ঢাবি শিক্ষার্থীকে পুলিশী হেনস্তার প্রতিবাদে জাবিতে বিক্ষোভ
বিপ্লবী বার্তা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী নাঈম উদ্দিনকে পুলিশ কর্তৃক হেনস্তার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) একদল শিক্ষার্থী। 


আজ মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারী)  দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে ‘নিপীড়নের বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়।


​সমাবেশে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগর ৫৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী দুর্বার আদি বলেন, “জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশে আমরা আশা করেছিলাম, রাষ্ট্রীয় বাহিনী আর ব্রিটিশ আমলের কায়দায় মানুষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়বে না। নাগরিক অধিকার নিয়ে সবাই সুস্থভাবে বাঁচতে পারবে। কিন্তু গতকাল রাতের ঘটনা প্রমাণ করে, এই দেশে আমরা কেউ নিরাপদ নই।”


​নতুন সরকারের সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, “নতুন সরকার গঠিত হওয়ার এক মাসও হয়নি, অথচ তারা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর হামলা-দাদাগিরি সামলাতে পারছে না। সরকার যদি এখনই এর লাগাম টেনে ধরতে না পারে, তবে আমরা হয়তো আবারও একটি পুলিশি রাষ্ট্রের দিকেই এগিয়ে যাচ্ছি।”


​সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট জাবি শাখার সংগঠক সজীব আহমেদ জেনিচ বলেন, “পোশাক পাল্টালেও পুলিশের চরিত্র বদলায়নি। পুলিশ সংস্কারের নামে গঠিত কমিশন আসলে কী করেছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ডিসি মাসুদ নিজেকে ঢাকার ফাটাকেষ্ট ভাবছেন, বিগত দিনে নারী আন্দোলনকারী ও শিক্ষকদের ওপরও তিনি হামলা চালিয়েছেন। বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলছেন পুলিশের কাজে বাধা দেওয়া যাবে না—এর মানে কি পুলিশ যা ইচ্ছা তাই করবে? নাগরিকদের ওপর মোরাল পুলিশিং করার অধিকার কোনো পুলিশের নেই।”


​এ সময় তিনি জাবি প্রশাসন ও নিরাপত্তাকর্মীদের সতর্ক করে বলেন, “ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের স্বাধীন চলাফেরায় কোনো ধরনের সার্ভিল্যান্স বা মোরাল পুলিশিং করা হলে শিক্ষার্থীরা তা মেনে নেবে না।”


এছাড়াও ​বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রী জাবি শাখার সংগঠক সোমা ডোমরি বলেন, “রাস্তা বা পার্কে স্বাধীনভাবে চলাফেরা করা একজন নাগরিকের অধিকার। তাকে যখন বিনা কারণে আটকে হেনস্তা করা হয়, তখন তা স্পষ্ট মানবাধিকার লঙ্ঘন। নতুন গণতান্ত্রিক সরকার গঠিত হওয়ার পরও কেন মব জাস্টিস বা পুলিশের এমন আচরণ থামানো যাচ্ছে না? আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীই যদি মব হয়ে ওঠে, তবে মব আটকানোর দায়িত্ব কার?”


​সমাবেশ থেকে শিক্ষার্থীরা নাঈম উদ্দিনকে হেনস্তার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন। পাশাপাশি, অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের জবাবদিহির আওতায় আনার জোর দাবি জানানো হয়।