বিপ্লবী বার্তা

মূল পাতা

সারাদেশ

মুকসুদপুর ডিসিআরভুক্ত জমি নিয়ে বিরোধ, উচ্ছেদ আতঙ্কে অসহায় পরিবার

মুকসুদপুর ডিসিআরভুক্ত জমি নিয়ে বিরোধ, উচ্ছেদ আতঙ্কে অসহায় পরিবার
ডিসিআরভুক্ত জমি নিয়ে বিরোধ। ছবি: বিপ্লবী বার্তা

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের মধ্যবনগ্রামে ডিসিআরভুক্ত জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের ভোগদখলীয় একটি পরিবারকে উচ্ছেদের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসীর দাবি, নিয়ম মেনে জমি ভোগদখলে থাকলেও একটি পক্ষ প্রভাব খাটিয়ে তাদের ভিটেমাটি থেকে সরিয়ে দেওয়ার পাঁয়তারা করছে।


জমির মালিকানা ও রেকর্ডের ইতিবৃত্ত
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মধ্যবনগ্রাম মৌজার ১০১ নং জে.এল-এর ৫৮১ এস.এ খতিয়ানের ২৩৪ নং দাগের মোট ৫১ শতক জমির মধ্যে ২৫ শতক জমি রতন কারিকরের ছেলে দলিলউদ্দিন কারিকরের নামে রেকর্ডভুক্ত ছিল। অবশিষ্ট ২৬ শতক জমি রেকর্ডীয় মালিক ছিলেন হিন্দু সম্প্রদায়ের উপেন্দ্র চন্দ্র কুন্ডু গং।


পরবর্তীতে বিআরএস (বিআরএস) রেকর্ডে দলিলউদ্দিন কারিকরের ২৫ শতক জমির মধ্যে ২০ শতক তার দুই ছেলে আব্দুল করিম ও আব্দুল হালিমের নামে রেকর্ড হয় এবং বাকি ৫ শতক সরকারি রাস্তার অন্তর্ভুক্ত হয়। অন্যদিকে, স্বাধীনতা যুদ্ধের আগে উপেন্দ্র চন্দ্র কুন্ডু গংদের থেকে ২৬ শতক জমি বায়নাপত্রের মাধ্যমে ক্রয় করেন ইসমাইল শেখ। বিআরএস রেকর্ডে ইসমাইল শেখের নামে ৮ শতক জমি রেকর্ড হয় এবং অবশিষ্ট ১২ শতক জমি সরকারি মালিকানায় চলে যায় যা আশরাফ আলী মিয়ার নামে ডিসিআর প্রদান করা হয়।

এলাকাবাসীর দাবি, আশরাফ আলী মিয়া উক্ত জমি কখনোই ভোগদখল করেননি। শুরু থেকেই ইসমাইল শেখ এবং ২০০৪ সালে তার মৃত্যুর পর মেজো ছেলে ছিদ্দিক শেখ ওই ১২ শতক জমি ভোগদখল করে আসছেন। নিয়ম অনুযায়ী, ২০০৪ সালে ছিদ্দিক শেখের নামে ডিসিআরটি হস্তান্তর করা হয় এবং ২০২৪ সালে ইউনিয়ন ভূমি অফিসের মাধ্যমে তা হালনাগাদ করা হয়।
তবে বিরোধ শুরু হয় গত ২৬ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে। একই গ্রামের করিম কারিকরের ছেলে আবুল হোসেন কারিকর উক্ত ১২ শতক জমির ডিসিআর নিজের দাবি করে মুকসুদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) কাছে একটি আবেদন দাখিল করেন। এরপর থেকেই পরিবারটি উচ্ছেদের আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।

সম্প্রতি ঝড়ে ছিদ্দিক শেখের বসতঘরের ওপর একটি পিচফল গাছ ভেঙে পড়লে তিনি সেটি কেটে ফেলেন। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মতে, গাছটির বাজারমূল্য সামান্য এবং ডিসিআরভুক্ত জমির আরও কিছু বড় গাছ পূর্বের মালিকরাই কেটেছিলেন। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছিদ্দিক শেখকে হয়রানির চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ বিষয়ে মহারাজপুর ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা মো. ইমারত হোসেন জানান, "১২ শতক জমি ইতিপূর্বে আশরাফ আলী মিয়ার নামে ডিসিআর কাটা ছিল। পরবর্তীতে ২০২৪ সালে বিধি মোতাবেক মধ্যবনগ্রামের মো. ছিদ্দিক শেখের নামে এটি করে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ছিদ্দিক শেখই ওই জমি ভোগদখলে রয়েছেন।

অসহায় ছিদ্দিক শেখ ও তার পরিবার যাতে পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে প্রাপ্ত ডিসিআরভুক্ত জমিতে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে পারেন, সেজন্য সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন গ্রামবাসী। তারা বিষয়টির দ্রুত ও সুষ্ঠু সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।

