জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) দুই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে দুই বহিরাগতকে আটকে রেখে হেনস্তা, র্যাগিং, যৌন হয়রানি ও ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান মিলনায়তনের পিছনে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগীদের আত্মীয় মো. মাহফুজুর রহমান। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের ৪৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থী।
অভিযুক্ত দুই শিক্ষার্থী হলেন নৃবিজ্ঞান বিভাগের ৫৪তম ব্যাচের মাহমুদুল হাসান মুন্না এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ৫৪তম ব্যাচের মো. বায়জীদ হোসেন। ভুক্তভোগী দুজনের একজন এসএসসি পড়ুয়া এবং অন্যজন এইচএসসি পড়ুয়া শিক্ষার্থী।
অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী দুই ভাইবোন ক্যাম্পাসে অবস্থানকালে অভিযুক্ত দুই শিক্ষার্থী তাদের রাস্তা আটকান। এ সময় তাদের কাছে থাকা মুঠোফোন ও মানিব্যাগ নিয়ে তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামের পেছনে যেতে বাধ্য করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, অডিটোরিয়ামের পেছনে নেওয়ার পর অভিযুক্তরা ভুক্তভোগীদের মুঠোফোন তল্লাশি করেন, গালিগালাজ করেন এবং বিষয়টি কাউকে জানালে মারধরের হুমকি দেন। পরে তারা ‘গাঁজার স্টিক’ তৈরি করে ভুক্তভোগীদের সামনে বসে সেবন করেন। একপর্যায়ে আরও কয়েকজন সেখানে এলে "তারাও মরবে" বলে ভয় দেখিয়ে ভুক্তভোগীদের মানিব্যাগ ফেরত না দিয়েই চলে যেতে বাধ্য করা হয়।
ঘটনার বিষয়ে মো. মাহফুজুর রহমান বলেন, “আজকের ঘটনার যারা ভিক্টিম তারা আমার আত্মীয় এবং তারা আমার সাথে জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সিটির পাশে জামসিং এলাকায় থাকে। আমরা সিসিটিভি ফুটেজে দেখছিলাম যে তারা একজন দাঁড়িয়েছিল আরেকজন ছবি তুলছে। এই সময় দুইজন ছেলে আসে। তারা ওদের সাথে ফাপড়বাজি করে গালিগালাজ করে এবং যৌনহেনস্তামূলক কথা বলে। এমনকি ফুটেজে আমরা এটাও দেখছিলাম যখন ক্যামেরার নিচ দিয়ে পাড় হচ্ছে তখন বলছে, "উল্টাপাল্টা করলে কিন্তু তোরে মাইরা ফালামু"। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মত এরকম একটা জায়গায় নারীদের জন্য এতখানি অনিরাপদ হয়ে উঠবে এটা কোনভাবে কাম্য নয়।”
অভিযোগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক আব্দুস সাত্তার জয় বলেন, “আমরা সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখেছি পুরো ঘটনাটা এবং দেখার পর আমরা পুরো বিষয়টাই নিশ্চিত হয়েছি। ভিক্টিম লিখিত আবেদন করেছেন, আমরা অভিযোগ পেয়েছি। এখন এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে নিয়মতান্ত্রিকভাবে যে ব্যবস্থা নেওয়ার আমরা সেই ব্যবস্থা নিব।”
মুন্না ও বায়জীদের বিরুদ্ধে পূর্বেও অভিযোগ আছে এমন দাবির প্রেক্ষিতে সহকারী প্রক্টর বলেন, “প্রক্টর অফিসে যদি এরকম কোন ডকুমেন্ট থাকে আমরা খুঁজে বের করব। আজকের অভিযোগের সাথে ওইটাকেও আমরা সংযুক্ত করব।”

বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) দুই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে দুই বহিরাগতকে আটকে রেখে হেনস্তা, র্যাগিং, যৌন হয়রানি ও ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান মিলনায়তনের পিছনে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগীদের আত্মীয় মো. মাহফুজুর রহমান। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের ৪৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থী।
অভিযুক্ত দুই শিক্ষার্থী হলেন নৃবিজ্ঞান বিভাগের ৫৪তম ব্যাচের মাহমুদুল হাসান মুন্না এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ৫৪তম ব্যাচের মো. বায়জীদ হোসেন। ভুক্তভোগী দুজনের একজন এসএসসি পড়ুয়া এবং অন্যজন এইচএসসি পড়ুয়া শিক্ষার্থী।
অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী দুই ভাইবোন ক্যাম্পাসে অবস্থানকালে অভিযুক্ত দুই শিক্ষার্থী তাদের রাস্তা আটকান। এ সময় তাদের কাছে থাকা মুঠোফোন ও মানিব্যাগ নিয়ে তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামের পেছনে যেতে বাধ্য করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, অডিটোরিয়ামের পেছনে নেওয়ার পর অভিযুক্তরা ভুক্তভোগীদের মুঠোফোন তল্লাশি করেন, গালিগালাজ করেন এবং বিষয়টি কাউকে জানালে মারধরের হুমকি দেন। পরে তারা ‘গাঁজার স্টিক’ তৈরি করে ভুক্তভোগীদের সামনে বসে সেবন করেন। একপর্যায়ে আরও কয়েকজন সেখানে এলে "তারাও মরবে" বলে ভয় দেখিয়ে ভুক্তভোগীদের মানিব্যাগ ফেরত না দিয়েই চলে যেতে বাধ্য করা হয়।
ঘটনার বিষয়ে মো. মাহফুজুর রহমান বলেন, “আজকের ঘটনার যারা ভিক্টিম তারা আমার আত্মীয় এবং তারা আমার সাথে জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সিটির পাশে জামসিং এলাকায় থাকে। আমরা সিসিটিভি ফুটেজে দেখছিলাম যে তারা একজন দাঁড়িয়েছিল আরেকজন ছবি তুলছে। এই সময় দুইজন ছেলে আসে। তারা ওদের সাথে ফাপড়বাজি করে গালিগালাজ করে এবং যৌনহেনস্তামূলক কথা বলে। এমনকি ফুটেজে আমরা এটাও দেখছিলাম যখন ক্যামেরার নিচ দিয়ে পাড় হচ্ছে তখন বলছে, "উল্টাপাল্টা করলে কিন্তু তোরে মাইরা ফালামু"। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মত এরকম একটা জায়গায় নারীদের জন্য এতখানি অনিরাপদ হয়ে উঠবে এটা কোনভাবে কাম্য নয়।”
অভিযোগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক আব্দুস সাত্তার জয় বলেন, “আমরা সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখেছি পুরো ঘটনাটা এবং দেখার পর আমরা পুরো বিষয়টাই নিশ্চিত হয়েছি। ভিক্টিম লিখিত আবেদন করেছেন, আমরা অভিযোগ পেয়েছি। এখন এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে নিয়মতান্ত্রিকভাবে যে ব্যবস্থা নেওয়ার আমরা সেই ব্যবস্থা নিব।”
মুন্না ও বায়জীদের বিরুদ্ধে পূর্বেও অভিযোগ আছে এমন দাবির প্রেক্ষিতে সহকারী প্রক্টর বলেন, “প্রক্টর অফিসে যদি এরকম কোন ডকুমেন্ট থাকে আমরা খুঁজে বের করব। আজকের অভিযোগের সাথে ওইটাকেও আমরা সংযুক্ত করব।”

আপনার মতামত লিখুন