জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) আধুনিকায়ন করা মেডিকেল সেন্টার ও নতুন ল্যাব উদ্বোধনের এক মাস পেরিয়ে গেলেও শিক্ষার্থীরা এখনো এর পূর্ণাঙ্গ সেবা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। উদ্বোধনের পর থেকেই বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালুর কথা থাকলেও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে সেগুলো এখনো পুরোপুরি চালু হয়নি বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
গত ২ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে আধুনিকায়ন করা ল্যাব ও নতুন চিকিৎসা সরঞ্জামের উদ্বোধন করা হয়। শিক্ষার্থীদের চিকিৎসাসেবা আরও সহজলভ্য ও কার্যকর করতে জকসুর উদ্যোগে মেডিকেল সেন্টারে ১৩টি আধুনিক চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার যন্ত্র যুক্ত করা হয়।
আধুনিকায়নের এক মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো কোন ধরনের সেবা পাচ্ছেন না শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, এমন মেডিকেল সেন্টার উদ্বোধন হয়ে কি হবে যেখানে কোন সেবা পাওয়া যায় না।
জকসুর স্বাস্থ্য ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক নূর মোহাম্মদ বলেন, “শিক্ষার্থীদের সেবার মান বাড়াতে জকসুর মাধ্যমে মেডিকেল সেন্টারে ৫০ লক্ষ টাকার অ্যাম্বুলেন্স ও সরঞ্জাম হস্তান্তর করা হলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন টেস্টগুলো চালু করতে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।”
তিনি আরও বলেন, “বর্তমানে পুরো প্রক্রিয়াটি—যেমন অনলাইন পেমেন্ট, রিপোর্ট ও প্রেসক্রিপশন সরাসরি পোর্টালে পাওয়ার সুবিধা ডিজিটালাইজ করার কাজ চলছে, যা শেষ হতে ১০ থেকে ১৫ দিন সময় লাগতে পারে। কিন্তু আমরা বারবার বলা সত্ত্বেও প্রশাসন ডিজিটালাইজেশন শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা না করে এখনই টেস্ট চালু করতে পারে।”
জকসুর ভিপি মো. রিয়াজুল ইসলাম বলেন, “মেডিকেল সেন্টারে আমরা আমাদের জায়গা থেকে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছি। শিক্ষার্থীরা যেন সার্বিকভাবে চিকিৎসা সুবিধা পায়, সে জন্য ৩০টিরও বেশি পরীক্ষা-নিরীক্ষা (টেস্ট) করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। মেডিকেল সেন্টার উদ্বোধনের পর পরই আমাদের সব প্রস্তুতি শেষ হলেও আমরা প্রশাসনিক জটিলতার মধ্যে আছি; প্রশাসন এখনও টেস্ট শুরু করার অনুমতি দেয়নি।”
তিনি বলেন, “কবে নাগাদ শিক্ষার্থীরা সেবা পাবে, সে বিষয়ে এই মুহূর্তে আমার অবস্থান থেকে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা নিশ্চিত করা বেশ কঠিন। কারণ, প্রশাসন থেকে কখনো এক সপ্তাহ, কখনো ১০ দিন, আবার কখনো ২০ দিনের কথা বলা হচ্ছে। এভাবে ক্রমাগত বিষয়টি পিছিয়ে যাচ্ছে, যার ফলে সুনির্দিষ্ট কোনো তারিখ বা তথ্য দেওয়া আমার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। তবে আমাদের পক্ষ থেকে সার্বিক প্রস্তুতি সম্পূর্ণ রয়েছে; প্রশাসন থেকে অনুমোদন পাওয়ার সাথে সাথেই আমরা সেবা প্রদান কার্যক্রম শুরু করতে পারব।”
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইস উদ্দিনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এর আগে গত ১৫ সেপ্টেম্বর মেডিকেল সেন্টারের ডায়াগনস্টিক সেবা চালু ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সেবার পরিধি, পরীক্ষার মূল্য নির্ধারণ ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা এবং পরিচালনা-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা, দ্রুত প্রশাসনিক জটিলতা নিরসন করে মেডিকেল সেন্টারের সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও সংশ্লিষ্ট সেবা নিয়মিতভাবে চালু করা হবে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও ডায়াগনস্টিক সুবিধা পাওয়ার সুযোগ পাবেন।

রোববার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ অক্টোবর ২০২৬
