ছবিঃ বিপ্লবী বার্তা
গোপন চুক্তির ভিত্তিতে চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশি কোম্পানীর হাতে তুলে দেওয়ার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন 'নিপীড়নের বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর' সংগঠনের শিক্ষার্থীরা।
আজ বুধবার (১৯ নভেম্বর) বিকালে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক সংলগ্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে (ডেইরি গেট) বিক্ষোভ সমাবেশটি অনুষ্ঠিত হয়। এসময় শিক্ষার্থীদের 'মা-মাটি-মোহনা, বিদেশিদের দিবোনা ' 'বন্দর রক্ষা করো, চুক্তির শর্ত প্রকাশ করো' 'রক্ত দিবো-জীবন দিবো, বন্দর দিবোনা' ইত্যাদী স্লোগান দিতে দেখা যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সচেতন শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা সমাবেশে অংশ নেন।
বিদেশি কোম্পানির কাছে বন্দরের চুক্তি করায় নিন্দা জানিয়ে সমাবেশে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট (মার্ক্সবাদী) বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সংগঠক সজিব আহমেদ জেনিচ বলেন, “তিন বছরের হিসাব বলছে চট্টগ্রাম বন্দর লাভজনক একটা প্রতিষ্ঠান। তিন বছরে কোটি কোটি ডলার তারা রাজস্বখাতে যুক্ত করেছে। কিন্তু এরপরেও বন্দরে নাকি দুর্নীতি হয়, এই দুর্নীতির অজুহাতে সরকার টার্মিনালগুলো বিদেশের হাতে তুলে দিয়েছে। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, এই টার্মিনাল কোনোভাবে বিদেশীদের হাতে দেওয়া যাবে না। বাংলাদেশের সম্পদ বাংলাদেশের জাতীয় সম্পদ এদেশের মা, মাটি, মোহনা সমস্তকিছু পরিচালনা করার সক্ষমতা বাংলাদেশ রাষ্ট্রের বাংলাদেশের জনগণের আছে। সুতরাং আমাদের সম্পদ, আমাদের বন্দর, আমরাই পরিচালনা করবো। আমরাই করে দেখাবো কোনো বিদেশী শক্তির হাতে দিয়ে আমরা অসম চুক্তির মধ্য দিয়ে আমরা আমাদের সম্পদকে লুটেপুটে খেতে দিবো না।”
জাহাঙ্গীরনগর ফটোগ্রাফি সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক ফারিয়া জামান নিকি বলেন, “অতি সম্প্রতি ইউনুস সরকার একটি বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। আপনাদের মনে হতে পারে আমরা যে কোনো বিদেশি চুক্তির বিরোধিতা করি, আসলে তা না। যেকোনো দেশের সাথে চুক্তি করলে আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে সেটা আমাদের কতটা উপকার করছে। আর এ যে চুক্তিটা যেটা ৩০ বছর মেয়াদে চুক্তি হতে যাছে। এটার সকল ইনফরমেশন একটি পাবলিক ইনফরমেশন হওয়া উচিত। ইন্টেরিম সরকার যে গঠন হলো তাদের দায়িত্ব ছিলো আগে জুলাইতে আমাদের যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা নিরসন করা। সবার আগে চুক্তি করা দরকার ছিল ইন্ডিয়ার সাথে, শেখ হাসিনাকে ফেরত আনার জন্য। সে জায়গায় তার কোনো অগ্রগতি নেই। সে আছে বিদেশের সাথে ৩০ বছরের চুক্তি করতে। আমরা স্পষ্ট জানিয়ে দিতে চাই, আমাদের এমন গুরুত্বপূর্ণ একটা বন্দর বিদেশের হাতে তুলে দিয়ে দেশের সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়তে পারে। দেশের জাতীয় নিরাপত্তা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সে জায়গায় আমরা অনেক দুঃচিন্তা বোধ করছি কারণ আমরা চুক্তি বিস্তারিত জানিনা।”
এছাড়াও বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী জাবি শাখার সংগঠক সোমা ডোমরি বলেন, “স্বৈরাচারী সরকারের আমলে আমরা দেখেছি প্রতিবেশী দেশের একটি রেললাইন আমাদের দেশের মধ্য দিয়ে নেওয়ার একটি চুক্তি হওয়ার কথা ছিলো, আমরা এটার বিরোধীতা করেছিলাম। কিন্তু স্বৈরাচার পতন হওয়ার পরে ইন্টেরিম সরকার একই ধরনের চুক্তি বাস্তবায়ন করলো। যেদিন শেখ হাসিনার বিচারের রায় হলো সেদিনই লোকচক্ষুর আড়ালে বন্দরের চুক্তিটি করা হলো। এর ফলে বাংলাদেশের মতো একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশে বৈদেশিক শক্তির অর্থনৈতিক উপনিবেশ সৃষ্টির সুযোগ তৈরী হলো। এটি আমাদের মনে প্রশ্ন জাগায় যে ইন্টেরিম সরকার কি জনগণের নাকি অন্য কোন পুঁজিবাদী শক্তির পারপাস সার্ভ করছে।”

