বিপ্লবী বার্তা

মূল পাতা

শিক্ষাঙ্গন

মেয়াদ শেষের চার মাস আগেই চবির শিক্ষক নিয়োগ বোর্ড পুনর্গঠন

মো. রাব্বি হোসেন
মো. রাব্বি হোসেন চবি
প্রকাশ : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ
মেয়াদ শেষের চার মাস আগেই চবির শিক্ষক নিয়োগ বোর্ড পুনর্গঠন
ছবি : বিপ্লবী বার্তা

মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় চার মাস আগেই সহকারী অধ্যাপক ও প্রভাষক পদে শিক্ষক নিয়োগের নির্বাচনী বোর্ড পুনর্গঠন করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) কর্তৃপক্ষ। 

বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী, সিন্ডিকেট মনোনীত নির্বাচনী বোর্ডের দুই সদস্যের মেয়াদ থাকে দুই বছর। তবে আগের প্রশাসনের গঠিত বোর্ডের দুই বছর মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই তা পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছে বর্তমান প্রশাসন।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৬৮তম সিন্ডিকেট সভায় সহকারী অধ্যাপক ও প্রভাষক পদে শিক্ষক নিয়োগের নির্বাচনী বোর্ড পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়। বিকেল ৪টায় শুরু হওয়া সভাটি রাত সাড়ে ৮টার দিকে শেষ হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মো. হাছান মিয়া। তিনি সিন্ডিকেট সভায় সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি বলেন, “নিয়োগ বোর্ড গঠনের জন্য আগের সিন্ডিকেটগুলো থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এর ধারাবাহিকতাই আজকের সভায় সহকারী অধ্যাপক ও প্রভাষক ক্যাটাগরিতে শিক্ষক নিয়োগে নির্বাচনী বোর্ড পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়েছে।”

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, এর আগে ২০২৫ সালের ৪ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত ৫৫৮তম সিন্ডিকেট সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষদ, বিভাগ ও ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক ও প্রভাষক পদে শিক্ষক নিয়োগের জন্য নির্বাচনী বোর্ড গঠন করা হয়। এতে প্রতিটি বিভাগে দুই বছরের জন্য দুজন করে বিশেষজ্ঞ সদস্য মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল।

আইন অনুযায়ী, ওই সদস্যদের মেয়াদ ২০২৭ সালের ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত থাকার কথা। সে হিসাবে ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত পূর্বের বোর্ডের মেয়াদ হয়েছে ৬০৮ দিন। অর্থাৎ দুই বছর পূর্ণ হওয়ার প্রায় চার মাস আগেই নতুন বোর্ড গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ১৯৭৩-এর প্রথম সংবিধির ৫ নম্বর অনুচ্ছেদের ২ নম্বর ধারায় সহকারী অধ্যাপক, প্রভাষক এবং অন্যান্য গবেষণা ও শিক্ষকতা পদে নিয়োগের সুপারিশ প্রদানের জন্য নির্বাচনী বোর্ড গঠনের বিধান রয়েছে।

বিধান অনুযায়ী, এ ধরনের নির্বাচনী বোর্ডে সিন্ডিকেট কর্তৃক দুজন সদস্য মনোনীত হন। মনোনয়নের তারিখ থেকে তাঁদের মেয়াদ দুই বছর। বোর্ডের সভাপতি হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের সভাপতি সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ফলে মোট চার সদস্যের বোর্ডের মাধ্যমে সহকারী অধ্যাপক ও প্রভাষক পদে নিয়োগের সুপারিশ করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় আইনে অধ্যাপক ও সহযোগী অধ্যাপক পদে নিয়োগের জন্য একটি এবং সহকারী অধ্যাপক ও প্রভাষক পদে নিয়োগের জন্য পৃথক নির্বাচনী বোর্ডের বিধান রয়েছে।




তড়িঘড়ি করে সিন্ডিকেট সভা আয়োজনের অভিযোগ :

