গ্রীষ্মের শুরুতেই দেশজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র বিদ্যুৎ বিভ্রাট। দেশের দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ জেলা গোপালগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং এখন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। একদিকে প্রচণ্ড তাপদাহ, অন্যদিকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় জনজীবনে নেমে এসেছে চরম নাভিশ্বাস। বিশেষ করে গ্রামীণ জনপদে ভোগান্তি এখন চরমে।
সাম্প্রতিক তথ্যানুযায়ী, দেশের অনেক জেলাতেই বিদ্যুৎ আসার চেয়ে যাওয়ার পাল্লা ভারী। গ্রামীণ এলাকাগুলোতে দিনে ৮ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। জেলা শহরগুলোতে কিছুটা বিদ্যুৎ থাকলেও গ্রামগুলোতে পরিস্থিতি ভয়াবহ। অনেক ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ এলেও তা ১০-১৫ মিনিটের বেশি স্থায়ী হচ্ছে না।
বিদ্যুৎ বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, বর্তমান সংকটের মূলে রয়েছে বেশ কিছু কারিগরি ও কৌশলগত কারণ:
বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহে ঘাটতি থাকায় উৎপাদন সক্ষমতা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না।
গ্রীষ্মের তীব্র গরমে দেশব্যাপী বিদ্যুতের চাহিদা রেকর্ড ছাড়িয়েছে।
জাতীয় গ্রিডে প্রযুক্তিগত ত্রুটি এবং অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোতে মাঝে মাঝেই বড় ধরনের বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটছে।
বহুমুখী প্রভাবে থমকে গেছে জনজীবন
বিদ্যুতের এই অস্বাভাবিক আসা-যাওয়ার ফলে সব সেক্টরেই নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে:
শিক্ষা
শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে হিমশিম খাচ্ছে ছাত্রছাত্রীরা।
বাণিজ্য
ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে উৎপাদন কমে গেছে। বিকল্প হিসেবে জেনারেটর ব্যবহার করায় উৎপাদন খরচ বেড়ে ব্যবসায়িক লোকসান বাড়ছে।
কৃষি
বোরো মৌসুমে সেচ পাম্পগুলো চালানো যাচ্ছে না। সময়মতো সেচ দিতে না পারায় ফসল উৎপাদন হুমকির মুখে পড়েছে।
স্বাস্থ্য
তীব্র গরমে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে হিটস্ট্রোকসহ গরমজনিত রোগবালাই বাড়ছে। হাসপাতালে রোগীদের সেবা ব্যাহত হচ্ছে।
সমাধানের পথে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
বিদ্যুৎ খাতের বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কেবলমাত্র সাময়িক পদক্ষেপ দিয়ে এই সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব নয়। দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য তারা কয়েকটি বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেছেন:
জ্বালানি নিরাপত্তা: বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও কয়লা সরবরাহ নিশ্চিত করা।
অবকাঠামো উন্নয়ন: জাতীয় গ্রিড ও ট্রান্সমিশন লাইনগুলোর আধুনিকায়ন করা যাতে প্রযুক্তিগত ত্রুটি কমে।
নবায়নযোগ্য শক্তি: সৌর বিদ্যুৎসহ বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো যাতে মূল গ্রিডের ওপর চাপ কমে।
গোপালগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের এই বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে কৃষি ও অর্থনীতিতে এর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষের দাবি, রমজান ও সামনের দিনগুলোর কথা মাথায় রেখে সরকার যেন দ্রুত এই সমস্যার সমাধান করে।

শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ এপ্রিল ২০২৬
গ্রীষ্মের শুরুতেই দেশজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র বিদ্যুৎ বিভ্রাট। দেশের দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ জেলা গোপালগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং এখন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। একদিকে প্রচণ্ড তাপদাহ, অন্যদিকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় জনজীবনে নেমে এসেছে চরম নাভিশ্বাস। বিশেষ করে গ্রামীণ জনপদে ভোগান্তি এখন চরমে।
সাম্প্রতিক তথ্যানুযায়ী, দেশের অনেক জেলাতেই বিদ্যুৎ আসার চেয়ে যাওয়ার পাল্লা ভারী। গ্রামীণ এলাকাগুলোতে দিনে ৮ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। জেলা শহরগুলোতে কিছুটা বিদ্যুৎ থাকলেও গ্রামগুলোতে পরিস্থিতি ভয়াবহ। অনেক ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ এলেও তা ১০-১৫ মিনিটের বেশি স্থায়ী হচ্ছে না।
বিদ্যুৎ বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, বর্তমান সংকটের মূলে রয়েছে বেশ কিছু কারিগরি ও কৌশলগত কারণ:
বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহে ঘাটতি থাকায় উৎপাদন সক্ষমতা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না।
গ্রীষ্মের তীব্র গরমে দেশব্যাপী বিদ্যুতের চাহিদা রেকর্ড ছাড়িয়েছে।
জাতীয় গ্রিডে প্রযুক্তিগত ত্রুটি এবং অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোতে মাঝে মাঝেই বড় ধরনের বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটছে।
বহুমুখী প্রভাবে থমকে গেছে জনজীবন
বিদ্যুতের এই অস্বাভাবিক আসা-যাওয়ার ফলে সব সেক্টরেই নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে:
শিক্ষা
শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে হিমশিম খাচ্ছে ছাত্রছাত্রীরা।
বাণিজ্য
ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে উৎপাদন কমে গেছে। বিকল্প হিসেবে জেনারেটর ব্যবহার করায় উৎপাদন খরচ বেড়ে ব্যবসায়িক লোকসান বাড়ছে।
কৃষি
বোরো মৌসুমে সেচ পাম্পগুলো চালানো যাচ্ছে না। সময়মতো সেচ দিতে না পারায় ফসল উৎপাদন হুমকির মুখে পড়েছে।
স্বাস্থ্য
তীব্র গরমে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে হিটস্ট্রোকসহ গরমজনিত রোগবালাই বাড়ছে। হাসপাতালে রোগীদের সেবা ব্যাহত হচ্ছে।
সমাধানের পথে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
বিদ্যুৎ খাতের বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কেবলমাত্র সাময়িক পদক্ষেপ দিয়ে এই সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব নয়। দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য তারা কয়েকটি বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেছেন:
জ্বালানি নিরাপত্তা: বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও কয়লা সরবরাহ নিশ্চিত করা।
অবকাঠামো উন্নয়ন: জাতীয় গ্রিড ও ট্রান্সমিশন লাইনগুলোর আধুনিকায়ন করা যাতে প্রযুক্তিগত ত্রুটি কমে।
নবায়নযোগ্য শক্তি: সৌর বিদ্যুৎসহ বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো যাতে মূল গ্রিডের ওপর চাপ কমে।
গোপালগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের এই বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে কৃষি ও অর্থনীতিতে এর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষের দাবি, রমজান ও সামনের দিনগুলোর কথা মাথায় রেখে সরকার যেন দ্রুত এই সমস্যার সমাধান করে।

আপনার মতামত লিখুন