ইউটিউবে সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া নাটক ‘আমাদের গল্পটা এখানেই শেষ’ নিয়ে তীব্র বিতর্কের মুখে পড়েছেন অভিনেতা আরশ খান। নাটকে ভিন্নধর্মী চরিত্রে অভিনয়ের কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা–সমালোচনা, এমনকি তাকে হুমকিও দেওয়া হয়েছে।
নাটকটিতে একজন হিন্দু যুবকের চরিত্রে অভিনয় করেছেন আরশ খান, যার প্রেমিকা একজন মুসলিম নারী। গল্পে বিয়ের প্রসঙ্গ উঠে আসায় বিষয়টি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। একাধিক ফেসবুক পেজ থেকে নাটকের স্ক্রিনশট শেয়ার করে অভিনেতাকে আল্টিমেটাম দিয়ে নাটকটি ইউটিউব থেকে সরিয়ে নেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়।
এই পরিস্থিতিতে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করতে ফেসবুকে একটি দীর্ঘ পোস্ট দেন আরশ খান। সেখানে তিনি বলেন, নতুন কোনো কাজ প্রকাশের পর তা নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনা হওয়াকে তিনি স্বাভাবিক হিসেবেই দেখেন। একজন অভিনয়শিল্পী হিসেবে সবসময়ই সাধারণ মানুষের জীবনের সঙ্গে মিল রেখে গল্প বেছে নেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি।
আরশ খান লেখেন, দর্শকদের প্রতিক্রিয়া ভিন্ন হতে পারে—কেউ কাজ পছন্দ করেন, কেউ অপছন্দ করেন। সব ধরনের প্রতিক্রিয়াকেই তিনি ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেন। তার ভাষায়, দেশের সংস্কৃতি ও বাস্তবতাকে তুলে ধরাই তার কাজের মূল উদ্দেশ্য।
নিজের আগের কাজ ‘যত্ন’ ধারাবাহিক নাটকের উদাহরণ টেনে তিনি জানান, সমাজে বিভ্রান্তিকর বা ভুল বার্তা দেওয়ার কোনো ইচ্ছা তার কখনোই ছিল না। তবে সাম্প্রতিক নাটকটি নিয়ে যেসব অভিযোগ উঠেছে, সেগুলোর অনেকটাই ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন অভিনেতা।
যুক্তি-তর্কে না গিয়ে ভবিষ্যতে গল্প নির্বাচন আরও সতর্কতার সঙ্গে করবেন বলেও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। পাশাপাশি দর্শকদের আশাহত না করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
পোস্টে আরশ খান আরও উল্লেখ করেন, কোনো প্রজেক্ট একবার প্রকাশের পর সেটি মুছে ফেলা বা সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত একজন অভিনয়শিল্পীর হাতে থাকে না। এ বিষয়ে তিনি প্রযোজকদের প্রতি আহ্বান জানান—তারা যেন নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেন এবং নিজেদের ভাবনা প্রকাশ করেন।
সবশেষে আবেগঘন বার্তায় তিনি বলেন, দর্শক ছাড়া তিনি শূন্য। দর্শকদের প্রতি ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এই অভিনেতা।
উল্লেখ্য, বিতর্কের পর বর্তমানে ইউটিউবে আর নাটকটি দেখা যাচ্ছে না। ‘আমাদের গল্পটা এখানেই শেষ’ নাটকটির রচয়িতা, চিত্রনাট্যকার ও পরিচালক মেহেদী হাসান জনি। এতে আরশ খানের বিপরীতে অভিনয় করেছেন প্রিয়ন্তী উর্বি।

