বিপ্লবী বার্তা

মূল পাতা

শিক্ষাঙ্গন

বিশ্বসেরা ২ শতাংশ গবেষকের তালিকায় চবির ৭ শিক্ষক

বিশ্বসেরা ২ শতাংশ গবেষকের তালিকায় চবির ৭ শিক্ষক
ছবিঃ বিপ্লবী বার্তা

বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞান গবেষকের তালিকায় স্থান পেয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) সাত শিক্ষক ও গবেষক। গবেষণাপত্রের সাইটেশন, এইচ-ইনডেক্সসহ বিভিন্ন গবেষণা সূচকের ভিত্তিতে প্রকাশিত এ তালিকায় স্থান পাওয়া গবেষকেরা উদ্ভিদবিজ্ঞান, মৃত্তিকাবিজ্ঞান, রসায়ন, জীবরসায়ন, কম্পিউটার বিজ্ঞান ও সামুদ্রিক বিজ্ঞানের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখছেন।

বুধবার (৭ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও নেদারল্যান্ডসভিত্তিক গবেষণা প্রকাশনা সংস্থা এলসেভিয়ারের সমন্বিত উদ্যোগে এ তালিকা প্রকাশ করা হয়।

তালিকায় স্থান পাওয়া চবির গবেষকেরা হলেন উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. এএনএম আলমগীর, মৃত্তিকাবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. খান তৌহিদ ওসমান, রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. এসএম আবে কাউছার ও প্রভাষক ইমরানুল কবির, জীবরসায়ন ও অণুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আতিয়ার রহমান, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন এবং ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্সেসের অধ্যাপক ড. এসএম শরিফুজ্জামান।

গবেষকদের প্রকাশিত প্রবন্ধ, সাইটেশন, এইচ-ইনডেক্স, গবেষণার ধারাবাহিকতা এবং সহলেখকদের প্রভাবসহ বিভিন্ন সূচকের সমন্বিত বিশ্লেষণের ভিত্তিতে এ তালিকা তৈরি করা হয়েছে।

উদ্ভিদবিজ্ঞানের অধ্যাপক ড. এএনএম আলমগীর দীর্ঘদিন ধরে ঔষধি উদ্ভিদ ও ভেষজ উপাদান নিয়ে গবেষণা করছেন। তাঁর গবেষণার অন্যতম ক্ষেত্র ঔষধি উদ্ভিদের রাসায়নিক উপাদান এবং লবণাক্ত পরিবেশে ধানের শারীরবৃত্তীয় কার্যক্রম। ঔষধি উদ্ভিদের চিকিৎসাগত ব্যবহার নিয়ে তাঁর লেখা দুই খণ্ডের বই Therapeutic Use of Medicinal Plants and their Extracts ২০১৭ সালে প্রকাশ করে আন্তর্জাতিক প্রকাশনা সংস্থা স্প্রিঙ্গার।

মৃত্তিকাবিজ্ঞানের অধ্যাপক ড. খান তৌহিদ ওসমানের গবেষণার ক্ষেত্র মাটির গঠন, ভারী ধাতুদূষণ ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনা। তাঁর গবেষণায় ভার্মিকম্পোস্ট ও ঝিনুকের খোলস থেকে তৈরি হাইড্রক্সিঅ্যাপাটাইট ব্যবহার করে মাটিতে সিসার দূষণ কমানোর সম্ভাবনা উঠে এসেছে। চট্টগ্রামের শিল্পাঞ্চলের মাটিতে ভারী ধাতুর উপস্থিতি নিয়েও তিনি গবেষণা করেছেন।

রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. এসএম আবে কাউছার সুগারভিত্তিক জৈব যৌগ সংশ্লেষণ ও গ্রিন কেমিস্ট্রি নিয়ে কাজ করছেন। তাঁর গবেষণায় ইউরিডিনের বিভিন্ন ডেরিভেটিভ সংশ্লেষণ এবং সম্ভাব্য অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল কার্যকারিতা গুরুত্বপূর্ণ স্থান পেয়েছে। একই বিভাগের প্রভাষক ইমরানুল কবির কাজ করছেন ফ্যাব্রিক ফেজ সর্পটিভ এক্সট্রাকশন (এফপিএসই) প্রযুক্তি নিয়ে। এ প্রযুক্তির মাধ্যমে রক্ত, দুধ ও পানির মতো নমুনায় ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান শনাক্ত করার পদ্ধতি উন্নয়নে গবেষণা করছেন তিনি।

কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেনের গবেষণার অন্যতম ক্ষেত্র কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রযুক্তি। অনিশ্চিত তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্ষম বেলিফ রুল-বেইজড এক্সপার্ট সিস্টেম নিয়ে তাঁর গবেষণা রয়েছে। স্বাস্থ্যঝুঁকি নিরূপণ, সাইবার হামলা শনাক্তকরণ এবং কৃষিতে রোগ শনাক্তকরণের মতো ক্ষেত্রে এ ধরনের প্রযুক্তির প্রয়োগ নিয়ে কাজ করেছেন তিনি।

ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্সেসের অধ্যাপক ড. এসএম শরিফুজ্জামানের গবেষণার মূল ক্ষেত্র বঙ্গোপসাগরের জীববৈচিত্র্য, সামুদ্রিক দূষণ ও মৎস্যসম্পদ। তাঁর গবেষণায় সামুদ্রিক প্রাণীর শরীরে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি এবং জাহাজভাঙা শিল্প থেকে ভারী ধাতু সমুদ্রে ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। সেন্ট মার্টিন দ্বীপের সামুদ্রিক মাছের বৈচিত্র্য নিয়েও গবেষণা করেছেন তিনি।

জীবরসায়ন ও অণুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আতিয়ার রহমান দেশীয় ঔষধি উদ্ভিদের জৈব সক্রিয় উপাদান, ডায়াবেটিস এবং লিভারের বিষক্রিয়া নিয়ে গবেষণা করছেন। কাঁটাকচু, তেঁতুলসহ বিভিন্ন উদ্ভিদের উপাদানের সম্ভাব্য ঔষধি কার্যকারিতা তাঁর গবেষণার অন্যতম বিষয়। ক্যানসারের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধের কারণে হৃদ্‌যন্ত্রের ক্ষতি কমানোর সম্ভাবনা নিয়েও তিনি গবেষণা করেছেন।

এ অর্জনে সন্তোষ প্রকাশ করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান বলেন, ‘আমাদের সহকর্মীরা এমন সম্মানজনক স্থান অর্জন করায় আমি অত্যন্ত আনন্দিত। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের পক্ষ থেকে তাদের সবাইকে আন্তরিক অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানাই। আমরা এমন একটি বিশ্ববিদ্যালয় চেয়েছি এবং সেই লক্ষ্যেই কাজ করে চলেছি। আমরা চাই, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণার চারণভূমিতে পরিণত হোক।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের এ স্বীকৃতি আন্তর্জাতিক গবেষণাক্ষেত্রে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপস্থিতি তুলে ধরেছে। পাশাপাশি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিভিন্ন শাখায় গবেষণা কার্যক্রমের বিস্তারের বিষয়টিও সামনে এনেছে।

আপনার মতামত লিখুন

বিপ্লবী বার্তা

রোববার, ১১ অক্টোবর ২০২৬


বিশ্বসেরা ২ শতাংশ গবেষকের তালিকায় চবির ৭ শিক্ষক

প্রকাশের তারিখ : ১১ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞান গবেষকের তালিকায় স্থান পেয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) সাত শিক্ষক ও গবেষক। গবেষণাপত্রের সাইটেশন, এইচ-ইনডেক্সসহ বিভিন্ন গবেষণা সূচকের ভিত্তিতে প্রকাশিত এ তালিকায় স্থান পাওয়া গবেষকেরা উদ্ভিদবিজ্ঞান, মৃত্তিকাবিজ্ঞান, রসায়ন, জীবরসায়ন, কম্পিউটার বিজ্ঞান ও সামুদ্রিক বিজ্ঞানের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখছেন।

বুধবার (৭ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও নেদারল্যান্ডসভিত্তিক গবেষণা প্রকাশনা সংস্থা এলসেভিয়ারের সমন্বিত উদ্যোগে এ তালিকা প্রকাশ করা হয়।

তালিকায় স্থান পাওয়া চবির গবেষকেরা হলেন উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. এএনএম আলমগীর, মৃত্তিকাবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. খান তৌহিদ ওসমান, রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. এসএম আবে কাউছার ও প্রভাষক ইমরানুল কবির, জীবরসায়ন ও অণুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আতিয়ার রহমান, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন এবং ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্সেসের অধ্যাপক ড. এসএম শরিফুজ্জামান।

গবেষকদের প্রকাশিত প্রবন্ধ, সাইটেশন, এইচ-ইনডেক্স, গবেষণার ধারাবাহিকতা এবং সহলেখকদের প্রভাবসহ বিভিন্ন সূচকের সমন্বিত বিশ্লেষণের ভিত্তিতে এ তালিকা তৈরি করা হয়েছে।

উদ্ভিদবিজ্ঞানের অধ্যাপক ড. এএনএম আলমগীর দীর্ঘদিন ধরে ঔষধি উদ্ভিদ ও ভেষজ উপাদান নিয়ে গবেষণা করছেন। তাঁর গবেষণার অন্যতম ক্ষেত্র ঔষধি উদ্ভিদের রাসায়নিক উপাদান এবং লবণাক্ত পরিবেশে ধানের শারীরবৃত্তীয় কার্যক্রম। ঔষধি উদ্ভিদের চিকিৎসাগত ব্যবহার নিয়ে তাঁর লেখা দুই খণ্ডের বই Therapeutic Use of Medicinal Plants and their Extracts ২০১৭ সালে প্রকাশ করে আন্তর্জাতিক প্রকাশনা সংস্থা স্প্রিঙ্গার।

