জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) পেশাগত দায়িত্ব পালনরত এক সাংবাদিককে শারীরিক লাঞ্ছনা ও ক্যামেরা ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সাংবাদিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
আজ রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) প্রক্টর অফিসে এই অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। ভুক্তভোগী সাংবাদিকের নাম আরিফুর রহমান। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগের ৫২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী এবং অনলাইন সংবাদমাধ্যম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, গত ৬ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার সংলগ্ন সড়কে সংবাদ সংগ্রহ করছিলেন ছিলেন আরিফুর। এ সময় পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরম্যাটিকস বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ ইমন ও দর্শন বিভাগের একই ব্যাচের মো. সাহানুর রহমান সানজুসহ ৫-৬ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি মব তৈরি করে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। সাংবাদিক পরিচয় নিশ্চিত করার পরেও অভিযুক্তরা তার হাত থেকে জোরপূর্বক মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে ফুটেজ চেক করেন এবং ক্যামেরা (সনি আলফা ৬৪০০) কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে ক্যামেরার লেন্স ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
অভিযোগপত্র থেকে আরও জানা যায়, ঘটনার সময় জাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক আহসান লাবিবসহ কয়েকজন এগিয়ে এসে আরিফুরকে উদ্ধার করেন। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে সহকারী প্রক্টর ও সাংবাদিক সমিতির সভাপতিকে জানানো হয়। তবে অভিযোগ জানানোর জেরে পরবর্তীতে মোহাম্মদ ইমন ও সাহানুর রহমান সানজুর সঙ্গে বাংলা বিভাগের ৫১তম ব্যাচের ইমন বাবুসহ কয়েকজন এসে আরিফুরকে পুনরায় হেনস্তা করেন এবং ভীতি প্রদর্শন করেন।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক আরিফুর রহমান বলেন, “ঘটনার দিন আমি অভিযুক্তদের দ্বারা পরপর দুইবার আক্রমণের শিকার হই। এছাড়াও পরবর্তীতে ফেইক ফেসবুক পেইজ ও অ্যাকাউন্ট থেকে আমাকে নিয়ে অপপ্রচার করা হয়৷ যা আমার ব্যক্তিগত জীবনকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।”
এ বিষয়ে অভিযুক্ত পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরম্যাটিকস বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ ইমন বলেন, “মারধর বা হেনস্তার যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। সেদিন রাতে সুরা বিকৃত করে পাঠ করার একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমরা সেখানে ছিলাম। তখন ওই সাংবাদিক উল্টো আমাদের ৪৮ ব্যাচের এক বন্ধুকে ধাক্কা দেন এবং ‘তুই’ সম্বোধন করে কথা বলেন। তার আচরণ ছিল আক্রমণাত্মক, যার ভিডিও প্রমাণ আছে।”
মোবাইল ও ক্যামেরা চেক করা প্রসঙ্গে অভিযুক্ত বলেন, “সুরা বিকৃতির ঘটনাটির ফুটেজ তার কাছে আছে কি না, আমরা কেবল তা দেখতে চেয়েছিলাম। ক্যামেরা ভাঙচুরের কোনো ঘটনা ঘটেনি। তাছাড়া ওই রাতেই সাংবাদিক সমিতির নেতাদের উপস্থিতিতে উভয় পক্ষের কথা শুনে বিষয়টি সমাধান করে দেওয়া হয়েছিল। দুই দিন পর হঠাৎ কেন এমন অভিযোগ করা হলো, তা আমার বোধগম্য নয়।”
তবে সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মেহেদী মামুন ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন বিষয়টি নিয়ে তাদের সাথে কোনো ধরনের সমাধান হয়নি।
ভুক্তভোগীর দেওয়া অভিযোগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ.কে.এম রাশিদুল আলম বলেন, “অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি গঠন করে তদন্তসাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এ ঘটনায় ক্যাম্পাসের কর্মরত সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। সংবিধানে প্রদত্ত মতপ্রকাশ ও সংবাদ সংগ্রহের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ উল্লেখ করে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

