আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে সীমান্তে বিএসএফের সড়ক নির্মাণ; বিজিবি-বিএসএফের পতাকা বৈঠক
ছবিঃ বিপ্লবী বার্তা

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী সীমান্তে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে বিএসএফের সড়ক নির্মাণকে কেন্দ্র করে বিজিবি-বিএসএফের অধিনায়ক পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।


সোমবার (১২ জানুয়ারী) বিকাল ৩টা ৪০ মিনিটে খলিশাকোঠাল সীমান্তের আন্তর্জাতিক মেইন পিলার নং ৯৩৪ এর সাব পিলার ১ এসের পাশে লালমনিরহাট-১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লে: কর্নেল মেহেদী ইমাম ও  ভারতের ০৩ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক কে.কে.রাও এর মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।


এই ২০ মিনিটের পতাকা বৈঠক লালমনিরহাট-১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লে: কর্নেল মেহেদী ইমামের নেতৃত্বে শিমুলবাড়ী কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার নরেশ চন্দ্র রায়, বালারহাট ক্যাম্প কমান্ডার তায়েজ উদ্দিন ও একজন স্টাফ অফিসারসহ বিজিবির পাঁচ সদস্য এবং ভারতের ০৩ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক কে.কে.রাও এর নেতৃত্বে মেঘ নারায়ণ কুটিরটির কোম্পানি কমান্ডার এসি সুনীল কুমারসহ বিএসএফের পাঁচ সদস্য উপস্থিত ছিলেন। 


বৈঠক শেষে লালমনিরহাট-১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেনেন্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম জানান, ৭  ও ৮ জানুয়ারী বিএসএফ কর্তৃক একটি সড়ক নির্মাণ শুরু করায় দুই দফায় পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ১৩ তারিখের বৈঠক ঘটনার প্রয়োজনে সোমবার (১২ তারিখ) বিকালে পতাকা বৈঠক করা হয়েছে। মুলত ভারতর  অংশে পাকা সড়কটি ব্রিটিশ পিরিয়ডের। তারা ওই সড়কটি মেরামত করছে এবং সেখানে নতুন করে সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে না বলে বিএসএফ জানিয়েছেন। কোন ক্রমে ওই সড়কটি প্রসস্ত করবে না। বিএসএফ সড়কটি প্রস্তস্থ করেছে কি না।


খুব দ্রুত সময়ে বিজিবির পক্ষ থেকে একটি জয়েন্ট টিম পরিদর্শন করবে। পরিদর্শন যাওয়ার আগে বিএসএফ টিঠি দিয়ে জানে। এরপর বিজিবির পক্ষ থেকে একটি পরিদর্শন টিম গিয়ে সেখানকার সত্যতা যাচাই করবে। বিএসএফ সড়কের মেরামতের কাজ এখনো চালিয়ে যাচ্ছে এমন প্রশ্ন করা হলে অধিননায়ক জানান৷ মেরামতের কাজটা করতে পারবে। তবে নতুন করে সড়ক নির্মাণের কাজ, নতুন করে কোন পিলার ও ল্যাম্প পোষ্ট স্থাপনসহ সড়কটি উঁচুও করতে পাবেন না। বিজিবির পক্ষ থেকে বার বার এই বিষয় গুলি সম্পূর্ণ তুলে ধরা হয়েছে। বিএসএফও বার বার বলছে আমরা শুধু সড়কের মেরামতের কাজ করছি। তিনি আরও জানান খুব দ্রুত বিজিবি ও বিএসএফের পত্র প্রেরণের মাধ্যমে বিজিবির একটি টিম সড়কটি সড়কটি করতে পারবে। বর্তমানে ওই সীমান্তে বিজিবির টহল জোড়দার করা হয়েছে এবং সীমান্তে সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।


এর আগে ৭ ও ৮ জানুয়ারী খলিশাকোটাল সীমান্তের আন্তর্জাতিক সীমানা পিলার ৯৩৪ এর ১ নং সাব পিলার থেকে ১১ নং সাব পিলার পর্যন্ত প্রায় ১ কিলোমিটার জায়গা কোচবিহার জেলার সাহেবগঞ্জ থানার করলা এলাকায় কুর্শাহাট-টু-দিনহাটা যাওয়ার প্রধান সড়ক। সীমান্তঘেষা ভারতীয় এই সড়কটির ১ কিলোমিটার জায়গা শুন্য লাইন থেকে কোথাও ৭০ গজ, কোথাও ৫০-৬০ গজ আবার কোথাও ১০০ থেকে ১২০ গজের মধ্যে অবস্থিত। আন্তর্জাতিক সীমানা আইন অনুযায়ী শুন্য লাইন থেকে উভয় দেশের ১৫০ গজের মধ্যে কোন প্রকার পাকা স্থাপনা নির্মানের নিয়ম নেই। কিন্তু সেই আইন অমান্য করে বিএসএফ পাকা সড়ক নির্মাণ কাজ শুরু করে। এনিয়ে বিজিবি- বিএসএফের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। দফায় দফায় পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় এবং স্থানীয় জনগন লাঠিসোঁটা নিয়ে বিজিবির সাথে অবস্থান নেয়।