ছবিঃ বিপ্লবী বার্তা
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের বেঁধে রাখার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাকসুর কার্যকরী সদস্য মোহাম্মদ আলী চিশতী। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) বিকালে তার নিজস্ব ফেইসবুক একাউন্টে একটি স্ট্যাটাসের মাধ্যমে এ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
ওই ফেইসবুক পোস্টে তিনি লিখেন, “অগোচরে অনেক কিছুই হয়েছে আর না। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই হামলায় মদদদাতা বহিষ্কৃত কোনো শিক্ষক যদি জানুয়ারির ১ তারিখ থেকে কখনো ক্যাম্পাসে আসে ,কোনো গোপন মিটিং করার চেষ্টা করে অবগত হওয়া মাত্র তাকে উক্ত ডিপার্টমেন্টের সামনে বেঁধে রাখা হবে এবং সামনের শিক্ষক সমিতির নির্বাচনে আওয়ামী মদদপুষ্ট কোনো শিক্ষক যদি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করার দুঃসাহস দেখায় ,সে যেনো তার লোকচক্ষুতে যে মান-সম্মান আছে তা জলাঞ্জলি দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে নির্বাচনে দাঁড়ায়।”
আগামী ১৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির ২০২৬ সালের কার্যনির্বাহী পরিষদ নির্বাচন। নির্বাচনে সভাপতি, সহসভাপতি, কোষাধ্যক্ষ, সম্পাদক ও যুগ্ম সম্পাদক সহ ১৫ টি পদে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা নির্বাচন করবেন। এই নির্বাচনে আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের অংশগ্রহনকে রুখতেই এই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বলে জানান চিশতি।
এ বিষয়ে জাকসুর কার্যকরী সদস্য এবং জাতীয় ছাত্রশক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সংগঠক মোহাম্মদ আলী চিশতী বলেন, “আমি বিভিন্ন সোর্স থেকে খবর পাই ইতিহাস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হোসনে আরাসহ আরো কয়েকজন আওয়ামীপন্থী শিক্ষক ক্যাম্পাসে এসে গোপনে মিটিং করেছেন। আসন্ন শিক্ষক পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের পূনর্বাসনের প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। এসব তথ্য পাওয়ার পর আমি তৎক্ষনাত ফেইসবুকে হুঁশিয়ারি দিয়ে একটি স্ট্যাটাস দেই। যদি প্রাপ্ত তথ্যে পুরোপুরি সত্য হয় তাহলে আমি অতিশীঘ্রই এই আওয়ামীপন্থী শিক্ষদের বিরুদ্ধে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবো।”
তবে মোহাম্মদ আলী চিশতীর এ হুঁশিয়ারি তার ব্যক্তিগত এবং জাকসুর পক্ষ থেকে নেওয়া কোন সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নয় বলে দাবি করেছেন জাকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি) আব্দুর রশিদ জিতু। এ বিষয়ে আব্দুর রশিদ জিতু বলেন, “চিশতীর দেওয়া হুঁশিয়ারী জাকসুর কোন সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নয়। তবে জুলাই হামলায় জড়িত ও মদদদাতা যেসব আওয়ামীপন্থী শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্পষ্ট অভিযোগ রয়েছে তাদের বিচারের বিষয়ে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট। প্রশাসন যে সময় বেঁধে দিয়েছে সেই সময়ের মধ্যে অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিচারকার্য সম্পন্ন না হলে আমর পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করবো।”
উল্লেখ্য, দীর্ঘ ৩৩ বছর পর গত ১১ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হয় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) নির্বাচন। ওই নির্বাচনে তৎকালীন 'বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ' (বর্তমানে জাতীয় ছাত্রশক্তি) সমর্থিত প্যানেল থেকে নির্বাচন করেছিলেন চিশতী। নির্বাচনে ২ হাজার ৪১৪ ভোট পেয়ে জাকসুর কার্যকরী সদস্য নির্বাচিত হন তিনি।
চিশতীর দেওয়া এ হুঁশিয়ারির বিষয়ে জাতীয় ছাত্রশক্তি জাবি শাখার সভাপতি জিয়া উদ্দিন আয়ান বলেন,“আমরা বিভিন্ন মাধ্যমে আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের মিটিং করার বিষয়টি শুনেছি। চিশতী যে হুঁশিয়ারি দিয়েছে সেটা আমাদের সাংগঠনিকভাবে দেওয়া কোন সিদ্ধান্ত না। তবে বিষয়টির সত্যত্যা পেলে আমরা দ্রুতই আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহন করবো।”