এদিকে সিন্ডিকেট সভা আয়োজন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী, সিন্ডিকেট সভার আলোচ্যসূচি সভার অন্তত সাত দিন আগে সদস্যদের কাছে পাঠানোর বিধান রয়েছে।

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দপ্তর সূত্রের দাবি, ৪ সেপ্টেম্বরের সভার আলোচ্যসূচি জরুরি ভিত্তিতে এর আগের রাতে সিন্ডিকেট সদস্যদের কাছে পাঠানো হয়। পরে উপাচার্যের আহ্বানে শুক্রবার সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

নির্বাচিত সদস্যকে বাদ দিয়ে সভা, সাদা দলের প্রতিবাদ:

সিন্ডিকেটে অধ্যাপক ক্যাটাগরির নির্বাচিত সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খানকে সভায় আমন্ত্রণ না জানানোর প্রতিবাদ জানিয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সাদা দল’।

সিন্ডিকেট সভা শুরুর আগে বিকেল ৩টার দিকে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নেছারুল করিমের নেতৃত্বে সাদা দলের জ্যেষ্ঠ সদস্যদের একটি প্রতিনিধি দল উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। এ সময় তারা সভা স্থগিত করার দাবি জানান এবং অধ্যাপক শামীম উদ্দিন খানকে অন্তর্ভুক্ত করে সভা আয়োজনের আহ্বান জানান। পরে তাকে ছাড়াই সিন্ডিকেট সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সাক্ষাৎকালে সাদা দলের পক্ষ থেকে উপাচার্যের কাছে একটি চিঠিও দেওয়া হয়। দলের অন্তর্বর্তীকালীন স্টিয়ারিং কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. শাহাদাত হোছাইন স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বলা হয়, সিন্ডিকেটে অধ্যাপক ক্যাটাগরির সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খানকে সভায় আমন্ত্রণ না জানানোয় শিক্ষক সমাজের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, অধ্যাপক শামীম উদ্দিন খানের সিন্ডিকেট সদস্যপদ নিয়ে আইনি বিতর্কের নিষ্পত্তির লক্ষ্যে চেম্বার জজ আদালত হাইকোর্টকে দুই সপ্তাহের মধ্যে বিষয়টি নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছেন। এ অবস্থায় আইনি নিষ্পত্তির পর সিন্ডিকেট সভা আহ্বান করা অথবা অধ্যাপক শামীম উদ্দিন খানকে অন্তর্ভুক্ত করেই সভা আয়োজন করা যুক্তিযুক্ত ছিল বলে দাবি করেছে সাদা দল।

তাদের অভিযোগ, বিষয়টি নিষ্পত্তির আগেই তড়িঘড়ি করে সিন্ডিকেট সভা আহ্বান এবং একজন নির্বাচিত সদস্যকে সভা থেকে বাদ দেওয়া বিশ্ববিদ্যালয় আইনের চেতনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

চিঠিতে সভা স্থগিত অথবা অধ্যাপক শামীম উদ্দিন খানকে অন্তর্ভুক্ত করে সভা সম্পন্ন করার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে এমন সিদ্ধান্তের ফলে প্রশাসন পরিচালনায় দলীয় বিবেচনাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ধারণা তৈরি হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়।

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাবেক জ্যেষ্ঠ শিক্ষক বলেন, “৬০ বছরের ইতিহাসে এমন কিছু আগে হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী নিয়োগ বোর্ডের মেয়াদ শেষ হতে এখনো প্রায় চার মাস সময় আছে। পূর্বের প্রশাসনও মেয়াদ শেষ হওয়ার পর বোর্ড গঠন করেছিল।”

তবে বর্তমান প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আগের সিন্ডিকেটগুলোর সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় সহকারী অধ্যাপক ও প্রভাষক পদে শিক্ষক নিয়োগের নির্বাচনী বোর্ড পুনর্গঠন করা হয়েছে।

