শীতকাল মানেই আরামদায়ক আবহাওয়া—কিন্তু এই সময়েই অনেকের অজান্তে দেখা দেয় পানিশূন্যতা বা ডিহাইড্রেশনের সমস্যা। সাধারণ ধারণা হলো, ডিহাইড্রেশন শুধু গরমকালে হয়। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শীতকালেও এই সমস্যা বেশ প্রকট হতে পারে। পার্থক্য শুধু এটুকু—শীতের সময় লক্ষণগুলো সহজে বোঝা যায় না বলে অনেকেই বিষয়টি অবহেলা করেন।
শীতকালে পানিশূন্যতার কারণ
শীতের বাতাস তুলনামূলকভাবে শুষ্ক থাকে, আর ঘরের ভেতরের তাপমাত্রা আর্দ্রতা আরও কমিয়ে দেয়। আমরা যখন শ্বাস নিই, তখন শরীর থেকে কিছুটা আর্দ্রতা বের হয়ে যায়। এ ছাড়া ঠান্ডার কারণে বারবার প্রস্রাব হওয়া—যাকে ‘কোল্ড ডিউরেসিস’ বলা হয়—তরল ক্ষয়ের আরেকটি বড় কারণ।
এর সঙ্গে যোগ হয় অতিরিক্ত গরম কাপড় পরা, শারীরিক পরিশ্রম কমে যাওয়া এবং পানি কম পান করার প্রবণতা। সব মিলিয়ে অজান্তেই শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি হয়ে যায়।
ডিহাইড্রেশনের লক্ষণ
শীতকালে পানিশূন্যতার লক্ষণগুলো সাধারণত হালকাভাবে শুরু হয়—
ঠোঁট শুষ্ক হয়ে যাওয়া
ত্বক নিস্তেজ দেখানো
মাথাব্যথা
ক্লান্তি
প্রস্রাব কম হওয়া বা গাঢ় রঙের প্রস্রাব
অনেকে এসব লক্ষণকে সাধারণ শীতকালীন দুর্বলতা ভেবে এড়িয়ে যান, যা পরবর্তীতে বড় সমস্যার কারণ হতে পারে।
পানিশূন্যতা এড়ানোর সহজ উপায়
দিনের শুরুতেই এক গ্লাস উষ্ণ পানি পান করা খুবই উপকারী। এটি পরিপাকতন্ত্রকে সক্রিয় করে এবং সারাদিন নিয়মিত পানি পান করার অভ্যাস গড়ে তোলে। একবারে বেশি পানি না খেয়ে সারাদিন অল্প অল্প করে পান করা ভালো। হাতের কাছে একটি পানির বোতল রাখলে পানি পানের কথা সহজে মনে থাকে।
উষ্ণ তরল পানীয়ের গুরুত্ব
শীতে ঠান্ডা পানি অনেকের কাছেই আকর্ষণীয় মনে হয় না। তাই শুধু সাধারণ পানির ওপর নির্ভর না করে উষ্ণ তরল পানীয় গ্রহণ করা যেতে পারে। ভেষজ চা, স্যুপ, উষ্ণ লেবুর পানি বা ঝোলজাতীয় খাবার শরীরকে আরাম দেওয়ার পাশাপাশি হাইড্রেটেড রাখতেও কার্যকর।
খাবারের মাধ্যমেও হাইড্রেশন
পানির পাশাপাশি বিভিন্ন ফল ও শাকসবজিও শরীরে তরলের চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মৌসুমি ফল, রান্না করা সবজি, ডাল, স্যুপ বা স্টু জাতীয় খাবারে প্রচুর পানি থাকে। এসব খাবার শুধু হাইড্রেশনই বজায় রাখে না, বরং শরীরে ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্যও ঠিক রাখে—যা শক্তি ধরে রাখতে এবং পেশির কার্যকারিতার জন্য জরুরি।
ক্যাফেইনজাতীয় পানীয় ব্যবহারে সতর্কতা
চা ও কফি অতিরিক্ত পান করলে শরীর থেকে তরল ক্ষয় হতে পারে। শীতকালে এমনিতেই শরীর আর্দ্রতা হারায়, তাই ক্যাফেইনজাতীয় পানীয় পরিমিত মাত্রায় গ্রহণ করা উচিত। প্রতি কাপ চা বা কফির বিপরীতে এক গ্লাস পানি বা উষ্ণ হাইড্রেটিং পানীয় পান করা ভালো অভ্যাস।
সচেতন থাকাই সমাধান
শীতকালে পানিশূন্যতা খুবই সাধারণ একটি সমস্যা—তবে সচেতন থাকলেই এটি সহজে প্রতিরোধ করা সম্ভব। নিয়মিত পানি পান, উষ্ণ তরল গ্রহণ, পানি সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া এবং তৃষ্ণা লাগার আগেই পানি পান করার অভ্যাস গড়ে তুললেই শরীর থাকবে সুস্থ ও সতেজ।

