বিপ্লবী বার্তা

মূল পাতা

সারাদেশ

সালিশে ডেকে আপন ভাই ও দুই ভাতিজাকে কুপিয়ে জখমের অভিযোগ

সালিশে ডেকে আপন ভাই ও দুই ভাতিজাকে কুপিয়ে জখমের অভিযোগ
ছবি : বিপ্লবী বার্তা

জমি জমা ও প্রায় ৩০ মণ ধান বিক্রিকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে সালিশে ডেকে আপন ভাই ও তাঁর দুই ছেলেকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে আব্দুল লতিফ ও তাঁর লোকজনের বিরুদ্ধে।

বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ উপজেলার হোগলাবুনিয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ছোট বাদুরা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। হামলায় আহতরা হলেন—ছোট বাদুরা গ্রামের আবদুর রশিদ হাওলাদার এবং তাঁর দুই ছেলে মোঃ আল-আমিন ও মোঃ রবিউল ইসলাম। আহত অবস্থায় তাঁদের বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আল-আমিনের মাথায় চারটি সেলাই দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি ও তাঁর ভাই রবিউল ইসলাম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

পরিবারের অভিযোগ, প্রায় ৩০ মণ ধান বিক্রিকে কেন্দ্র করে ধান ব্যবসায়ী আবজালের সঙ্গে তাঁদের বিরোধের সূত্রপাত হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবদুর রশিদ হাওলাদারের সঙ্গে তাঁর আপন ভাই আব্দুল লতিফের বিরোধ দেখা দেয়। একপর্যায়ে আবদুর রশিদকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ পরিবারের।

পরে বাবাকে কেন মারধর করা হয়েছে, তা জানতে তাঁর দুই ছেলে মোঃ আল-আমিন ও মো. রবিউল ইসলাম তাঁদের আপন চাচা আব্দুল লতিফের কাছে কৈফিয়ত চান। এ নিয়ে তাঁদের সঙ্গেও বিরোধ সৃষ্টি হয় বলে পরিবারের দাবি।

পরিবারের সদস্যরা জানান, বিষয়টি মীমাংসার জন্য স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। তবে সালিশ চলাকালেই আব্দুল লতিফের নির্দেশে তাঁর শ্যালকের ছেলে তারেকসহ কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাঁদের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় আবদুর রশিদ, আল-আমিন ও রবিউলকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করা হয়।

আহত মোঃ আল-আমিন বলেন, “প্রথমে আমার বাবাকে মারধর করা হয়। বাবাকে কেন মারা হয়েছে, তা জানতে গেলে আমার চাচা আব্দুল লতিফের সঙ্গে আমাদের কথা-কাটাকাটি হয়। পরে বিষয়টি মীমাংসার জন্য সালিশে বসা হয়। কিন্তু সালিশ চলাকালেই কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালায়।

তিনি আরও বলেন,আমাকে মেরে ফেলার উদ্দেশ্যে মাথায় কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। মাথায় চারটি সেলাই লেগেছে। চোখ ও শরীরের বিভিন্ন স্থানেও আঘাত করা হয়েছে। আমার চাচা আব্দুল লতিফের নির্দেশে তাঁর শ্যালকের ছেলে তারেকসহ কয়েকজন আমাদের মারধর করেছে বলে আমরা অভিযোগ করছি।

আহত মোঃ রবিউল ইসলাম বলেন,জমি-জমা নিয়ে চাচার সঙ্গে আমাদের দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। এর আগেও কয়েকবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ প্রায় ৩০ মণ ধান বিক্রিকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়। পরে সালিশে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হলেও সেখানেই আমাদের ওপর হামলা করা হয়েছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলার সময় তাঁদের গালিগালাজ করা হয় এবং “টাকার জোরে পুলিশ কিছু করতে পারবে না” বলে হুমকি দেওয়া হয়েছে।

পরিবারের দাবি, আবদুর রশিদ হাওলাদার ও তাঁর আপন ভাই আব্দুল লতিফের মধ্যে জমি-জমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এর জেরে আগেও হামলার ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ ধান বিক্রিকে কেন্দ্র করে বিরোধের পর স্থানীয়ভাবে সালিশ বসানো হলে সেখানে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলার ঘটনা ঘটে।

অভিযোগের বিষয়ে আব্দুল লতিফের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাঁর ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

বর্তমানে আবদুর রশিদ হাওলাদার ও তাঁর দুই ছেলে মোঃ আল-আমিন এবং মোঃ রবিউল ইসলাম বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে মোড়েলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ শহীদুল ইসলাম বলেন,মারামারির বিষয়ে আমাদের কাছে এখনো কোনো অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ আসলে বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন

বিপ্লবী বার্তা

রোববার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


সালিশে ডেকে আপন ভাই ও দুই ভাতিজাকে কুপিয়ে জখমের অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

জমি জমা ও প্রায় ৩০ মণ ধান বিক্রিকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে সালিশে ডেকে আপন ভাই ও তাঁর দুই ছেলেকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে আব্দুল লতিফ ও তাঁর লোকজনের বিরুদ্ধে।

বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ উপজেলার হোগলাবুনিয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ছোট বাদুরা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। হামলায় আহতরা হলেন—ছোট বাদুরা গ্রামের আবদুর রশিদ হাওলাদার এবং তাঁর দুই ছেলে মোঃ আল-আমিন ও মোঃ রবিউল ইসলাম। আহত অবস্থায় তাঁদের বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আল-আমিনের মাথায় চারটি সেলাই দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি ও তাঁর ভাই রবিউল ইসলাম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

পরিবারের অভিযোগ, প্রায় ৩০ মণ ধান বিক্রিকে কেন্দ্র করে ধান ব্যবসায়ী আবজালের সঙ্গে তাঁদের বিরোধের সূত্রপাত হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবদুর রশিদ হাওলাদারের সঙ্গে তাঁর আপন ভাই আব্দুল লতিফের বিরোধ দেখা দেয়। একপর্যায়ে আবদুর রশিদকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ পরিবারের।

পরে বাবাকে কেন মারধর করা হয়েছে, তা জানতে তাঁর দুই ছেলে মোঃ আল-আমিন ও মো. রবিউল ইসলাম তাঁদের আপন চাচা আব্দুল লতিফের কাছে কৈফিয়ত চান। এ নিয়ে তাঁদের সঙ্গেও বিরোধ সৃষ্টি হয় বলে পরিবারের দাবি।

পরিবারের সদস্যরা জানান, বিষয়টি মীমাংসার জন্য স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। তবে সালিশ চলাকালেই আব্দুল লতিফের নির্দেশে তাঁর শ্যালকের ছেলে তারেকসহ কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাঁদের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় আবদুর রশিদ, আল-আমিন ও রবিউলকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করা হয়।

আহত মোঃ আল-আমিন বলেন, “প্রথমে আমার বাবাকে মারধর করা হয়। বাবাকে কেন মারা হয়েছে, তা জানতে গেলে আমার চাচা আব্দুল লতিফের সঙ্গে আমাদের কথা-কাটাকাটি হয়। পরে বিষয়টি মীমাংসার জন্য সালিশে বসা হয়। কিন্তু সালিশ চলাকালেই কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালায়।

তিনি আরও বলেন,আমাকে মেরে ফেলার উদ্দেশ্যে মাথায় কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। মাথায় চারটি সেলাই লেগেছে। চোখ ও শরীরের বিভিন্ন স্থানেও আঘাত করা হয়েছে। আমার চাচা আব্দুল লতিফের নির্দেশে তাঁর শ্যালকের ছেলে তারেকসহ কয়েকজন আমাদের মারধর করেছে বলে আমরা অভিযোগ করছি।

আহত মোঃ রবিউল ইসলাম বলেন,জমি-জমা নিয়ে চাচার সঙ্গে আমাদের দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। এর আগেও কয়েকবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ প্রায় ৩০ মণ ধান বিক্রিকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়। পরে সালিশে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হলেও সেখানেই আমাদের ওপর হামলা করা হয়েছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলার সময় তাঁদের গালিগালাজ করা হয় এবং “টাকার জোরে পুলিশ কিছু করতে পারবে না” বলে হুমকি দেওয়া হয়েছে।

পরিবারের দাবি, আবদুর রশিদ হাওলাদার ও তাঁর আপন ভাই আব্দুল লতিফের মধ্যে জমি-জমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এর জেরে আগেও হামলার ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ ধান বিক্রিকে কেন্দ্র করে বিরোধের পর স্থানীয়ভাবে সালিশ বসানো হলে সেখানে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলার ঘটনা ঘটে।

অভিযোগের বিষয়ে আব্দুল লতিফের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাঁর ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

বর্তমানে আবদুর রশিদ হাওলাদার ও তাঁর দুই ছেলে মোঃ আল-আমিন এবং মোঃ রবিউল ইসলাম বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে মোড়েলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ শহীদুল ইসলাম বলেন,মারামারির বিষয়ে আমাদের কাছে এখনো কোনো অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ আসলে বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


বিপ্লবী বার্তা

প্রকাশক
শেখ মাহমুদ উজ্জ্বল
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
কাইয়ুম তালুকদার (কানন)
উপদেষ্টা সম্পাদক
ড. জাহিদ আহমেদ চৌধুরী

কপিরাইট © ২০২৬ । বিপ্লবী বার্তা