বিপ্লবী বার্তা

মূল পাতা

শিক্ষাঙ্গন

দোকান দখল নিয়ে জাবিতে দফায় দফায় সংঘর্ষ, আহত অন্তত ১০

নাফিজ আল জাকারিয়া
নাফিজ আল জাকারিয়া জাবি
প্রকাশ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ
দোকান দখল নিয়ে জাবিতে দফায় দফায় সংঘর্ষ, আহত অন্তত ১০
ছবি : বিপ্লবী বার্তা

​জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) ছেলেদের আবাসিক হল সংলগ্ন খাবারের দোকান দখলকে কেন্দ্র করে দুইটি হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হল ও বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ঘটা এ সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। এ ছাড়া বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের ছোড়া ইটপাটকেলের আঘাতে আহত হয়েছেন এক শিক্ষক।

​আজ সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রফিক-জব্বার হল চত্বর মোড়ে দুই হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়, যা একপর্যায়ে হাতাহাতি ও সংঘর্ষে রূপ নেয়। বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত মোট চার দফায় এই সংঘর্ষ চলে।

​প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, নজরুল হলের সামনে অবস্থিত রবীন্দ্রনাথ হলের নিয়ন্ত্রণাধীন চারটি খাবারের দোকানে নজরুল হলের শিক্ষার্থীরা তালা লাগাবেন, এমন খবর পেয়ে রবীন্দ্রনাথ হলের শিক্ষার্থীরা ওই দোকানগুলোর সামনে অবস্থান নেন এবং স্লোগান দিতে থাকেন। এ সময় নজরুল হলের শতাধিক শিক্ষার্থী বের হয়ে এলে দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয় এবং তা একপর্যায়ে সংঘর্ষে রুপ নেয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, নজরুল হলের কিছু শিক্ষার্থী রবীন্দ্রনাথ হলের অধীন ওই চারটি খাবারের দোকানের সাইনবোর্ড ভেঙে ফেলেন। এ সময় নজরুল হলের কয়েকজনকে হেলমেট পরা অবস্থায় রড, বাঁশ ও কাঠের টুকরা হাতে দেখা যায়। ভাঙচুর ও হামলার প্রতিবাদে রবীন্দ্রনাথ হলের শিক্ষার্থীরা প্রতিহত করতে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। 

একপর্যায়ে উভয় পক্ষ একে অপরকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল, বাঁশ, কাঠ ও জুতা নিক্ষেপ করতে থাকে। সংঘর্ষ চলাকালে দুই হল সংসদের নেতারাসহ হলের একাধিক ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির কর্মী উপস্থিত ছিলেন বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

​খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, প্রক্টর অধ্যাপক জাকির হোসেন, সহকারী প্রক্টর ড. আবদুস সাত্তার এবং নিরাপত্তা শাখার কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। তবে প্রশাসনের উপস্থিতিতেই শিক্ষার্থীরা আবারও সংঘর্ষে জড়ান।

এ সময় ইটের আঘাতে আহত হন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের ওয়ার্ডেন ড. মির্জা এ টি এম তানভীর রহমান। তিনি জানান, “একটি ইটের টুকরা এসে আমার চশমায় লাগলে গ্লাস ভেঙে চোখে আঘাত পাই। তবে আঘাত মারাত্মক নয়।”

​বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্র ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সংঘর্ষে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের ৫ জন এবং কাজী নজরুল ইসলাম হলের ৫ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। 

রবীন্দ্রনাথ হলের আহতরা হলেন—আলী আরাফাত (৫৩ ব্যাচ), আদনান আল মাহাদী (৫২ ব্যাচ), রাবিদ (৫২ ব্যাচ), শিমন হোসেন (৫৩ ব্যাচ) এবং মো. আরাফাত (৫৫ ব্যাচ)। এর মধ্যে আলী আরাফাত মাথায় এবং রাবিদ কপালে গুরুতর আঘাত পাওয়ায় তাঁদের সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। 

অন্যদিকে নজরুল হলের আহতরা হলেন—রেদওয়ান (৫২ ব্যাচ), রোহান (৫২ ব্যাচ), কাজী রোকনুজ্জামান (৫৫ ব্যাচ), স্বাধীন (৫৫ ব্যাচ) ও আশরাফুল ইসলাম আবিদ (৫৩ ব্যাচ)। তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

​পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট হলের দায়িত্বরত শিক্ষকদের উপস্থিতিতে বিকেল সাড়ে চারটার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ হলের সামনে ফিরে গিয়ে অবস্থান নেন।

সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর জাকির হোসেন বলেন, “সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। আমরা দ্রুত তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছি। পরিস্থিতি পুরোপুরি শান্ত হলে বিষয়টি সমাধানের লক্ষ্যে উভয় হলের প্রতিনিধি ও প্রশাসনের সমন্বয়ে বৈঠক ডেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

