বিপ্লবী বার্তা

মূল পাতা

সারাদেশ

ধান ক্রয়ে অনিয়মের সংবাদ প্রকাশ, সাংবাদিককে খাদ্য কর্মকর্তার গালাগাল

মো: নূর আলম
মো: নূর আলম নেত্রকোনা
প্রকাশ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ
ধান ক্রয়ে অনিয়মের সংবাদ প্রকাশ, সাংবাদিককে খাদ্য কর্মকর্তার গালাগাল
ছবিঃ বিপ্লবী বার্তা

সাড়ে তিন কোটি টাকার ধান সংগ্রহে অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিককে অশালীন ভাষায় গালাগাল করার অভিযোগ উঠেছে সদ্য বদলি হওয়া নেত্রকোণা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোয়েতাছেমুর রহমানের বিরুদ্ধে। ঘটনার একটি কল রেকর্ড সাংবাদিকদের হাতে এসেছে।

দৈনিক আজকের পত্রিকার নেত্রকোণা জেলা প্রতিনিধি সাইফুল আরিফ জুয়েলের মুঠোফোনে কল করে তাকে অশালীন ভাষায় গালাগাল করেন মোয়েতাছেমুর রহমান। একপর্যায়ে তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, জেলার দুর্গাপুর উপজেলার বিরিশিরি খাদ্যগুদামে একই কৃষকের নামে একাধিকবার ধান কেনা, অস্তিত্বহীন বা ‘গায়েবি’ কৃষকের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ এবং কাগজপত্রে ধান কেনাকাটার তথ্য উঠে আসে খাদ্য অধিদপ্তরের তদন্তে। এসব অনিয়মের ঘটনায় খাদ্য অধিদপ্তরের তদন্তের পর গত ৩১ আগস্ট বিরিশিরি খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মেহেদী ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

এ ঘটনার পর গত ৯ সেপ্টেম্বর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোয়েতাছেমুর রহমানকে নেত্রকোণা থেকে বদলি করে ঢাকায় সংযুক্ত করা হয়। 

গত ১৩ সেপ্টেম্বর এ নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ করায় ওই প্রতিবেদকের ওপর চরম ক্ষিপ্ত হন মোয়েতাছেমুর রহমান।

খাদ্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, খাদ্য অধিদপ্তরের তদন্তে জেলার বিরিশিরি খাদ্যগুদামের ধান সংগ্রহ কার্যক্রমে অনিয়মের বিষয়টি তদন্তে উঠে আসে। এর পরিপ্রেক্ষিতেই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়।

বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিক সাইফুল আরিফ জুয়েল বলেন, বিরিশিরি খাদ্যগুদামে বেনামি ও গায়েবি কৃষকের কাছ থেকে ধান সংগ্রহের বিষয়টি খাদ্য অধিদপ্তরের তদন্তেই উঠে এসেছে। অনিয়মের কারণে গুদাম কর্মকর্তাকে বরখাস্ত এবং জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রককে বদলি করা হয়েছে। আমি সেই তথ্যের ভিত্তিতেই সংবাদ প্রকাশ করেছি। প্রতিবেদনে বদলি হওয়া কর্মকর্তার বক্তব্যও দেওয়া হয়েছে। এরপরও তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে ফোন করে অশালীন ভাষায় গালাগাল করেন এবং পরে ফোন কেটে দেন।

তিনি বলেন, একজন সরকারি কর্মকর্তার কাছ থেকে এমন আচরণ কাম্য নয়। খাদ্য অধিদপ্তরের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ণ রাখতে বিষয়টি তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

বিষয়টি নিয়ে মোয়েতাছেমুর রহমানের বক্তব্য জানতে তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

আপনার মতামত লিখুন

বিপ্লবী বার্তা

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ধান ক্রয়ে অনিয়মের সংবাদ প্রকাশ, সাংবাদিককে খাদ্য কর্মকর্তার গালাগাল

প্রকাশের তারিখ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

সাড়ে তিন কোটি টাকার ধান সংগ্রহে অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিককে অশালীন ভাষায় গালাগাল করার অভিযোগ উঠেছে সদ্য বদলি হওয়া নেত্রকোণা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোয়েতাছেমুর রহমানের বিরুদ্ধে। ঘটনার একটি কল রেকর্ড সাংবাদিকদের হাতে এসেছে।

দৈনিক আজকের পত্রিকার নেত্রকোণা জেলা প্রতিনিধি সাইফুল আরিফ জুয়েলের মুঠোফোনে কল করে তাকে অশালীন ভাষায় গালাগাল করেন মোয়েতাছেমুর রহমান। একপর্যায়ে তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, জেলার দুর্গাপুর উপজেলার বিরিশিরি খাদ্যগুদামে একই কৃষকের নামে একাধিকবার ধান কেনা, অস্তিত্বহীন বা ‘গায়েবি’ কৃষকের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ এবং কাগজপত্রে ধান কেনাকাটার তথ্য উঠে আসে খাদ্য অধিদপ্তরের তদন্তে। এসব অনিয়মের ঘটনায় খাদ্য অধিদপ্তরের তদন্তের পর গত ৩১ আগস্ট বিরিশিরি খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মেহেদী ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

এ ঘটনার পর গত ৯ সেপ্টেম্বর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোয়েতাছেমুর রহমানকে নেত্রকোণা থেকে বদলি করে ঢাকায় সংযুক্ত করা হয়। 

গত ১৩ সেপ্টেম্বর এ নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ করায় ওই প্রতিবেদকের ওপর চরম ক্ষিপ্ত হন মোয়েতাছেমুর রহমান।

খাদ্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, খাদ্য অধিদপ্তরের তদন্তে জেলার বিরিশিরি খাদ্যগুদামের ধান সংগ্রহ কার্যক্রমে অনিয়মের বিষয়টি তদন্তে উঠে আসে। এর পরিপ্রেক্ষিতেই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়।

বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিক সাইফুল আরিফ জুয়েল বলেন, বিরিশিরি খাদ্যগুদামে বেনামি ও গায়েবি কৃষকের কাছ থেকে ধান সংগ্রহের বিষয়টি খাদ্য অধিদপ্তরের তদন্তেই উঠে এসেছে। অনিয়মের কারণে গুদাম কর্মকর্তাকে বরখাস্ত এবং জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রককে বদলি করা হয়েছে। আমি সেই তথ্যের ভিত্তিতেই সংবাদ প্রকাশ করেছি। প্রতিবেদনে বদলি হওয়া কর্মকর্তার বক্তব্যও দেওয়া হয়েছে। এরপরও তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে ফোন করে অশালীন ভাষায় গালাগাল করেন এবং পরে ফোন কেটে দেন।

তিনি বলেন, একজন সরকারি কর্মকর্তার কাছ থেকে এমন আচরণ কাম্য নয়। খাদ্য অধিদপ্তরের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ণ রাখতে বিষয়টি তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

বিষয়টি নিয়ে মোয়েতাছেমুর রহমানের বক্তব্য জানতে তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।



বিপ্লবী বার্তা

প্রকাশক
শেখ মাহমুদ উজ্জ্বল
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
কাইয়ুম তালুকদার (কানন)
উপদেষ্টা সম্পাদক
ড. জাহিদ আহমেদ চৌধুরী

কপিরাইট © ২০২৬ । বিপ্লবী বার্তা