মৃত্তিকাবিজ্ঞানের অধ্যাপক ড. খান তৌহিদ ওসমানের গবেষণার ক্ষেত্র মাটির গঠন, ভারী ধাতুদূষণ ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনা। তাঁর গবেষণায় ভার্মিকম্পোস্ট ও ঝিনুকের খোলস থেকে তৈরি হাইড্রক্সিঅ্যাপাটাইট ব্যবহার করে মাটিতে সিসার দূষণ কমানোর সম্ভাবনা উঠে এসেছে। চট্টগ্রামের শিল্পাঞ্চলের মাটিতে ভারী ধাতুর উপস্থিতি নিয়েও তিনি গবেষণা করেছেন।

রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. এসএম আবে কাউছার সুগারভিত্তিক জৈব যৌগ সংশ্লেষণ ও গ্রিন কেমিস্ট্রি নিয়ে কাজ করছেন। তাঁর গবেষণায় ইউরিডিনের বিভিন্ন ডেরিভেটিভ সংশ্লেষণ এবং সম্ভাব্য অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল কার্যকারিতা গুরুত্বপূর্ণ স্থান পেয়েছে। একই বিভাগের প্রভাষক ইমরানুল কবির কাজ করছেন ফ্যাব্রিক ফেজ সর্পটিভ এক্সট্রাকশন (এফপিএসই) প্রযুক্তি নিয়ে। এ প্রযুক্তির মাধ্যমে রক্ত, দুধ ও পানির মতো নমুনায় ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান শনাক্ত করার পদ্ধতি উন্নয়নে গবেষণা করছেন তিনি।

কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেনের গবেষণার অন্যতম ক্ষেত্র কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রযুক্তি। অনিশ্চিত তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্ষম বেলিফ রুল-বেইজড এক্সপার্ট সিস্টেম নিয়ে তাঁর গবেষণা রয়েছে। স্বাস্থ্যঝুঁকি নিরূপণ, সাইবার হামলা শনাক্তকরণ এবং কৃষিতে রোগ শনাক্তকরণের মতো ক্ষেত্রে এ ধরনের প্রযুক্তির প্রয়োগ নিয়ে কাজ করেছেন তিনি।

ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্সেসের অধ্যাপক ড. এসএম শরিফুজ্জামানের গবেষণার মূল ক্ষেত্র বঙ্গোপসাগরের জীববৈচিত্র্য, সামুদ্রিক দূষণ ও মৎস্যসম্পদ। তাঁর গবেষণায় সামুদ্রিক প্রাণীর শরীরে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি এবং জাহাজভাঙা শিল্প থেকে ভারী ধাতু সমুদ্রে ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। সেন্ট মার্টিন দ্বীপের সামুদ্রিক মাছের বৈচিত্র্য নিয়েও গবেষণা করেছেন তিনি।

জীবরসায়ন ও অণুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আতিয়ার রহমান দেশীয় ঔষধি উদ্ভিদের জৈব সক্রিয় উপাদান, ডায়াবেটিস এবং লিভারের বিষক্রিয়া নিয়ে গবেষণা করছেন। কাঁটাকচু, তেঁতুলসহ বিভিন্ন উদ্ভিদের উপাদানের সম্ভাব্য ঔষধি কার্যকারিতা তাঁর গবেষণার অন্যতম বিষয়। ক্যানসারের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধের কারণে হৃদ্‌যন্ত্রের ক্ষতি কমানোর সম্ভাবনা নিয়েও তিনি গবেষণা করেছেন।

এ অর্জনে সন্তোষ প্রকাশ করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান বলেন, ‘আমাদের সহকর্মীরা এমন সম্মানজনক স্থান অর্জন করায় আমি অত্যন্ত আনন্দিত। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের পক্ষ থেকে তাদের সবাইকে আন্তরিক অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানাই। আমরা এমন একটি বিশ্ববিদ্যালয় চেয়েছি এবং সেই লক্ষ্যেই কাজ করে চলেছি। আমরা চাই, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণার চারণভূমিতে পরিণত হোক।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের এ স্বীকৃতি আন্তর্জাতিক গবেষণাক্ষেত্রে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপস্থিতি তুলে ধরেছে। পাশাপাশি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিভিন্ন শাখায় গবেষণা কার্যক্রমের বিস্তারের বিষয়টিও সামনে এনেছে।


বিপ্লবী বার্তা

প্রকাশক
শেখ মাহমুদ উজ্জ্বল
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
কাইয়ুম তালুকদার (কানন)
উপদেষ্টা সম্পাদক
ড. জাহিদ আহমেদ চৌধুরী

কপিরাইট © ২০২৬ । বিপ্লবী বার্তা