জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) নির্বাচন-২০২৫ এ সংঘটিত অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অবিলম্বে পরবর্তী নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদ।
আজ বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. নুরুল ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এ দাবিতে স্মারকলিপি দিয়েছেন সংগঠনটির নেতা-কর্মীরা।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, দীর্ঘ ৩৩ বছর পর অনুষ্ঠিত জাকসু নির্বাচন শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ তৈরি করলেও নির্বাচন প্রক্রিয়ায় সংঘটিত অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও পক্ষপাতিত্ব এর গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে নির্বাচন চলাকালে অদৃশ্য চাপ, রাজনৈতিক সমীকরণ ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত না জানানোর অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনের দুই সদস্য অধ্যাপক মাফরুহী সাত্তার ও ড. রেজওয়ানা করিম স্নিগ্ধার পদত্যাগের ঘটনা এই প্রশ্নগুলোকে আরও জোরালো করেছে।
নির্বাচনের বিভিন্ন অনিয়ম তুলে ধরে স্মারকলিপিতে ত্রুটিপূর্ণ ভোটার তালিকা, ডোপ টেস্ট নিয়ে অসঙ্গতি, অমোচনীয় কালির দাগ উঠে গিয়ে জাল ভোটের শঙ্কা এবং অতিরিক্ত ব্যালট পেপার সরবরাহের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত চাওয়া হয়। এতে ভিপি প্রার্থী অমর্ত্য রায়ের প্রার্থিতা বাতিলের প্রক্রিয়া, ব্যালট ছাপানো নিয়ে প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য এবং আদালতের আদেশ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতার বিষয়টি খতিয়ে দেখার দাবি জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া নির্ধারিত সময়ের পর ভোট গ্রহণ, ওএমআর পদ্ধতির বদলে ম্যানুয়াল গণনায় ৪৮ ঘণ্টা পর ফলাফল প্রকাশ এবং আটটি প্যানেলের মধ্যে পাঁচটি প্যানেলের নির্বাচন বর্জনের ঘটনাগুলোও তদন্তের আওতায় আনার কথা বলা হয়।
নির্বাচন-পরবর্তী তদন্ত কমিটির নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ছাত্র ইউনিয়নের পক্ষ থেকে বলা হয়, নির্বাচন প্রক্রিয়ার সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত ব্যক্তিদের তদন্ত কমিটিতে রাখায় স্বার্থের সংঘাত সৃষ্টি হয়েছে। তাই একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে আগের কমিটির কার্যক্রম পুনর্মূল্যায়ন করতে হবে। একই সঙ্গে নির্বাচনের বাজেট ও ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশ এবং নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের সময় শিক্ষক জান্নাতুল ফেরদৌসের অকালমৃত্যুর সঙ্গে প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনার সম্পর্ক অনুসন্ধানের দাবি জানানো হয়।
স্মারকলিপিতে সংগঠনটি আরও উল্লেখ করে, দীর্ঘ অপেক্ষার পর অনুষ্ঠিত নির্বাচন অনিয়মে প্রশ্নবিদ্ধ হলে তার দায় এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। আবার অতীতের অনিয়মের তদন্তের অজুহাতে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্ব থেকে দীর্ঘদিন বঞ্চিত রাখাও গ্রহণযোগ্য নয়। তাই দ্রুততম সময়ের মধ্যে স্বাধীন তদন্ত শেষ করে বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি অবিলম্বে নতুন জাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার করতে হবে।

বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) নির্বাচন-২০২৫ এ সংঘটিত অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অবিলম্বে পরবর্তী নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদ।
আজ বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. নুরুল ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এ দাবিতে স্মারকলিপি দিয়েছেন সংগঠনটির নেতা-কর্মীরা।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, দীর্ঘ ৩৩ বছর পর অনুষ্ঠিত জাকসু নির্বাচন শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ তৈরি করলেও নির্বাচন প্রক্রিয়ায় সংঘটিত অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও পক্ষপাতিত্ব এর গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে নির্বাচন চলাকালে অদৃশ্য চাপ, রাজনৈতিক সমীকরণ ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত না জানানোর অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনের দুই সদস্য অধ্যাপক মাফরুহী সাত্তার ও ড. রেজওয়ানা করিম স্নিগ্ধার পদত্যাগের ঘটনা এই প্রশ্নগুলোকে আরও জোরালো করেছে।
নির্বাচনের বিভিন্ন অনিয়ম তুলে ধরে স্মারকলিপিতে ত্রুটিপূর্ণ ভোটার তালিকা, ডোপ টেস্ট নিয়ে অসঙ্গতি, অমোচনীয় কালির দাগ উঠে গিয়ে জাল ভোটের শঙ্কা এবং অতিরিক্ত ব্যালট পেপার সরবরাহের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত চাওয়া হয়। এতে ভিপি প্রার্থী অমর্ত্য রায়ের প্রার্থিতা বাতিলের প্রক্রিয়া, ব্যালট ছাপানো নিয়ে প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য এবং আদালতের আদেশ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতার বিষয়টি খতিয়ে দেখার দাবি জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া নির্ধারিত সময়ের পর ভোট গ্রহণ, ওএমআর পদ্ধতির বদলে ম্যানুয়াল গণনায় ৪৮ ঘণ্টা পর ফলাফল প্রকাশ এবং আটটি প্যানেলের মধ্যে পাঁচটি প্যানেলের নির্বাচন বর্জনের ঘটনাগুলোও তদন্তের আওতায় আনার কথা বলা হয়।
নির্বাচন-পরবর্তী তদন্ত কমিটির নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ছাত্র ইউনিয়নের পক্ষ থেকে বলা হয়, নির্বাচন প্রক্রিয়ার সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত ব্যক্তিদের তদন্ত কমিটিতে রাখায় স্বার্থের সংঘাত সৃষ্টি হয়েছে। তাই একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে আগের কমিটির কার্যক্রম পুনর্মূল্যায়ন করতে হবে। একই সঙ্গে নির্বাচনের বাজেট ও ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশ এবং নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের সময় শিক্ষক জান্নাতুল ফেরদৌসের অকালমৃত্যুর সঙ্গে প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনার সম্পর্ক অনুসন্ধানের দাবি জানানো হয়।
স্মারকলিপিতে সংগঠনটি আরও উল্লেখ করে, দীর্ঘ অপেক্ষার পর অনুষ্ঠিত নির্বাচন অনিয়মে প্রশ্নবিদ্ধ হলে তার দায় এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। আবার অতীতের অনিয়মের তদন্তের অজুহাতে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্ব থেকে দীর্ঘদিন বঞ্চিত রাখাও গ্রহণযোগ্য নয়। তাই দ্রুততম সময়ের মধ্যে স্বাধীন তদন্ত শেষ করে বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি অবিলম্বে নতুন জাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার করতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন