বিপ্লবী বার্তা

মূল পাতা

আন্তর্জাতিক

স্থায়ী শান্তিচুক্তির পরিবর্তে অস্থায়ী সমঝোতা: যুক্তরাষ্ট্র-ইরান

স্থায়ী শান্তিচুক্তির পরিবর্তে অস্থায়ী সমঝোতা: যুক্তরাষ্ট্র-ইরান
অন্তর্বর্তীকালীন সমঝোতার পথে হাঁটছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান। ছবি: সংগ্রহীত

টানা ৪০ দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ আর বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের তীব্রতায় অবশেষে বরফ গলতে শুরু করেছে। চিরস্থায়ী শান্তিচুক্তির ‘উচ্চাকাঙ্ক্ষা’ থেকে সরে এসে এখন একটি অস্থায়ী বা অন্তর্বর্তীকালীন সমঝোতার পথে হাঁটছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। পরমাণু প্রকল্প নিয়ে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান গভীর মতপার্থক্য নিরসনে এই নতুন পথ বেছে নেওয়া হয়েছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

তেহরানের উচ্চপর্যায়ের দুই কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানা গেছে, যদি এই অস্থায়ী চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়, তবে চূড়ান্ত শান্তিচুক্তির আলোচনার জন্য দুই দেশ আরও ৬০ দিন বাড়তি সময় পাবে। এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে যুক্ত হবেন জাতিসংঘের পরমাণু পর্যবেক্ষণ সংস্থা আইএইএ (IAEA)-র প্রতিনিধিরা।

গত ১১ এপ্রিল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে দুই দেশের প্রতিনিধিরা ম্যারাথন বৈঠকে বসলেও দীর্ঘ ২১ ঘণ্টার আলোচনা কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়। মূলত ইরানের পরমাণু প্রকল্পের ভবিষ্যৎ এবং ইউরেনিয়ামের মজুত নিয়ে দুই পক্ষের অনড় অবস্থানই ছিল এই ব্যর্থতার মূল কারণ।

ওয়াশিংটনের দাবি, ইরানকে তাদের মজুতকৃত ইউরেনিয়াম পুরোপুরি ত্যাগ করতে হবে এবং আগামী ২০ বছরের জন্য পরমাণু সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি বন্ধ রাখতে হবে।

তেহরানের পাল্টা প্রস্তাব, ইরান ইউরেনিয়ামের মজুত ছাড়তে নারাজ। তবে সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি সর্বোচ্চ ৩ থেকে ৫ বছরের জন্য স্থগিত রাখতে তারা রাজি।

বর্তমানে ইরানের কাছে ৬০ শতাংশ বিশুদ্ধতার অন্তত ৪০০ কেজি ইউরেনিয়াম রয়েছে, যা ৯০ শতাংশে উন্নীত করলেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি সম্ভব। এটিই যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান উদ্বেগের কারণ।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইরান হরমুজ প্রণালিতে জলমাইন পেতে অবরোধ জারি করে। এর ফলে প্রতিদিন যেখানে ১২০-১৪০টি জাহাজ চলাচল করত, তা নেমে এসেছে মাত্র ১০-১২টিতে। এর প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দেয়।

ইসলামাবাদ বৈঠকে ইরান একটি প্রস্তাব দিয়েছে—যদি যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে এবং আটকে থাকা (ফ্রিজড) অর্থ অবমুক্ত করে, তবে তারা হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজের যাতায়াত সহজ করে দেবে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর গত ৮ এপ্রিল ১৪ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়। এই যুদ্ধবিরতির মাঝেই স্থায়ী সমাধানের চেষ্টা চললেও পরমাণু ইস্যুতে জটিলতা কাটছে না। মার্কিন প্রতিনিধি দলের এক সদস্যের মতে, "চুক্তির পথে এখনও সবচেয়ে বড় বাধা ইরানের পরমাণু প্রকল্প।"

এখন দেখার বিষয়, এই অস্থায়ী সমঝোতা বিশ্বকে দীর্ঘমেয়াদী শান্তি দিতে পারে কি না, নাকি ৬০ দিন পর আবারও রণক্ষেত্রে পরিণত হয় মধ্যপ্রাচ্য।