বোর্ড পুনর্গঠন (চবি

আপনার মতামত লিখুন

বিপ্লবী বার্তা

রোববার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


মেয়াদ শেষের চার মাস আগেই চবির শিক্ষক নিয়োগ বোর্ড পুনর্গঠন

প্রকাশের তারিখ : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় চার মাস আগেই সহকারী অধ্যাপক ও প্রভাষক পদে শিক্ষক নিয়োগের নির্বাচনী বোর্ড পুনর্গঠন করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) কর্তৃপক্ষ। 

বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী, সিন্ডিকেট মনোনীত নির্বাচনী বোর্ডের দুই সদস্যের মেয়াদ থাকে দুই বছর। তবে আগের প্রশাসনের গঠিত বোর্ডের দুই বছর মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই তা পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছে বর্তমান প্রশাসন।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৬৮তম সিন্ডিকেট সভায় সহকারী অধ্যাপক ও প্রভাষক পদে শিক্ষক নিয়োগের নির্বাচনী বোর্ড পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়। বিকেল ৪টায় শুরু হওয়া সভাটি রাত সাড়ে ৮টার দিকে শেষ হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মো. হাছান মিয়া। তিনি সিন্ডিকেট সভায় সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি বলেন, “নিয়োগ বোর্ড গঠনের জন্য আগের সিন্ডিকেটগুলো থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এর ধারাবাহিকতাই আজকের সভায় সহকারী অধ্যাপক ও প্রভাষক ক্যাটাগরিতে শিক্ষক নিয়োগে নির্বাচনী বোর্ড পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়েছে।”

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, এর আগে ২০২৫ সালের ৪ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত ৫৫৮তম সিন্ডিকেট সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষদ, বিভাগ ও ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক ও প্রভাষক পদে শিক্ষক নিয়োগের জন্য নির্বাচনী বোর্ড গঠন করা হয়। এতে প্রতিটি বিভাগে দুই বছরের জন্য দুজন করে বিশেষজ্ঞ সদস্য মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল।

আইন অনুযায়ী, ওই সদস্যদের মেয়াদ ২০২৭ সালের ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত থাকার কথা। সে হিসাবে ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত পূর্বের বোর্ডের মেয়াদ হয়েছে ৬০৮ দিন। অর্থাৎ দুই বছর পূর্ণ হওয়ার প্রায় চার মাস আগেই নতুন বোর্ড গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ১৯৭৩-এর প্রথম সংবিধির ৫ নম্বর অনুচ্ছেদের ২ নম্বর ধারায় সহকারী অধ্যাপক, প্রভাষক এবং অন্যান্য গবেষণা ও শিক্ষকতা পদে নিয়োগের সুপারিশ প্রদানের জন্য নির্বাচনী বোর্ড গঠনের বিধান রয়েছে।

বিধান অনুযায়ী, এ ধরনের নির্বাচনী বোর্ডে সিন্ডিকেট কর্তৃক দুজন সদস্য মনোনীত হন। মনোনয়নের তারিখ থেকে তাঁদের মেয়াদ দুই বছর। বোর্ডের সভাপতি হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের সভাপতি সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ফলে মোট চার সদস্যের বোর্ডের মাধ্যমে সহকারী অধ্যাপক ও প্রভাষক পদে নিয়োগের সুপারিশ করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় আইনে অধ্যাপক ও সহযোগী অধ্যাপক পদে নিয়োগের জন্য একটি এবং সহকারী অধ্যাপক ও প্রভাষক পদে নিয়োগের জন্য পৃথক নির্বাচনী বোর্ডের বিধান রয়েছে।




তড়িঘড়ি করে সিন্ডিকেট সভা আয়োজনের অভিযোগ :

এদিকে সিন্ডিকেট সভা আয়োজন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী, সিন্ডিকেট সভার আলোচ্যসূচি সভার অন্তত সাত দিন আগে সদস্যদের কাছে পাঠানোর বিধান রয়েছে।

