নারী-পুরুষের সমতা প্রতিষ্ঠা, নেতিবাচক জেন্ডার স্টেরিওটাইপ মোকাবিলা এবং সমাজে প্রচলিত বৈষম্যমূলক ধারণা পরিবর্তনের লক্ষ্যে পিরোজপুরে একটি গুরুত্বপূর্ণ অ্যাডভোকেসি মিটিং অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ২৫ অক্টোবর সকাল ১১টার দিকে পিরোজপুর জেলা প্রেস ক্লাবে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
“সমতায় তারুণ্য” প্রকল্পের আওতায় “নেতিবাচক জেন্ডার স্টেরিওটাইপ মোকাবিলায় স্থানীয় সরকার, প্রশাসন ও কমিউনিটি নেতৃবৃন্দের সঙ্গে যুবদের সংলাপ” শীর্ষক এ কার্যক্রমটি নেক্সজেন পিরোজপুর-এর মাধ্যমে সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে। উল্লেখ্য, এই মহৎ উদ্যোগটির সঙ্গে নেদারল্যান্ডস দূতাবাস ও জাগো ফাউন্ডেশন বিশেষভাবে যুক্ত রয়েছে।
অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, পিরোজপুরের উপপরিচালক নাজমুন নাহার; বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, পিরোজপুরের সভাপতি খালেদা আক্তার হেনা; পিরোজপুর শহর সমাজসেবা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুম বিল্লাহ; যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, পিরোজপুরের প্রশিক্ষক এইচ. এম. আহসান আকিব সুজন; গ্রিন ফোর্স বাংলাদেশের সভাপতি মঈনুল হাসান মুন্না এবং পজিটিভ পিরোজপুরের সভাপতি মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান।
সভায় সমাজে প্রচলিত নেতিবাচক জেন্ডার স্টেরিওটাইপ বা নারী-পুরুষের ভূমিকা ও আচরণ নিয়ে গড়ে ওঠা গতানুগতিক ধারণা, জেন্ডারভিত্তিক বৈষম্য এবং এসব ধারণা মোকাবিলায় তরুণদের জোরালো ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বিশেষ করে পরিবার, শিক্ষা, কর্মক্ষেত্র ও সামাজিক জীবনে নারী-পুরুষের জন্য নির্দিষ্ট ভূমিকা ও আচরণ চাপিয়ে দেওয়ার প্রবণতা কীভাবে সমাজে বৈষম্য তৈরি করছে, তা গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন বক্তারা।
আলোচনায় পুরুষের কান্না বা আবেগ প্রকাশকে দুর্বলতা হিসেবে বিবেচনা করা, পুরুষদের ঘরের কাজ করতে নিরুৎসাহিত করা এবং শিশু লালন-পালনকে কেবল নারীর একচ্ছত্র দায়িত্ব মনে করার মতো প্রচলিত কুসংস্কার ও ক্ষতিকর ধারণাগুলো নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হয়। একই সঙ্গে নারীর সক্ষমতা, সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকার ও নেতৃত্বের সুযোগকে সীমিত করে এমন সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি দ্রুত পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।
বক্তারা উল্লেখ করেন, জেন্ডারভিত্তিক নেতিবাচক ধারণা কীভাবে ব্যক্তির আত্মবিশ্বাস, স্বাধীনতা, পারিবারিক সম্পর্ক এবং শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে সমান সুযোগ লাভের পথে বড় বাধা সৃষ্টি করে। এসব বাধা দূর করতে নারী-পুরুষ উভয়ের প্রতি সমান মর্যাদা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, দায়িত্বের ন্যায্য বণ্টন এবং বৈষম্যহীন আচরণ নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়।
এ ছাড়া স্থানীয় প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে নেতিবাচক জেন্ডার স্টেরিওটাইপ মোকাবিলায় স্থানীয় সরকার ও কমিউনিটি নেতৃবৃন্দের সঙ্গে তরুণদের কার্যকর সংলাপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রচলিত বৈষম্যমূলক ধারণা পরিবর্তন এবং সমতাভিত্তিক সমাজ গঠনে সরকারি দপ্তর, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও যুবসমাজের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর জোর দেওয়া হয়।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, নেক্সজেন পিরোজপুর-এর মাধ্যমে বাস্তবায়িত এ ধরনের অ্যাডভোকেসি মিটিং তরুণ প্রজন্মের মধ্যে জেন্ডার সমতা বিষয়ে সচেতনতা বহুলাংশে বৃদ্ধি করবে এবং সমাজে প্রচলিত নেতিবাচক ধারণা পরিবর্তনে অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি নারী-পুরুষের সমান অধিকার, মর্যাদা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার মাধ্যমে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের পথ আরও সুগম হবে।

মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ অক্টোবর ২০২৬