জ্বালানি সংকট ইরানের খবর ইসরায়েল তেহরান

আপনার মতামত লিখুন

বিপ্লবী বার্তা

শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬


স্থায়ী শান্তিচুক্তির পরিবর্তে অস্থায়ী সমঝোতা: যুক্তরাষ্ট্র-ইরান

প্রকাশের তারিখ : ১৭ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

টানা ৪০ দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ আর বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের তীব্রতায় অবশেষে বরফ গলতে শুরু করেছে। চিরস্থায়ী শান্তিচুক্তির ‘উচ্চাকাঙ্ক্ষা’ থেকে সরে এসে এখন একটি অস্থায়ী বা অন্তর্বর্তীকালীন সমঝোতার পথে হাঁটছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। পরমাণু প্রকল্প নিয়ে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান গভীর মতপার্থক্য নিরসনে এই নতুন পথ বেছে নেওয়া হয়েছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।



তেহরানের উচ্চপর্যায়ের দুই কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানা গেছে, যদি এই অস্থায়ী চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়, তবে চূড়ান্ত শান্তিচুক্তির আলোচনার জন্য দুই দেশ আরও ৬০ দিন বাড়তি সময় পাবে। এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে যুক্ত হবেন জাতিসংঘের পরমাণু পর্যবেক্ষণ সংস্থা আইএইএ (IAEA)-র প্রতিনিধিরা।



গত ১১ এপ্রিল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে দুই দেশের প্রতিনিধিরা ম্যারাথন বৈঠকে বসলেও দীর্ঘ ২১ ঘণ্টার আলোচনা কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়। মূলত ইরানের পরমাণু প্রকল্পের ভবিষ্যৎ এবং ইউরেনিয়ামের মজুত নিয়ে দুই পক্ষের অনড় অবস্থানই ছিল এই ব্যর্থতার মূল কারণ।


ওয়াশিংটনের দাবি, ইরানকে তাদের মজুতকৃত ইউরেনিয়াম পুরোপুরি ত্যাগ করতে হবে এবং আগামী ২০ বছরের জন্য পরমাণু সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি বন্ধ রাখতে হবে।


তেহরানের পাল্টা প্রস্তাব, ইরান ইউরেনিয়ামের মজুত ছাড়তে নারাজ। তবে সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি সর্বোচ্চ ৩ থেকে ৫ বছরের জন্য স্থগিত রাখতে তারা রাজি।


বর্তমানে ইরানের কাছে ৬০ শতাংশ বিশুদ্ধতার অন্তত ৪০০ কেজি ইউরেনিয়াম রয়েছে, যা ৯০ শতাংশে উন্নীত করলেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি সম্ভব। এটিই যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান উদ্বেগের কারণ।



গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইরান হরমুজ প্রণালিতে জলমাইন পেতে অবরোধ জারি করে। এর ফলে প্রতিদিন যেখানে ১২০-১৪০টি জাহাজ চলাচল করত, তা নেমে এসেছে মাত্র ১০-১২টিতে। এর প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দেয়।


ইসলামাবাদ বৈঠকে ইরান একটি প্রস্তাব দিয়েছে—যদি যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে এবং আটকে থাকা (ফ্রিজড) অর্থ অবমুক্ত করে, তবে তারা হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজের যাতায়াত সহজ করে দেবে।



গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর গত ৮ এপ্রিল ১৪ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়। এই যুদ্ধবিরতির মাঝেই স্থায়ী সমাধানের চেষ্টা চললেও পরমাণু ইস্যুতে জটিলতা কাটছে না। মার্কিন প্রতিনিধি দলের এক সদস্যের মতে, "চুক্তির পথে এখনও সবচেয়ে বড় বাধা ইরানের পরমাণু প্রকল্প।"


এখন দেখার বিষয়, এই অস্থায়ী সমঝোতা বিশ্বকে দীর্ঘমেয়াদী শান্তি দিতে পারে কি না, নাকি ৬০ দিন পর আবারও রণক্ষেত্রে পরিণত হয় মধ্যপ্রাচ্য।


বিপ্লবী বার্তা

প্রকাশক
শেখ মাহমুদ উজ্জ্বল
সম্পাদক
ড. জাহিদ আহমেদ চৌধুরী
নির্বাহী সম্পাদক
কাইয়ুম তালুকদার (কানন)

কপিরাইট © ২০২৬ । বিপ্লবী বার্তা