ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শহীদ আনাস হল ও লালন শাহ হলে অবৈধভাবে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের অপসারণ, মেধার ভিত্তিতে সিট বণ্টন ও স্থায়ী সিট বণ্টন নীতিমালা প্রণয়নসহ একাধিক দাবি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় হল শাখা ছাত্রশিবির। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুই হলের প্রভোস্টের কাছে দেওয়া পৃথক স্মারকলিপিতে এসব দাবি জানানো হয়।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, সহস্র ছাত্র-জনতার রক্তস্নাত অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অর্জিত নতুন বাংলাদেশে বৈষম্য ও অনাচারমুক্ত, ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠাই আমাদের প্রত্যাশা। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে নিরাপদ ক্যাম্পাস ও সুষ্ঠু শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। স্বাধীন বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত প্রথম সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়কে নিরাপদ ও শিক্ষার্থীবান্ধব প্রাঙ্গণ হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি আবাসিক হলে দীর্ঘদিনের বৈষম্যের অবসান ঘটিয়ে আদর্শ আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
শহীদ আনাস হল শাখা ছাত্রশিবিরের প্রস্তাবিত দাবি গুলো হলো- দ্রুত হলে অবৈধভাবে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের চিহ্নিত করে অপসারণ, মেধার ভিত্তিতে সিট বণ্টন এবং সিজিপিএ ও মেধাক্রমসহ পূর্ণাঙ্গ ওয়েটিং লিস্ট প্রকাশ, নতুন ব্লকের সিট বরাদ্দের জন্য দ্রুত ভাইভা নিয়ে মেধার ভিত্তিতে সিট নিশ্চিত করা, হলের সিট বণ্টনে সুস্পষ্ট ও স্থায়ী নীতিমালা প্রণয়ন এবং প্রতি ছয় মাস অন্তর নিয়মতান্ত্রিকভাবে অ্যালটমেন্ট দেওয়া, হলের নিরাপত্তায় পর্যাপ্ত সিসিটিভি স্থাপন ও আনসারদের সক্রিয় ভূমিকা নিশ্চিত করা, রিডিং রুমে এসি স্থাপন এবং ডাইনিংয়ে মানসম্মত, স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিতের পাশাপাশি নিয়মিত তদারকি ও অভিযোগ গ্রহণের কার্যকর ব্যবস্থা চালু করা।
এদিকে লালন শাহ হলে অবৈধ শিক্ষার্থী ও অছাত্র অপসারণ করে মেধার ভিত্তিতে আসন বরাদ্দ, সিজিপিএ ও মেধাক্রমসহ পূর্ণাঙ্গ ওয়েটিং লিস্ট প্রকাশ এবং নিয়মিত মনিটরিং নিশ্চিতকরণ; স্থায়ী ও লিখিত আসন বরাদ্দ নীতিমালা প্রণয়ন করে প্রতি ৬ মাস অন্তর আসন বরাদ্দ; হলের নিরাপত্তা জোরদারে পর্যাপ্ত সিসিটিভি স্থাপন ও নিয়মিত মনিটরিং; ডাইনিংয়ের খাবারের মান ও পুষ্টিগুণ নিশ্চিতকরণ; রিডিং রুমে পর্যাপ্ত এসি স্থাপন; এবং পুরাতন পানির ফিল্টারগুলো মেরামতের মাধ্যমে বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ নিশ্চিতকরণের দাবি জানিয়েছে হল শাখা ছাত্রশিবির।
লালন শাহ হলের প্রভোস্ট সহযোগী অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, তোমাদের দাবিগুলোর সঙ্গে আমি একমত। অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে হলে অবৈধভাবে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তোমাদের অন্যান্য দাবিগুলোও পর্যায়ক্রমে পূরণ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে রিডিং রুমে এসি স্থাপনের বিষয়টি প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে তারা সিদ্ধান্ত নেবে।
শহীদ আনাস হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আবদুল কাদের বলেন, অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে এবং ইতোমধ্যে কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। যারা গেস্ট হিসেবে হলে অবস্থান করছে, তাদের ৩১ আগস্টের মধ্যে সিট ছেড়ে দেওয়ার জন্য সময় দেওয়া হয়েছিল। এ সপ্তাহের মধ্যে হলে মোট কতজন অনাবাসিক শিক্ষার্থী রয়েছে এবং তারা কার মাধ্যমে এসেছে, তা চিহ্নিত করা হবে। এরপর অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের সিট খালি করে মেধার ভিত্তিতে সিট বরাদ্দ দেওয়া হবে। বর্তমানে হলে সিট বরাদ্দের ক্ষেত্রে মেধাক্রমকে প্রধান্য দেওয়া হয়; ফলাফল সমান হলে দূরবর্তী এলাকার শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয় এবং সব বিভাগ ও সেশনকে সমন্বয় করে সিট দেওয়া হয়। ডিসেম্বরের মধ্যে ভবন হস্তান্তরের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ভবন হস্তান্তরের সময় নিশ্চিত না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা ও পরবর্তী জটিলতা এড়াতে নির্ধারিত ভাইভা আপাতত স্থগিত করা হয়েছে।
শহীদ আনাস হলের সভাপতি মহিবুল্লাহ আল আজহার লালন শাহ হল সভাপতি আল মামুনের নেতৃত্বে প্রভোস্ট বরাবর এ স্মারকলিপি প্রধান করা হয়।

রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শহীদ আনাস হল ও লালন শাহ হলে অবৈধভাবে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের অপসারণ, মেধার ভিত্তিতে সিট বণ্টন ও স্থায়ী সিট বণ্টন নীতিমালা প্রণয়নসহ একাধিক দাবি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় হল শাখা ছাত্রশিবির। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুই হলের প্রভোস্টের কাছে দেওয়া পৃথক স্মারকলিপিতে এসব দাবি জানানো হয়।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, সহস্র ছাত্র-জনতার রক্তস্নাত অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অর্জিত নতুন বাংলাদেশে বৈষম্য ও অনাচারমুক্ত, ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠাই আমাদের প্রত্যাশা। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে নিরাপদ ক্যাম্পাস ও সুষ্ঠু শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। স্বাধীন বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত প্রথম সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়কে নিরাপদ ও শিক্ষার্থীবান্ধব প্রাঙ্গণ হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি আবাসিক হলে দীর্ঘদিনের বৈষম্যের অবসান ঘটিয়ে আদর্শ আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
শহীদ আনাস হল শাখা ছাত্রশিবিরের প্রস্তাবিত দাবি গুলো হলো- দ্রুত হলে অবৈধভাবে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের চিহ্নিত করে অপসারণ, মেধার ভিত্তিতে সিট বণ্টন এবং সিজিপিএ ও মেধাক্রমসহ পূর্ণাঙ্গ ওয়েটিং লিস্ট প্রকাশ, নতুন ব্লকের সিট বরাদ্দের জন্য দ্রুত ভাইভা নিয়ে মেধার ভিত্তিতে সিট নিশ্চিত করা, হলের সিট বণ্টনে সুস্পষ্ট ও স্থায়ী নীতিমালা প্রণয়ন এবং প্রতি ছয় মাস অন্তর নিয়মতান্ত্রিকভাবে অ্যালটমেন্ট দেওয়া, হলের নিরাপত্তায় পর্যাপ্ত সিসিটিভি স্থাপন ও আনসারদের সক্রিয় ভূমিকা নিশ্চিত করা, রিডিং রুমে এসি স্থাপন এবং ডাইনিংয়ে মানসম্মত, স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিতের পাশাপাশি নিয়মিত তদারকি ও অভিযোগ গ্রহণের কার্যকর ব্যবস্থা চালু করা।
এদিকে লালন শাহ হলে অবৈধ শিক্ষার্থী ও অছাত্র অপসারণ করে মেধার ভিত্তিতে আসন বরাদ্দ, সিজিপিএ ও মেধাক্রমসহ পূর্ণাঙ্গ ওয়েটিং লিস্ট প্রকাশ এবং নিয়মিত মনিটরিং নিশ্চিতকরণ; স্থায়ী ও লিখিত আসন বরাদ্দ নীতিমালা প্রণয়ন করে প্রতি ৬ মাস অন্তর আসন বরাদ্দ; হলের নিরাপত্তা জোরদারে পর্যাপ্ত সিসিটিভি স্থাপন ও নিয়মিত মনিটরিং; ডাইনিংয়ের খাবারের মান ও পুষ্টিগুণ নিশ্চিতকরণ; রিডিং রুমে পর্যাপ্ত এসি স্থাপন; এবং পুরাতন পানির ফিল্টারগুলো মেরামতের মাধ্যমে বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ নিশ্চিতকরণের দাবি জানিয়েছে হল শাখা ছাত্রশিবির।
লালন শাহ হলের প্রভোস্ট সহযোগী অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, তোমাদের দাবিগুলোর সঙ্গে আমি একমত। অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে হলে অবৈধভাবে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তোমাদের অন্যান্য দাবিগুলোও পর্যায়ক্রমে পূরণ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে রিডিং রুমে এসি স্থাপনের বিষয়টি প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে তারা সিদ্ধান্ত নেবে।
শহীদ আনাস হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আবদুল কাদের বলেন, অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে এবং ইতোমধ্যে কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। যারা গেস্ট হিসেবে হলে অবস্থান করছে, তাদের ৩১ আগস্টের মধ্যে সিট ছেড়ে দেওয়ার জন্য সময় দেওয়া হয়েছিল। এ সপ্তাহের মধ্যে হলে মোট কতজন অনাবাসিক শিক্ষার্থী রয়েছে এবং তারা কার মাধ্যমে এসেছে, তা চিহ্নিত করা হবে। এরপর অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের সিট খালি করে মেধার ভিত্তিতে সিট বরাদ্দ দেওয়া হবে। বর্তমানে হলে সিট বরাদ্দের ক্ষেত্রে মেধাক্রমকে প্রধান্য দেওয়া হয়; ফলাফল সমান হলে দূরবর্তী এলাকার শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয় এবং সব বিভাগ ও সেশনকে সমন্বয় করে সিট দেওয়া হয়। ডিসেম্বরের মধ্যে ভবন হস্তান্তরের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ভবন হস্তান্তরের সময় নিশ্চিত না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা ও পরবর্তী জটিলতা এড়াতে নির্ধারিত ভাইভা আপাতত স্থগিত করা হয়েছে।
শহীদ আনাস হলের সভাপতি মহিবুল্লাহ আল আজহার লালন শাহ হল সভাপতি আল মামুনের নেতৃত্বে প্রভোস্ট বরাবর এ স্মারকলিপি প্রধান করা হয়।

আপনার মতামত লিখুন