নারী-পুরুষের সমতা প্রতিষ্ঠা, নেতিবাচক জেন্ডার স্টেরিওটাইপ মোকাবিলা এবং সমাজে প্রচলিত বৈষম্যমূলক ধারণা পরিবর্তনের লক্ষ্যে পিরোজপুরে একটি গুরুত্বপূর্ণ অ্যাডভোকেসি মিটিং অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ২৫ অক্টোবর সকাল ১১টার দিকে পিরোজপুর জেলা প্রেস ক্লাবে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
“সমতায় তারুণ্য” প্রকল্পের আওতায় “নেতিবাচক জেন্ডার স্টেরিওটাইপ মোকাবিলায় স্থানীয় সরকার, প্রশাসন ও কমিউনিটি নেতৃবৃন্দের সঙ্গে যুবদের সংলাপ” শীর্ষক এ কার্যক্রমটি নেক্সজেন পিরোজপুর-এর মাধ্যমে সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে। উল্লেখ্য, এই মহৎ উদ্যোগটির সঙ্গে নেদারল্যান্ডস দূতাবাস ও জাগো ফাউন্ডেশন বিশেষভাবে যুক্ত রয়েছে।
অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, পিরোজপুরের উপপরিচালক নাজমুন নাহার; বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, পিরোজপুরের সভাপতি খালেদা আক্তার হেনা; পিরোজপুর শহর সমাজসেবা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুম বিল্লাহ; যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, পিরোজপুরের প্রশিক্ষক এইচ. এম. আহসান আকিব সুজন; গ্রিন ফোর্স বাংলাদেশের সভাপতি মঈনুল হাসান মুন্না এবং পজিটিভ পিরোজপুরের সভাপতি মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান।
সভায় সমাজে প্রচলিত নেতিবাচক জেন্ডার স্টেরিওটাইপ বা নারী-পুরুষের ভূমিকা ও আচরণ নিয়ে গড়ে ওঠা গতানুগতিক ধারণা, জেন্ডারভিত্তিক বৈষম্য এবং এসব ধারণা মোকাবিলায় তরুণদের জোরালো ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বিশেষ করে পরিবার, শিক্ষা, কর্মক্ষেত্র ও সামাজিক জীবনে নারী-পুরুষের জন্য নির্দিষ্ট ভূমিকা ও আচরণ চাপিয়ে দেওয়ার প্রবণতা কীভাবে সমাজে বৈষম্য তৈরি করছে, তা গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন বক্তারা।
আলোচনায় পুরুষের কান্না বা আবেগ প্রকাশকে দুর্বলতা হিসেবে বিবেচনা করা, পুরুষদের ঘরের কাজ করতে নিরুৎসাহিত করা এবং শিশু লালন-পালনকে কেবল নারীর একচ্ছত্র দায়িত্ব মনে করার মতো প্রচলিত কুসংস্কার ও ক্ষতিকর ধারণাগুলো নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হয়। একই সঙ্গে নারীর সক্ষমতা, সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকার ও নেতৃত্বের সুযোগকে সীমিত করে এমন সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি দ্রুত পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।
বক্তারা উল্লেখ করেন, জেন্ডারভিত্তিক নেতিবাচক ধারণা কীভাবে ব্যক্তির আত্মবিশ্বাস, স্বাধীনতা, পারিবারিক সম্পর্ক এবং শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে সমান সুযোগ লাভের পথে বড় বাধা সৃষ্টি করে। এসব বাধা দূর করতে নারী-পুরুষ উভয়ের প্রতি সমান মর্যাদা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, দায়িত্বের ন্যায্য বণ্টন এবং বৈষম্যহীন আচরণ নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়।
এ ছাড়া স্থানীয় প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে নেতিবাচক জেন্ডার স্টেরিওটাইপ মোকাবিলায় স্থানীয় সরকার ও কমিউনিটি নেতৃবৃন্দের সঙ্গে তরুণদের কার্যকর সংলাপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রচলিত বৈষম্যমূলক ধারণা পরিবর্তন এবং সমতাভিত্তিক সমাজ গঠনে সরকারি দপ্তর, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও যুবসমাজের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর জোর দেওয়া হয়।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, নেক্সজেন পিরোজপুর-এর মাধ্যমে বাস্তবায়িত এ ধরনের অ্যাডভোকেসি মিটিং তরুণ প্রজন্মের মধ্যে জেন্ডার সমতা বিষয়ে সচেতনতা বহুলাংশে বৃদ্ধি করবে এবং সমাজে প্রচলিত নেতিবাচক ধারণা পরিবর্তনে অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি নারী-পুরুষের সমান অধিকার, মর্যাদা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার মাধ্যমে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের পথ আরও সুগম হবে।

আপনার মতামত লিখুন