ভূমিকম্পে কাঁপল লতিফ ছাত্রাবাস, অল্পের জন্য রক্ষা পেল ২,৫০০ শিক্ষার্থী
ছবিঃ বিপ্লবী বার্তা

ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সবচেয়ে পুরনো এবং জরাজীর্ণ আবাসিক ভবনগুলোর একটি লতিফ ছাত্রাবাস। প্রায় ৬০–৭০ বছর বয়সী এই ভবনে এখনো থাকেন প্রায় ২,৫০০ শিক্ষার্থী। শুক্রবার সকালে ভূমিকম্পে হলটি কেঁপে উঠলে মুহূর্তেই আতঙ্কে দৌড়ে বাইরে বের হয়ে আসেন আবাসিক ছাত্ররা।


শিক্ষার্থীরা জানান, ভূমিকম্পের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, কেউ চিন্তা করারও সময় পায়নি। ধুলো, চিৎকার আর আতঙ্কে মুহূর্তেই ভরে যায় পুরো হল চত্বর। কয়েকটি ব্লকের ছাদ ভেঙে পড়ে, বহু রুমের ছাদের অংশ খসে যায়, এবং কয়েকটি কলাম ও বিমে ফাটল দেখা দেয়। ছাত্ররা মনে করেন, আর কিছুক্ষণ দেরি হলেই নেপালের মতো বড় ধরনের ট্রাজেডি ঘটতে পারত।


এর আগেও লতিফ হলে ৪তলার ছাদের অংশ খুলে পড়ে এক শিক্ষার্থীর বেডে। সে সময় ছাত্রটি বেডে না থাকায় প্রাণে বেঁচে যায়। পুরোনো কাঠামো, নড়বড়ে দেয়াল আর বছরের পর বছর সংস্কারহীন অবস্থায় এই ছাত্রাবাস এখন শিক্ষার্থীদের চোখে “মৃত্যুকূপ”।


লতিফ হলের সাধারণ শিক্ষার্থীরা বহুদিন ধরে ক্যাম্পাস প্রশাসন এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে নতুন হলের প্রকল্প অনুমোদনের দাবি জানিয়ে আসছেন। কিন্তু এখনো পর্যন্ত কোনো উদ্যোগ বা আশানুরূপ সিদ্ধান্ত পাননি তারা।


লতিফ হলের এক আবাসিক ছাত্র তার ফেসবুক পোস্টে লিখেন, “হাজার মানুষ প্রাণভয়ে দৌড়াচ্ছিল। সব চোখে একটা আকাঙ্ক্ষা, এই ভয়ঙ্কর কারাগার থেকে বের হও। আজ মৃত্যু থেকে ফিরে আসলাম।”


লতিফ ছাত্রাবাসের শিক্ষার্থীরা দ্রুত নতুন আবাসিক ভবন নির্মাণ ও পুরনো হলটি ভেঙে ফেলার জন্য সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেন। তাদের অভিযোগ, বছরের পর বছর নানা দাবি-দাওয়া জানানোর পরও কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।