শীতের আমেজে ‘সেমাই পিঠা’: স্বাদ ও ঐতিহ্যের সেরা রেসিপি
ছবিঃ সংগৃহীত

শীতের সকাল মানেই ধোঁয়া ওঠা পিঠার ঘ্রাণ। আর এই পিঠার তালিকায় অন্যতম জনপ্রিয় হলো ‘সেমাই পিঠা’, যা অনেক অঞ্চলে ‘চুই পিঠা’ বা ‘হাতে কাটা সেমাই’ নামেও পরিচিত। চালের গুঁড়ো দিয়ে তৈরি এই পিঠা যখন ঘন দুধে ভিজে নরম হয়, তখন তার স্বাদ মুখে লেগে থাকার মতো।


অনেকেই মনে করেন হাতে সেমাই কাটা বেশ কঠিন, তবে সঠিক পদ্ধতি জানলে এটি ঘরে তৈরি করা খুবই সহজ। চলুন জেনে নিই রসালো সেমাই পিঠা তৈরির সহজ রেসিপি:


প্রয়োজনীয় উপকরণ

চালের গুঁড়ো: ২ কাপ

তরল দুধ: ১.৫ লিটার

খেজুরের গুড়: ১ কাপ (মিষ্টি অনুযায়ী কম-বেশি)

নারকেল কোড়ানো: আধ কাপ

এলাচ: ৩-৪টি

লবণ: সামান্য

পানি: ২ কাপ


তৈরির ধাপসমূহ

১. ডো বা কাই তৈরি: প্রথমে একটি হাঁড়িতে পানি, সামান্য লবণ ও ১ চা চামচ ঘি দিয়ে ফুটিয়ে নিন। পানি ফুটে উঠলে তাতে চালের গুঁড়ো দিয়ে নাড়ুন এবং ঢাকনা দিয়ে অল্প আঁচে ২ মিনিট রাখুন। এরপর চুলা বন্ধ করে ভালো করে মেখে একটি মসৃণ ডো তৈরি করুন।


২. সেমাই কাটা: ডো থেকে ছোট ছোট লেচি নিয়ে হাতে তালুর সাহায্যে সরু সুতোর মতো লম্বা করে ছোট ছোট সেমাই কেটে নিন। সেমাইগুলো যাতে একে অপরের সাথে লেগে না যায়, সেজন্য সামান্য শুকনো চালের গুঁড়ো ছিটিয়ে রাখতে পারেন।


৩. দুধের শিরা প্রস্তুত: অন্য একটি বড় পাত্রে দুধ জ্বাল দিয়ে কিছুটা ঘন করে নিন। এতে এলাচ দিয়ে দিন। অন্য একটি পাত্রে সামান্য গরম পানিতে খেজুরের গুড় গলিয়ে ছেঁকে রাখুন (দুধে সরাসরি গুড় দিলে অনেক সময় দুধ ফেটে যায়)।


৪. পিঠা রান্না: দুধ ফুটে উঠলে তাতে তৈরি করে রাখা সেমাইগুলো অল্প অল্প করে দিয়ে দিন। আলতো হাতে নাড়ুন যাতে ভেঙে না যায়। ৫-৭ মিনিট মাঝারি আঁচে রান্না করুন। সেমাই সেদ্ধ হয়ে উপরে ভেসে উঠলে এতে নারকেল কোড়ানো দিন।


৫. শেষ ধাপ: সবশেষে চুলা বন্ধ করে বা একদম কমিয়ে দিয়ে আগে থেকে গলিয়ে রাখা গুড় মিশিয়ে দিন। ভালো করে মিশে গেলে আরও ১-২ মিনিট রেখে নামিয়ে নিন।


পরিবেশন

তৈরি হয়ে গেল ঐতিহ্যবাহী সেমাই পিঠা। এই পিঠা গরম গরম খেতে যেমন সুস্বাদু, ঠান্ডা হলে এর ঝোল আরও ঘন ও মজাদার হয়। শীতের সকালে নাস্তায় এটি হতে পারে পরিবারের সবার প্রিয় খাবার।