ছবিঃ বিপ্লবী বার্তা
প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচন স্থগিত করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওপর বিএনপির হাইকমান্ড থেকে চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে—এমন অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিমকে ফোন করা হয়েছিল।
জানা যায়, নির্বাচন বানচাল চেষ্টার সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থী শিক্ষক ও শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. রইচ উদ্দীন জড়িত। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ইতোমধ্যে আওয়ামী মতাদর্শের কয়েকজন শিক্ষকের সঙ্গেও একাধিক বৈঠক করে নির্বাচন স্থগিতের বিষয়ে চাপ প্রয়োগ করেছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রিজাইডিং অফিসার জানান, "সকাল থেকেই বিভিন্ন মাধ্যমে আমার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হচ্ছে। আমার ওপর চাপ ছিল যেন আমি তাদের ইচ্ছেমতো কাজ করি। যতটুকু বুঝতে পেরেছি, পুরো বিষয়টি নির্বাচন ম্যানিপুলেট করার উদ্দেশ্যেই করা হচ্ছে।”
এদিকে, জকসু নির্বাচনের মাত্র একদিন আগে এমন অপচেষ্টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। শিক্ষার্থীরা বলছেন, তাঁরা একটি সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর নির্বাচন চান। জকসু নির্বাচন বানচালের কোনো চেষ্টা তারা মেনে নেবেন না।
সমাজবিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী রাশেদুল হাসান বলেন, “আমরা শুনছি শেষ মুহূর্তে এসে একটি পক্ষ ভোট ম্যানিপুলেট করার চেষ্টা চালাচ্ছে। শুধুমাত্র রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য একটি শিক্ষার্থী নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। যারা এমন ষড়যন্ত্র করবে, জবি শিক্ষার্থীরা তাদের ব্যালটের মাধ্যমেই জবাব দেবে।”
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম বলেন, “মন্ত্রণালয় থেকে আমাকে ফোন দেওয়া হয়েছিল। তারা কিছু তথ্য জানতে চেয়েছে, আমি সেগুলো দিয়েছি।”
জকসু নির্বাচন কমিশনার ড. আনিছুর রহমান বলেন, “নির্বাচন বন্ধের বিষয়ে আমাদের ওপর এখনো কোনো ধরনের চাপ নেই। সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে।”

