যে সন্তানের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের আশায় মা পথ চেয়ে বসে ছিলেন, সেই অপেক্ষার অবসান হলো এক বুক ফাটা হাহাকারে। অপহরণের দীর্ঘ ছয় দিন পর অবশেষে রাজধানীর ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটির মেধাবী ছাত্র মো. ফরহাদ হোসেন মাহিরের (২৩) অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৫ মে) সকালে হবিগঞ্জের মাধবপুর থানাধীন ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশ থেকে তার নিথর দেহটি উদ্ধার করে পুলিশ।
রাজধানীর উত্তরখান এলাকার বাসিন্দা মাহিরকে গত ৩০ এপ্রিল রাতে পরিকল্পিতভাবে অপহরণ করে একদল দুর্বৃত্ত। পরিবারের সবটুকু স্বপ্ন ছিল এই তরুণকে ঘিরে। কিন্তু অপহরণকারীরা তাকে বাড্ডার আফতাবনগরের একটি নির্জন কক্ষে আটকে রেখে চালায় পৈশাচিক নির্যাতন। ঘাতকদের নির্মমতায় একপর্যায়ে না ফেরার দেশে চলে যান মাহির। হত্যাকাণ্ডের পর ১ মে একটি প্রাইভেটকারে করে মরদেহটি নরসিংদী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া হয়ে অনেক দূরে হবিগঞ্জের মাধবপুরে ফেলে আসা হয়।
মাহিরের নিখোঁজের ঘটনায় পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নামে পুলিশ। এরপর মৃদুল সরকার নামের একজনকে গ্রেপ্তার করলে বেরিয়ে আসে এই রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই বাড্ডা থানা ও মাধবপুর থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল আজ সকাল ১০টার দিকে আন্দিউড়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাত্র ১০০ গজ দূরে মহাসড়কের পাশ থেকে মাহিরের মরদেহটি উদ্ধার করে।
মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেল রানা জানান, "হত্যাকাণ্ডের পেছনে ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও পরকীয়া সংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িত অন্যদের ধরতে সাঁড়াশি অভিযান চলছে।" মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
মাহিরের বাবা মৃত আব্দুল আউয়াল। মা মাজেদা বেগম এখন ছেলের শোকে পাথর হয়ে গেছেন। যে সন্তানকে মানুষের মতো মানুষ করতে এত কষ্ট করেছেন, সেই সন্তানের এমন বীভৎস পরিণতির বিচার চেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন তিনি। মাহিরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটির সহপাঠীদের মাঝেও নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
পৈশাচিক এই হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা মৃদুল ধরা পড়লেও স্বজনদের দাবি এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে, যেন আর কোনো মেধাবী স্বপ্নকে এভাবে অকালে ঝরে যেতে না হয়।

বুধবার, ১৩ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ মে ২০২৬
যে সন্তানের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের আশায় মা পথ চেয়ে বসে ছিলেন, সেই অপেক্ষার অবসান হলো এক বুক ফাটা হাহাকারে। অপহরণের দীর্ঘ ছয় দিন পর অবশেষে রাজধানীর ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটির মেধাবী ছাত্র মো. ফরহাদ হোসেন মাহিরের (২৩) অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৫ মে) সকালে হবিগঞ্জের মাধবপুর থানাধীন ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশ থেকে তার নিথর দেহটি উদ্ধার করে পুলিশ।
রাজধানীর উত্তরখান এলাকার বাসিন্দা মাহিরকে গত ৩০ এপ্রিল রাতে পরিকল্পিতভাবে অপহরণ করে একদল দুর্বৃত্ত। পরিবারের সবটুকু স্বপ্ন ছিল এই তরুণকে ঘিরে। কিন্তু অপহরণকারীরা তাকে বাড্ডার আফতাবনগরের একটি নির্জন কক্ষে আটকে রেখে চালায় পৈশাচিক নির্যাতন। ঘাতকদের নির্মমতায় একপর্যায়ে না ফেরার দেশে চলে যান মাহির। হত্যাকাণ্ডের পর ১ মে একটি প্রাইভেটকারে করে মরদেহটি নরসিংদী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া হয়ে অনেক দূরে হবিগঞ্জের মাধবপুরে ফেলে আসা হয়।
মাহিরের নিখোঁজের ঘটনায় পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নামে পুলিশ। এরপর মৃদুল সরকার নামের একজনকে গ্রেপ্তার করলে বেরিয়ে আসে এই রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই বাড্ডা থানা ও মাধবপুর থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল আজ সকাল ১০টার দিকে আন্দিউড়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাত্র ১০০ গজ দূরে মহাসড়কের পাশ থেকে মাহিরের মরদেহটি উদ্ধার করে।
মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেল রানা জানান, "হত্যাকাণ্ডের পেছনে ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও পরকীয়া সংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িত অন্যদের ধরতে সাঁড়াশি অভিযান চলছে।" মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
মাহিরের বাবা মৃত আব্দুল আউয়াল। মা মাজেদা বেগম এখন ছেলের শোকে পাথর হয়ে গেছেন। যে সন্তানকে মানুষের মতো মানুষ করতে এত কষ্ট করেছেন, সেই সন্তানের এমন বীভৎস পরিণতির বিচার চেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন তিনি। মাহিরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটির সহপাঠীদের মাঝেও নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
পৈশাচিক এই হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা মৃদুল ধরা পড়লেও স্বজনদের দাবি এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে, যেন আর কোনো মেধাবী স্বপ্নকে এভাবে অকালে ঝরে যেতে না হয়।

আপনার মতামত লিখুন