হয়)
সরিষার তেল: ২-৩ টেবিল চামচ
সাদা সরিষা: আধা চা চামচ (ফোড়নের জন্য)
শুকনা মরিচ: ৩-৪টি (টুকরো করে নেওয়া)
চিনি বা গুড়: স্বাদমতো (গুড় দিলে রঙ ও স্বাদ বেশি ভালো হয়)
জিরা গুঁড়া (ভাজা): ১ চা চামচ
হলুদ গুঁড়া: আধা চা চামচ
মৌরি বা পাঁচফোড়ন গুঁড়া: সামান্য (সুন্দর ঘ্রাণের জন্য, ঐচ্ছিক)
লবণ: স্বাদমতো
পানি: পরিমাণমতো
প্রস্তুত প্রণালী:
১. বরই প্রস্তুত করা: প্রথমে বরইগুলো ভালো করে ধুয়ে বোটা ছাড়িয়ে নিন। এবার হাত দিয়ে হালকা করে চেপে বা চাকু দিয়ে সামান্য চিরে দিন, যাতে মশলা ও মিষ্টি ভেতরে ভালোভাবে ঢুকতে পারে।
২. মশলা ও তেলের ব্যবহার: চুলায় একটি কড়াই বসিয়ে তাতে সরিষার তেল গরম করুন। তেল গরম হলে এতে শুকনো মরিচের ফালি এবং সাদা সরিষা ফোড়ন দিন। সরিষা ফুটতে শুরু করলে চমৎকার একটি ঘ্রাণ বের হবে।
৩. বরই কষানো: এবার কড়াইয়ে বরইগুলো দিয়ে দিন। এতে পরিমাণমতো লবণ ও হলুদ গুঁড়া দিয়ে ২-৩ মিনিট মাঝারি আঁচে নাড়াচাড়া করুন।
৪. জ্বাল দেওয়া: বরইগুলো সামান্য নরম হয়ে এলে এতে আধা কাপ পরিমাণ পানি দিন। পানি ফুটে উঠলে চুলার আঁচ কমিয়ে ঢাকনা দিয়ে ঢেকে দিন ৫ মিনিটের জন্য। এতে বরইগুলো সেদ্ধ হয়ে ফুলে উঠবে।
৫. মিষ্টি ও মশলা যোগ করা: এবার ঢাকনা খুলে তাতে স্বাদমতো চিনি বা গুড় মিশিয়ে দিন। গুড় গলে গিয়ে বরইয়ের সাথে মিশে যখন ঘন হয়ে আসবে, তখন উপর থেকে ভাজা জিরা গুঁড়া ছিটিয়ে দিন। (যদি ঝাল বেশি পছন্দ করেন, তবে সামান্য চিলি ফ্লেক্স বা শুকনা মরিচ ভাজা গুঁড়াও দিতে পারেন)।
৬. ফিনিশিং টাচ: চাটনিটি ঘন হয়ে আঠালো ভাব এলে নামিয়ে নিন। মনে রাখবেন, ঠান্ডা হওয়ার পর এটি আরও কিছুটা ঘন হয়ে যাবে।

