বাগেরহাটের মুনিগঞ্জ ব্রিজের টোলঘর নির্মাণকে কেন্দ্র করে জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) বিরোধ দেখা দিয়েছে। দোকানের সামনে টোলঘর নির্মাণ করা হলে ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন জমির মালিক মোঃ সেলিম মোল্লা। তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নালিশি জমিতে স্থিতাবস্থা (Status Quo) বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বাগেরহাট সদর সিভিল জজ আদালতের সিভিল জজ মন্টু কুমার সানা স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ নির্দেশ দেওয়া হয়।
মোঃ সেলিম মোল্লার দাবি, মুনিগঞ্জ চিতলমারী সড়কের মুনিগঞ্জ ব্রিজের উত্তর পাশে, চিতলমারীর দিকে সড়কের বাম পাশে তার ব্যবসায়িক দোকানঘর রয়েছে। ওই দোকানের সামনে টোলঘর নির্মাণ করা হলে ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতির মুখে পড়বেন তিনি। তাই দোকানের সামনে টোলঘর নির্মাণ না করে আশপাশের সরকারি জায়গায় তা নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
এর আগে জেলা পরিষদের প্রশাসকের কাছে দেওয়া লিখিত অভিযোগেও একই দাবি জানান সেলিম মোল্লা। অভিযোগে তিনি বলেন, পূর্বনির্ধারিত অবস্থানের পরিবর্তে তার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের সামনে টোলঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে তিনি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
সেলিম মোল্লার বাবা আব্দুর রশিদ মোল্লা বলেন, আমি প্রায় পাঁচ বছর ধরে এই জায়গা ভোগদখল করছি। জায়গাটি আগে নিচু ছিল। আমরা বালু দিয়ে ভরাট করে ভিত করেছি। আমার জায়গার দুই পাশেই সরকারি জায়গা রয়েছে। কিন্তু ওই জায়গায় না গিয়ে আমাদের মার্কেটের সামনে টোলঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। আমরা টোলঘর নির্মাণের বিরোধী নই। সরকারি জায়গার যেকোনো এক পাশে এটি নির্মাণ করা হলে আমাদের জন্য ভালো হয়।
মোঃ গিয়াস উদ্দিন তালুকদার বলেন, জায়গাটি আগে নিচু ছিল এবং পানি জমে থাকত। আমরা বালু দিয়ে ভরাট করে জায়গাটি ব্যবহারযোগ্য করেছি। আমাদের মার্কেটের সামনে টোলঘর হলে ব্যবসায় অনেক ক্ষতি হবে। আমরা টোলঘর নির্মাণের বিরোধী নই। আশপাশে সরকারি জায়গা থাকা সত্ত্বেও মার্কেটের সামনে নির্মাণ না করে অন্য জায়গায় করলে আমাদের জন্য ভালো হয়।
তিনি আরও বলেন,সরকার চাইলে আমরা সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। তবে এ জায়গা নিয়ে আদালতে মামলা চলমান থাকা অবস্থায় কীভাবে এখানে কাজ শুরু হচ্ছে, তা আমাদের জানা নেই। সরকার আমাদের বিষয়টি বিবেচনা করে টোলঘরটি কিছুটা সরিয়ে সরকারি জায়গায় নির্মাণ করলে আমরা উপকৃত হব।
জমির মালিক মোঃ সেলিম মোল্লার অভিযোগ, আদালত নালিশি জমি বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ দিলেও তা অনুসরণ না করেই সড়ক বিভাগ সেখানে নির্মাণকাজ শুরু করেছে। তিনি বলেন, আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। মামলার নথির কাগজ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পৌঁছানোর আগেই সড়ক বিভাগ কাজ শুরু করে দিয়েছে। আদালত থেকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হলেও সেটি অমান্য করে কাজ শুরু করা হয়েছে বলে আমরা মনে করছি।
তিনী আরও দাবি করেন, তিনি ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা প্রায় পাঁচ বছর ধরে ওই জায়গা ভোগদখল করে আসছেন। জায়গাটি আগে নিচু থাকায় তারা বালু দিয়ে ভরাট করে ব্যবসায়িক কাজে ব্যবহার করছেন।
