ছবিঃ বিপ্লবী বার্তা
কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্তে এক খামারীর গরু ভারত থেকে পাচার করে আনার অভিযোগে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যরা আটক করার চেষ্টা করলে এলাকাবাসীর সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে আহত হয়েছেন আঁখি মনিসহ দু’জন। শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলা চরশৌলমারী ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী চর ইটালুকান্দা এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার চরশৌলমারী ইউনিয়নের চর ইটালুকান্দা এলাকায় এসে শুকুর আলী নামের এক ব্যক্তির পালিত পাঁচটি গরু ভারতীয় বলে আটক করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন বিজিবির ৩৫ জামালপুর ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ সাহেবের আলগা বিজিবি ক্যাম্পের হাবিলদার আলিয়ার হোসেনসহ দু’জন সদস্য।
এ সময় বিজিবিকে বাধা দেয় গরুর মালিকসহ এলাকাবাসী। এক পর্যায়ে বিজিবি ও এলাকাবাসীর মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়াসহ সংঘর্ষ হয়।
এ ঘটনায় বিজিবির মারধরের শিকার হয়ে আহত হয়েছেন আখি মনি নামের এক নারী। পরে তাকে উদ্ধার করে কুড়িগ্রাম সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় বিরাজ করছে আতঙ্ক।
গরুর মালিক শুকুর আলীর স্ত্রী জয়গুন বেগম অভিযোগ করে জানান, কারও মিথ্যা তথ্য শুনে আমার পালিত পাঁচটি গরু ভারতীয় বলে দাবি করে বাড়িতে এসে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন ক্যাম্পের বিজিবি সদস্যরা।
পরে আমার পরিবারের সদস্যসহ এলাকাবাসী বাধা দিলে আমার বড় মেয়ে আঁখি মনিকে আঘাত করে বিজিবি। এ ছাড়াও ছোট মেয়ে স্কুল শিক্ষার্থী শ্যামলী আক্তারকেও আঘাত করেন তারা।
চরশৌলমারী ইউনিয়ন পরিষদের এক নম্বর ওয়ার্ড সদস্য রেজাউল ইসলাম বলেন, ভারতীয় গরু সন্দেহে বিজিবি ও এলাকাবাসীর মধ্যে ভারতীয় গরু সন্দেহে সংঘর্ষ হয়েছে, তা সত্য। তবে গরুগুলো ভারতীয় নয় এবং তারা চোরাকাবারির সঙ্গে জড়িত ছিলেন না।
গরু ধরা নিয়ে বিজিবি ও এলাকাবাসীর মধ্যে সংঘর্ষের খবর শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সাহেবের আলগা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোজাফ্ফর হোসেন।
ঘটনাটি জানতে মোবাইল ফোনে কল করা হয় সাহেবের আলগা বিজিবি ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার মোনায়েমকে। তিনি বলেন, এ ঘটনার সময় আপনাদের এক স্থানীয় সাংবাদিক আসছিলেন। আপনি তার কাছে শুনেন। এসব ঘটনা মোবাইলে বলতে পারবেন না বলে কলটি কেটে দেন তিনি। পরে কথা হয় ওই স্থানীয় সাংবাদিকের সঙ্গে। তিনি জানান, এ ঘটনায় বিজিবির কোনো সদস্য আহত হয়নি। তবে বিজিবির সদস্যের জামা (পোশাক) ধরে টানাটানি করে ছিঁড়ে ফেলেছে। এমন কিছু ঘটেনি। তাই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে না বলে তাকে জানিয়েছেন বিজিবির ওই কোম্পানি কমান্ডার।

