ছবিঃ বিপ্লবী বার্তা
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা উপলক্ষে আগত পরীক্ষার্থীদের জন্য মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদ (একাংশ)। ভর্তি পরীক্ষার প্রথম দিন গত ২১ ডিসেম্বর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য ও সহায়তা কেন্দ্রে এ প্রদর্শনী শুরু হয়েছে।
আয়োজকেরা জানান, পাঁচ দিনব্যাপী এ প্রদর্শনীতে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন বিভিন্ন দেশি–বিদেশি পত্রপত্রিকার প্রচ্ছদ, কিশোর ও নারী মুক্তিযোদ্ধাদের ছবি, গণহত্যার চিত্র এবং রাজাকারদের তালিকাসহ মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক নানা দুর্লভ আলোকচিত্র স্থান পেয়েছে। তরুণ প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের তাৎপর্য তুলে ধরতেই এ আয়োজন করা হয়েছে।
প্রদর্শনীর বিষয়ে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের সাংগঠনিক সম্পাদক মাইশা মনি বলেন, “আমাদের এই আলোকচিত্র প্রদর্শনীটা শুরু হয়েছে যেদিন ভর্তি পরীক্ষা প্রথম শুরু হলো ওদিন থেকেই। প্রতিদিনই এই প্রদর্শনীটা চলছে। আমাদের প্রদর্শনীটা শেষ হবে ২৮ তারিখের দিকে। বর্তমানে আমরা যে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে হচ্ছে ধারণ করি, এই বিষয়টা তুলে ধরার জন্যই হচ্ছে এক্সিবিশন। মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর থেকে কিছু আলোকচিত্র হচ্ছে আমাদের অনেক বছর আগেই পাঠানো হয়েছিল। তো এটা হচ্ছে আমাদের নিজস্ব ডকুমেন্ট।”
প্রদর্শনীর বিষয়বস্তু সম্পর্কে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক ফাইজান আহমেদ বলেন, “আমাদের এক্সিবিশনের থিম হচ্ছে '৭১। '৭১ এ মুক্তিযোদ্ধা এবং '৭১ এ যে রাজাকার বাহিনী থেকে শুরু করে হানাদারদের যে দমন, পীড়ন, নিপীড়ন সেটা। এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠী থেকে শুরু করে সকল প্ল্যাটফর্ম বা সকল জায়গার যে মানুষের স্বতঃস্ফূর্তভাবে ৭১ কে ওউন করা এবং ৭১ এ মুক্তিযুদ্ধ করা। যেহেতু এটা বিজয় দিবস, আমরা বিজয় দিবস থিমে এই ফটো এক্সিবিশনটা বা আলোকচিত্র প্রদর্শনীটা করে থাকছি।”
একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ ও চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের সম্পর্ক নিয়ে ফাইজান আহমেদ বলেন, “২৪ আর ৭১ কে কোনো সময়ই সামনাসামনি বা 'ভার্সেস' করা যাবে না। এটা কোনো বিরোধিতা নয়, কারণ এদের মধ্যে একটি সম্পর্ক আছে। অনেকে যেটা করে ৭১ কে বেশি ওউন করে বা ২৪ কে কম ওউন করে, বা ২৪ কে বেশি ওউন করে ৭১ কে কম ওউন করে। এদের অবশ্যই কোনো না কোনো ধরনের মদদপুষ্টতা বা এদের কোনো না কোনো ধরনের মকসদ আছে।”
তিনি আরও বলেন, “আপনি যদি ২৪ কে ত্যাগ করে শুধুমাত্র ৭১ নিয়ে থাকেন, তখন আপনার একটা জিনিস বুঝতে হবে যে এরা ৭১ কে বিক্রি করা সেই গোষ্ঠী। আবার যারা ৭১ কে ডিনাই করে ২৪ কে নিয়ে কথা বলে, তাদের উদ্দেশ্য এবং তাদের পলিটিক্যাল এজেন্ডা শুধু ২৪ কেই বিক্রি করা। আপনি যদি বাংলাদেশের নাগরিক হয়ে থাকেন এবং আপনি যদি কোনো ক্যাম্পাসের বা কোনো জায়গায় সচেতন শিক্ষার্থী হয়ে থাকেন কোনো সুযোগই নেই ৭১ কে ডিনাই করে ২৪ কে বড় করা বা ২৪ কে ডিনাই করে ৭১ কে বড় করা। দুইটাকেই আপনার সেইম পার্সপেক্টিভে মাপতে হবে।”