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) আধুনিকায়ন করা মেডিকেল সেন্টার ও নতুন ল্যাব উদ্বোধনের এক মাস পেরিয়ে গেলেও শিক্ষার্থীরা এখনো এর পূর্ণাঙ্গ সেবা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। উদ্বোধনের পর থেকেই বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালুর কথা থাকলেও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে সেগুলো এখনো পুরোপুরি চালু হয়নি বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
গত ২ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে আধুনিকায়ন করা ল্যাব ও নতুন চিকিৎসা সরঞ্জামের উদ্বোধন করা হয়। শিক্ষার্থীদের চিকিৎসাসেবা আরও সহজলভ্য ও কার্যকর করতে জকসুর উদ্যোগে মেডিকেল সেন্টারে ১৩টি আধুনিক চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার যন্ত্র যুক্ত করা হয়।
আধুনিকায়নের এক মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো কোন ধরনের সেবা পাচ্ছেন না শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, এমন মেডিকেল সেন্টার উদ্বোধন হয়ে কি হবে যেখানে কোন সেবা পাওয়া যায় না।
জকসুর স্বাস্থ্য ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক নূর মোহাম্মদ বলেন, “শিক্ষার্থীদের সেবার মান বাড়াতে জকসুর মাধ্যমে মেডিকেল সেন্টারে ৫০ লক্ষ টাকার অ্যাম্বুলেন্স ও সরঞ্জাম হস্তান্তর করা হলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন টেস্টগুলো চালু করতে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।”
তিনি আরও বলেন, “বর্তমানে পুরো প্রক্রিয়াটি—যেমন অনলাইন পেমেন্ট, রিপোর্ট ও প্রেসক্রিপশন সরাসরি পোর্টালে পাওয়ার সুবিধা ডিজিটালাইজ করার কাজ চলছে, যা শেষ হতে ১০ থেকে ১৫ দিন সময় লাগতে পারে। কিন্তু আমরা বারবার বলা সত্ত্বেও প্রশাসন ডিজিটালাইজেশন শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা না করে এখনই টেস্ট চালু করতে পারে।”
জকসুর ভিপি মো. রিয়াজুল ইসলাম বলেন, “মেডিকেল সেন্টারে আমরা আমাদের জায়গা থেকে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছি। শিক্ষার্থীরা যেন সার্বিকভাবে চিকিৎসা সুবিধা পায়, সে জন্য ৩০টিরও বেশি পরীক্ষা-নিরীক্ষা (টেস্ট) করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। মেডিকেল সেন্টার উদ্বোধনের পর পরই আমাদের সব প্রস্তুতি শেষ হলেও আমরা প্রশাসনিক জটিলতার মধ্যে আছি; প্রশাসন এখনও টেস্ট শুরু করার অনুমতি দেয়নি।”
তিনি বলেন, “কবে নাগাদ শিক্ষার্থীরা সেবা পাবে, সে বিষয়ে এই মুহূর্তে আমার অবস্থান থেকে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা নিশ্চিত করা বেশ কঠিন। কারণ, প্রশাসন থেকে কখনো এক সপ্তাহ, কখনো ১০ দিন, আবার কখনো ২০ দিনের কথা বলা হচ্ছে। এভাবে ক্রমাগত বিষয়টি পিছিয়ে যাচ্ছে, যার ফলে সুনির্দিষ্ট কোনো তারিখ বা তথ্য দেওয়া আমার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। তবে আমাদের পক্ষ থেকে সার্বিক প্রস্তুতি সম্পূর্ণ রয়েছে; প্রশাসন থেকে অনুমোদন পাওয়ার সাথে সাথেই আমরা সেবা প্রদান কার্যক্রম শুরু করতে পারব।”
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইস উদ্দিনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এর আগে গত ১৫ সেপ্টেম্বর মেডিকেল সেন্টারের ডায়াগনস্টিক সেবা চালু ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সেবার পরিধি, পরীক্ষার মূল্য নির্ধারণ ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা এবং পরিচালনা-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা, দ্রুত প্রশাসনিক জটিলতা নিরসন করে মেডিকেল সেন্টারের সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও সংশ্লিষ্ট সেবা নিয়মিতভাবে চালু করা হবে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও ডায়াগনস্টিক সুবিধা পাওয়ার সুযোগ পাবেন।

আপনার মতামত লিখুন