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দপ্তর সূত্রের দাবি, ৪ সেপ্টেম্বরের সভার আলোচ্যসূচি জরুরি ভিত্তিতে এর আগের রাতে সিন্ডিকেট সদস্যদের কাছে পাঠানো হয়। পরে উপাচার্যের আহ্বানে শুক্রবার সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

নির্বাচিত সদস্যকে বাদ দিয়ে সভা, সাদা দলের প্রতিবাদ:

সিন্ডিকেটে অধ্যাপক ক্যাটাগরির নির্বাচিত সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খানকে সভায় আমন্ত্রণ না জানানোর প্রতিবাদ জানিয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সাদা দল’।

সিন্ডিকেট সভা শুরুর আগে বিকেল ৩টার দিকে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নেছারুল করিমের নেতৃত্বে সাদা দলের জ্যেষ্ঠ সদস্যদের একটি প্রতিনিধি দল উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। এ সময় তারা সভা স্থগিত করার দাবি জানান এবং অধ্যাপক শামীম উদ্দিন খানকে অন্তর্ভুক্ত করে সভা আয়োজনের আহ্বান জানান। পরে তাকে ছাড়াই সিন্ডিকেট সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সাক্ষাৎকালে সাদা দলের পক্ষ থেকে উপাচার্যের কাছে একটি চিঠিও দেওয়া হয়। দলের অন্তর্বর্তীকালীন স্টিয়ারিং কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. শাহাদাত হোছাইন স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বলা হয়, সিন্ডিকেটে অধ্যাপক ক্যাটাগরির সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খানকে সভায় আমন্ত্রণ না জানানোয় শিক্ষক সমাজের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, অধ্যাপক শামীম উদ্দিন খানের সিন্ডিকেট সদস্যপদ নিয়ে আইনি বিতর্কের নিষ্পত্তির লক্ষ্যে চেম্বার জজ আদালত হাইকোর্টকে দুই সপ্তাহের মধ্যে বিষয়টি নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছেন। এ অবস্থায় আইনি নিষ্পত্তির পর সিন্ডিকেট সভা আহ্বান করা অথবা অধ্যাপক শামীম উদ্দিন খানকে অন্তর্ভুক্ত করেই সভা আয়োজন করা যুক্তিযুক্ত ছিল বলে দাবি করেছে সাদা দল।

তাদের অভিযোগ, বিষয়টি নিষ্পত্তির আগেই তড়িঘড়ি করে সিন্ডিকেট সভা আহ্বান এবং একজন নির্বাচিত সদস্যকে সভা থেকে বাদ দেওয়া বিশ্ববিদ্যালয় আইনের চেতনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

চিঠিতে সভা স্থগিত অথবা অধ্যাপক শামীম উদ্দিন খানকে অন্তর্ভুক্ত করে সভা সম্পন্ন করার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে এমন সিদ্ধান্তের ফলে প্রশাসন পরিচালনায় দলীয় বিবেচনাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ধারণা তৈরি হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়।

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাবেক জ্যেষ্ঠ শিক্ষক বলেন, “৬০ বছরের ইতিহাসে এমন কিছু আগে হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী নিয়োগ বোর্ডের মেয়াদ শেষ হতে এখনো প্রায় চার মাস সময় আছে। পূর্বের প্রশাসনও মেয়াদ শেষ হওয়ার পর বোর্ড গঠন করেছিল।”

তবে বর্তমান প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আগের সিন্ডিকেটগুলোর সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় সহকারী অধ্যাপক ও প্রভাষক পদে শিক্ষক নিয়োগের নির্বাচনী বোর্ড পুনর্গঠন করা হয়েছে।


বিপ্লবী বার্তা

প্রকাশক
শেখ মাহমুদ উজ্জ্বল
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
কাইয়ুম তালুকদার (কানন)
উপদেষ্টা সম্পাদক
ড. জাহিদ আহমেদ চৌধুরী

কপিরাইট © ২০২৬ । বিপ্লবী বার্তা