এ বিষয়ে বাগেরহাট সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী (সওজ) মোঃ আশরাফুল ইসলামের বক্তব্য জানতে ফোন করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বাগেরহাটের মুনিগঞ্জ ব্রিজের টোলঘর নির্মাণকে কেন্দ্র করে জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) বিরোধ দেখা দিয়েছে। দোকানের সামনে টোলঘর নির্মাণ করা হলে ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন জমির মালিক মোঃ সেলিম মোল্লা। তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নালিশি জমিতে স্থিতাবস্থা (Status Quo) বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বাগেরহাট সদর সিভিল জজ আদালতের সিভিল জজ মন্টু কুমার সানা স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ নির্দেশ দেওয়া হয়।
মোঃ সেলিম মোল্লার দাবি, মুনিগঞ্জ চিতলমারী সড়কের মুনিগঞ্জ ব্রিজের উত্তর পাশে, চিতলমারীর দিকে সড়কের বাম পাশে তার ব্যবসায়িক দোকানঘর রয়েছে। ওই দোকানের সামনে টোলঘর নির্মাণ করা হলে ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতির মুখে পড়বেন তিনি। তাই দোকানের সামনে টোলঘর নির্মাণ না করে আশপাশের সরকারি জায়গায় তা নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
এর আগে জেলা পরিষদের প্রশাসকের কাছে দেওয়া লিখিত অভিযোগেও একই দাবি জানান সেলিম মোল্লা। অভিযোগে তিনি বলেন, পূর্বনির্ধারিত অবস্থানের পরিবর্তে তার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের সামনে টোলঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে তিনি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
সেলিম মোল্লার বাবা আব্দুর রশিদ মোল্লা বলেন, আমি প্রায় পাঁচ বছর ধরে এই জায়গা ভোগদখল করছি। জায়গাটি আগে নিচু ছিল। আমরা বালু দিয়ে ভরাট করে ভিত করেছি। আমার জায়গার দুই পাশেই সরকারি জায়গা রয়েছে। কিন্তু ওই জায়গায় না গিয়ে আমাদের মার্কেটের সামনে টোলঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। আমরা টোলঘর নির্মাণের বিরোধী নই। সরকারি জায়গার যেকোনো এক পাশে এটি নির্মাণ করা হলে আমাদের জন্য ভালো হয়।
মোঃ গিয়াস উদ্দিন তালুকদার বলেন, জায়গাটি আগে নিচু ছিল এবং পানি জমে থাকত। আমরা বালু দিয়ে ভরাট করে জায়গাটি ব্যবহারযোগ্য করেছি। আমাদের মার্কেটের সামনে টোলঘর হলে ব্যবসায় অনেক ক্ষতি হবে। আমরা টোলঘর নির্মাণের বিরোধী নই। আশপাশে সরকারি জায়গা থাকা সত্ত্বেও মার্কেটের সামনে নির্মাণ না করে অন্য জায়গায় করলে আমাদের জন্য ভালো হয়।
তিনি আরও বলেন,সরকার চাইলে আমরা সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। তবে এ জায়গা নিয়ে আদালতে মামলা চলমান থাকা অবস্থায় কীভাবে এখানে কাজ শুরু হচ্ছে, তা আমাদের জানা নেই। সরকার আমাদের বিষয়টি বিবেচনা করে টোলঘরটি কিছুটা সরিয়ে সরকারি জায়গায় নির্মাণ করলে আমরা উপকৃত হব।
জমির মালিক মোঃ সেলিম মোল্লার অভিযোগ, আদালত নালিশি জমি বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ দিলেও তা অনুসরণ না করেই সড়ক বিভাগ সেখানে নির্মাণকাজ শুরু করেছে। তিনি বলেন, আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। মামলার নথির কাগজ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পৌঁছানোর আগেই সড়ক বিভাগ কাজ শুরু করে দিয়েছে। আদালত থেকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হলেও সেটি অমান্য করে কাজ শুরু করা হয়েছে বলে আমরা মনে করছি।
তিনী আরও দাবি করেন, তিনি ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা প্রায় পাঁচ বছর ধরে ওই জায়গা ভোগদখল করে আসছেন। জায়গাটি আগে নিচু থাকায় তারা বালু দিয়ে ভরাট করে ব্যবসায়িক কাজে ব্যবহার করছেন।
এ বিষয়ে বাগেরহাট সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী (সওজ) মোঃ আশরাফুল ইসলামের বক্তব্য জানতে ফোন করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

আপনার মতামত লিখুন