লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে এক ব্যক্তিকে আটকের পর মারধর ও টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে সাত পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) দাখিল করা তদন্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে বাদীপক্ষের নারাজি আবেদনের শুনানি শেষে এ আদেশ দেওয়া হয়।
রোববার (১১ অক্টোবর) লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, আমলি রায়পুরের বিচারক মোহাম্মদ রেজাউল হক এ আদেশ দেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবদুল আহাদ শাকিল পাটওয়ারী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, বাদী রিনা আক্তার তাঁর স্বামী আবদুর রহিম রনিকে আটকের পর মারধর ও তাঁর কাছ থেকে টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে ২০২৩ সালের ২৭ ডিসেম্বর সাত পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন।
মামলাটি প্রথমে লক্ষ্মীপুরের পুলিশ সুপারকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। ওই তদন্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে বাদীপক্ষ নারাজি দিলে পরে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। পিবিআইয়ের প্রতিবেদনেও নারাজি জানান বাদী। এরপর আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য সিআইডিকে দায়িত্ব দেন।
গত ২ জুলাই সিআইডি আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। ওই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে গত ১৭ আগস্ট নারাজি আবেদন করেন বাদীপক্ষ। রোববার দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত নারাজি আবেদন মঞ্জুর করে মামলাটি বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবদুল আহাদ শাকিল পাটওয়ারী বলেন, বাদীপক্ষের অভিযোগ, তদন্তকারী কর্মকর্তা আসামিদের বিষয়ে যথাযথ তদন্ত না করে তাঁদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। রায়পুর থানা ও হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজের হার্ডডিস্ক জব্দ করে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এছাড়া বাদীপক্ষের সাক্ষীদের জবানবন্দি যথাযথভাবে বিবেচনায় না নিয়ে নিজেদের মতো করে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে বলে দাবি করেন এই আইনজীবী। এসব ত্রুটির অভিযোগ তুলে সিআইডির প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজি আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করে বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান তিনি।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২৩ সালের ১৭ ডিসেম্বর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রায়পুর-চাঁদপুর সড়কের চরপাতা ইউনিয়নের বর্ডার বাজার এলাকা থেকে আবদুর রহিম রনিকে আটক করে পুলিশ। তখন তাঁর কাছে গরু বিক্রির ৯০ হাজার টাকা ছিল। অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যরা ওই টাকা নিয়ে যান এবং পরে থানায় নিয়ে তাঁকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন তাঁর স্ত্রী রিনা আক্তার।
এজাহারে আরও বলা হয়, স্বামীর সন্ধান পেতে বিভিন্ন দপ্তরে খোঁজ করেন রিনা আক্তার। পরে রায়পুর থানার এক উপপরিদর্শকের (এসআই) কাছে স্বামীর বিষয়ে জানতে গেলে তাঁকে ছাড়িয়ে নিতে দুই লাখ টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। টাকা দিতে না পারলে বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
তবে ঘটনার পর রায়পুর থানা-পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, ১৮ ডিসেম্বর ডাকাতির প্রস্তুতিকালে রনিসহ দুজনকে অস্ত্র, কার্তুজ, দেশীয় অস্ত্র, ইয়াবা ও গাঁজাসহ আটক করা হয়। পরে তাঁদের বিরুদ্ধে ডাকাতির প্রস্তুতি, অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলায় অভিযুক্ত সাত পুলিশ সদস্য হলেন- রায়পুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আবু হানিফ ও মো. আবু হানিফ (৩), মো. নুরুল ইসলাম, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) সফিক মিয়া ও সাখাওয়াত হোসেন এবং কনস্টেবল আতিক উল্যা ও ইউসুফ ঢালি।

মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ অক্টোবর ২০২৬
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে এক ব্যক্তিকে আটকের পর মারধর ও টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে সাত পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) দাখিল করা তদন্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে বাদীপক্ষের নারাজি আবেদনের শুনানি শেষে এ আদেশ দেওয়া হয়।
রোববার (১১ অক্টোবর) লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, আমলি রায়পুরের বিচারক মোহাম্মদ রেজাউল হক এ আদেশ দেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবদুল আহাদ শাকিল পাটওয়ারী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, বাদী রিনা আক্তার তাঁর স্বামী আবদুর রহিম রনিকে আটকের পর মারধর ও তাঁর কাছ থেকে টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে ২০২৩ সালের ২৭ ডিসেম্বর সাত পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন।
মামলাটি প্রথমে লক্ষ্মীপুরের পুলিশ সুপারকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। ওই তদন্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে বাদীপক্ষ নারাজি দিলে পরে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। পিবিআইয়ের প্রতিবেদনেও নারাজি জানান বাদী। এরপর আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য সিআইডিকে দায়িত্ব দেন।
গত ২ জুলাই সিআইডি আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। ওই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে গত ১৭ আগস্ট নারাজি আবেদন করেন বাদীপক্ষ। রোববার দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত নারাজি আবেদন মঞ্জুর করে মামলাটি বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবদুল আহাদ শাকিল পাটওয়ারী বলেন, বাদীপক্ষের অভিযোগ, তদন্তকারী কর্মকর্তা আসামিদের বিষয়ে যথাযথ তদন্ত না করে তাঁদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। রায়পুর থানা ও হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজের হার্ডডিস্ক জব্দ করে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এছাড়া বাদীপক্ষের সাক্ষীদের জবানবন্দি যথাযথভাবে বিবেচনায় না নিয়ে নিজেদের মতো করে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে বলে দাবি করেন এই আইনজীবী। এসব ত্রুটির অভিযোগ তুলে সিআইডির প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজি আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করে বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান তিনি।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২৩ সালের ১৭ ডিসেম্বর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রায়পুর-চাঁদপুর সড়কের চরপাতা ইউনিয়নের বর্ডার বাজার এলাকা থেকে আবদুর রহিম রনিকে আটক করে পুলিশ। তখন তাঁর কাছে গরু বিক্রির ৯০ হাজার টাকা ছিল। অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যরা ওই টাকা নিয়ে যান এবং পরে থানায় নিয়ে তাঁকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন তাঁর স্ত্রী রিনা আক্তার।
এজাহারে আরও বলা হয়, স্বামীর সন্ধান পেতে বিভিন্ন দপ্তরে খোঁজ করেন রিনা আক্তার। পরে রায়পুর থানার এক উপপরিদর্শকের (এসআই) কাছে স্বামীর বিষয়ে জানতে গেলে তাঁকে ছাড়িয়ে নিতে দুই লাখ টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। টাকা দিতে না পারলে বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
তবে ঘটনার পর রায়পুর থানা-পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, ১৮ ডিসেম্বর ডাকাতির প্রস্তুতিকালে রনিসহ দুজনকে অস্ত্র, কার্তুজ, দেশীয় অস্ত্র, ইয়াবা ও গাঁজাসহ আটক করা হয়। পরে তাঁদের বিরুদ্ধে ডাকাতির প্রস্তুতি, অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলায় অভিযুক্ত সাত পুলিশ সদস্য হলেন- রায়পুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আবু হানিফ ও মো. আবু হানিফ (৩), মো. নুরুল ইসলাম, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) সফিক মিয়া ও সাখাওয়াত হোসেন এবং কনস্টেবল আতিক উল্যা ও ইউসুফ ঢালি।

আপনার মতামত লিখুন