জাবি সংঘর্ষ

আপনার মতামত লিখুন

বিপ্লবী বার্তা

সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬


দোকান দখল নিয়ে জাবিতে দফায় দফায় সংঘর্ষ, আহত অন্তত ১০

প্রকাশের তারিখ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

​জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) ছেলেদের আবাসিক হল সংলগ্ন খাবারের দোকান দখলকে কেন্দ্র করে দুইটি হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হল ও বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ঘটা এ সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। এ ছাড়া বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের ছোড়া ইটপাটকেলের আঘাতে আহত হয়েছেন এক শিক্ষক।

​আজ সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রফিক-জব্বার হল চত্বর মোড়ে দুই হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়, যা একপর্যায়ে হাতাহাতি ও সংঘর্ষে রূপ নেয়। বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত মোট চার দফায় এই সংঘর্ষ চলে।

​প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, নজরুল হলের সামনে অবস্থিত রবীন্দ্রনাথ হলের নিয়ন্ত্রণাধীন চারটি খাবারের দোকানে নজরুল হলের শিক্ষার্থীরা তালা লাগাবেন, এমন খবর পেয়ে রবীন্দ্রনাথ হলের শিক্ষার্থীরা ওই দোকানগুলোর সামনে অবস্থান নেন এবং স্লোগান দিতে থাকেন। এ সময় নজরুল হলের শতাধিক শিক্ষার্থী বের হয়ে এলে দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয় এবং তা একপর্যায়ে সংঘর্ষে রুপ নেয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, নজরুল হলের কিছু শিক্ষার্থী রবীন্দ্রনাথ হলের অধীন ওই চারটি খাবারের দোকানের সাইনবোর্ড ভেঙে ফেলেন। এ সময় নজরুল হলের কয়েকজনকে হেলমেট পরা অবস্থায় রড, বাঁশ ও কাঠের টুকরা হাতে দেখা যায়। ভাঙচুর ও হামলার প্রতিবাদে রবীন্দ্রনাথ হলের শিক্ষার্থীরা প্রতিহত করতে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। 

একপর্যায়ে উভয় পক্ষ একে অপরকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল, বাঁশ, কাঠ ও জুতা নিক্ষেপ করতে থাকে। সংঘর্ষ চলাকালে দুই হল সংসদের নেতারাসহ হলের একাধিক ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির কর্মী উপস্থিত ছিলেন বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

​খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, প্রক্টর অধ্যাপক জাকির হোসেন, সহকারী প্রক্টর ড. আবদুস সাত্তার এবং নিরাপত্তা শাখার কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। তবে প্রশাসনের উপস্থিতিতেই শিক্ষার্থীরা আবারও সংঘর্ষে জড়ান।

এ সময় ইটের আঘাতে আহত হন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের ওয়ার্ডেন ড. মির্জা এ টি এম তানভীর রহমান। তিনি জানান, “একটি ইটের টুকরা এসে আমার চশমায় লাগলে গ্লাস ভেঙে চোখে আঘাত পাই। তবে আঘাত মারাত্মক নয়।”

​বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্র ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সংঘর্ষে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের ৫ জন এবং কাজী নজরুল ইসলাম হলের ৫ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। 

রবীন্দ্রনাথ হলের আহতরা হলেন—আলী আরাফাত (৫৩ ব্যাচ), আদনান আল মাহাদী (৫২ ব্যাচ), রাবিদ (৫২ ব্যাচ), শিমন হোসেন (৫৩ ব্যাচ) এবং মো. আরাফাত (৫৫ ব্যাচ)। এর মধ্যে আলী আরাফাত মাথায় এবং রাবিদ কপালে গুরুতর আঘাত পাওয়ায় তাঁদের সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। 

অন্যদিকে নজরুল হলের আহতরা হলেন—রেদওয়ান (৫২ ব্যাচ), রোহান (৫২ ব্যাচ), কাজী রোকনুজ্জামান (৫৫ ব্যাচ), স্বাধীন (৫৫ ব্যাচ) ও আশরাফুল ইসলাম আবিদ (৫৩ ব্যাচ)। তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

​পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট হলের দায়িত্বরত শিক্ষকদের উপস্থিতিতে বিকেল সাড়ে চারটার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ হলের সামনে ফিরে গিয়ে অবস্থান নেন।

সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর জাকির হোসেন বলেন, “সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। আমরা দ্রুত তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছি। পরিস্থিতি পুরোপুরি শান্ত হলে বিষয়টি সমাধানের লক্ষ্যে উভয় হলের প্রতিনিধি ও প্রশাসনের সমন্বয়ে বৈঠক ডেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


বিপ্লবী বার্তা

প্রকাশক
শেখ মাহমুদ উজ্জ্বল
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
কাইয়ুম তালুকদার (কানন)
উপদেষ্টা সম্পাদক
ড. জাহিদ আহমেদ চৌধুরী

কপিরাইট © ২০২৬ । বিপ্লবী বার্তা