জমি বিআরএস ডিসিআরভুক্ত

আপনার মতামত লিখুন

বিপ্লবী বার্তা

বুধবার, ১৩ মে ২০২৬


মুকসুদপুর ডিসিআরভুক্ত জমি নিয়ে বিরোধ, উচ্ছেদ আতঙ্কে অসহায় পরিবার

প্রকাশের তারিখ : ১১ মে ২০২৬

featured Image

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের মধ্যবনগ্রামে ডিসিআরভুক্ত জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের ভোগদখলীয় একটি পরিবারকে উচ্ছেদের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসীর দাবি, নিয়ম মেনে জমি ভোগদখলে থাকলেও একটি পক্ষ প্রভাব খাটিয়ে তাদের ভিটেমাটি থেকে সরিয়ে দেওয়ার পাঁয়তারা করছে।


জমির মালিকানা ও রেকর্ডের ইতিবৃত্ত
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মধ্যবনগ্রাম মৌজার ১০১ নং জে.এল-এর ৫৮১ এস.এ খতিয়ানের ২৩৪ নং দাগের মোট ৫১ শতক জমির মধ্যে ২৫ শতক জমি রতন কারিকরের ছেলে দলিলউদ্দিন কারিকরের নামে রেকর্ডভুক্ত ছিল। অবশিষ্ট ২৬ শতক জমি রেকর্ডীয় মালিক ছিলেন হিন্দু সম্প্রদায়ের উপেন্দ্র চন্দ্র কুন্ডু গং।


পরবর্তীতে বিআরএস (বিআরএস) রেকর্ডে দলিলউদ্দিন কারিকরের ২৫ শতক জমির মধ্যে ২০ শতক তার দুই ছেলে আব্দুল করিম ও আব্দুল হালিমের নামে রেকর্ড হয় এবং বাকি ৫ শতক সরকারি রাস্তার অন্তর্ভুক্ত হয়। অন্যদিকে, স্বাধীনতা যুদ্ধের আগে উপেন্দ্র চন্দ্র কুন্ডু গংদের থেকে ২৬ শতক জমি বায়নাপত্রের মাধ্যমে ক্রয় করেন ইসমাইল শেখ। বিআরএস রেকর্ডে ইসমাইল শেখের নামে ৮ শতক জমি রেকর্ড হয় এবং অবশিষ্ট ১২ শতক জমি সরকারি মালিকানায় চলে যায় যা আশরাফ আলী মিয়ার নামে ডিসিআর প্রদান করা হয়।

এলাকাবাসীর দাবি, আশরাফ আলী মিয়া উক্ত জমি কখনোই ভোগদখল করেননি। শুরু থেকেই ইসমাইল শেখ এবং ২০০৪ সালে তার মৃত্যুর পর মেজো ছেলে ছিদ্দিক শেখ ওই ১২ শতক জমি ভোগদখল করে আসছেন। নিয়ম অনুযায়ী, ২০০৪ সালে ছিদ্দিক শেখের নামে ডিসিআরটি হস্তান্তর করা হয় এবং ২০২৪ সালে ইউনিয়ন ভূমি অফিসের মাধ্যমে তা হালনাগাদ করা হয়।
তবে বিরোধ শুরু হয় গত ২৬ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে। একই গ্রামের করিম কারিকরের ছেলে আবুল হোসেন কারিকর উক্ত ১২ শতক জমির ডিসিআর নিজের দাবি করে মুকসুদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) কাছে একটি আবেদন দাখিল করেন। এরপর থেকেই পরিবারটি উচ্ছেদের আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।

সম্প্রতি ঝড়ে ছিদ্দিক শেখের বসতঘরের ওপর একটি পিচফল গাছ ভেঙে পড়লে তিনি সেটি কেটে ফেলেন। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মতে, গাছটির বাজারমূল্য সামান্য এবং ডিসিআরভুক্ত জমির আরও কিছু বড় গাছ পূর্বের মালিকরাই কেটেছিলেন। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছিদ্দিক শেখকে হয়রানির চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ বিষয়ে মহারাজপুর ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা মো. ইমারত হোসেন জানান, "১২ শতক জমি ইতিপূর্বে আশরাফ আলী মিয়ার নামে ডিসিআর কাটা ছিল। পরবর্তীতে ২০২৪ সালে বিধি মোতাবেক মধ্যবনগ্রামের মো. ছিদ্দিক শেখের নামে এটি করে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ছিদ্দিক শেখই ওই জমি ভোগদখলে রয়েছেন।

অসহায় ছিদ্দিক শেখ ও তার পরিবার যাতে পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে প্রাপ্ত ডিসিআরভুক্ত জমিতে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে পারেন, সেজন্য সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন গ্রামবাসী। তারা বিষয়টির দ্রুত ও সুষ্ঠু সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।


বিপ্লবী বার্তা

প্রকাশক
শেখ মাহমুদ উজ্জ্বল
সম্পাদক
ড. জাহিদ আহমেদ চৌধুরী
নির্বাহী সম্পাদক
কাইয়ুম তালুকদার (কানন)

কপিরাইট © ২০২৬ । বিপ্লবী বার্তা