বিপ্লবী বার্তা

মূল পাতা

শিক্ষাঙ্গন

জাবিতে পেশাগত দায়িত্ব পালনে সাংবাদিকদের বাধা দেওয়ার অভিযোগ

জাবিতে পেশাগত দায়িত্ব পালনে সাংবাদিকদের বাধা দেওয়ার অভিযোগ
ছবি: বিপ্লবী বার্তা

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে দুই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সেলিম আল দীন মুক্তমঞ্চে এ ঘটনা ঘটে।

​অভিযুক্তরা হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের ৫৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সুস্মিতা সাহা মাটি ও আইরিস হাজং পুনম।

​বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে বৃহস্পতিবার রাতে সেলিম আল দীন মুক্তমঞ্চে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আসিফ আকবরসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন পরিবেশনায় অংশ নেয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উচ্চপদস্থ ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

​প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী সাংবাদিকদের সূত্রে জানা যায়, অনুষ্ঠান চলাকালে মঞ্চে উপস্থাপক কর্তৃক নাম ঘোষণাকে কেন্দ্র করে জাবি শাখা ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও হট্টগোল শুরু হয়। এ সময় উপস্থিত কয়েকজন সাংবাদিক ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে গেলে ওই দুই শিক্ষার্থী তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দেন এবং আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে চড়াও হন।

​এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষার্থী সুস্মিতা সাহা মাটি বলেন, “যারা ভিডিও করছিলেন, ওই মুহূর্তে তারা সাংবাদিকতার কোনো পরিচয়পত্র দেখাতে পেরেছিলেন কি না, সেটা আগে নিশ্চিত হোন। আমি ব্যক্তিগতভাবে এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে ইচ্ছুক নই।”

​আরেক অভিযুক্ত শিক্ষার্থী আইরিস হাজং পুনম বলেন, “ক্যাম্পাসে একটি বাজে ঝামেলা হচ্ছিল। এগুলো ভিডিও করে পোস্ট করলে ক্যাম্পাসের আরও বেশি দুর্নাম ছড়ায়। আমাদের জুনিয়ররা সেখানে পারফর্ম করার জন্য বসে ছিল, তাদের সামনেই ঝামেলা হচ্ছিল। তাই আমি ভিডিও করতে নিষেধ করেছি।”

​এদিকে পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাবি সাংবাদিক সমিতি ও জাবি প্রেসক্লাব।

​জাবি সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মাহ্ আলম বলেন, “শিক্ষক, শিক্ষার্থী কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোনো পর্যায়ের অংশীজন কেউই আমাদের প্রতিপক্ষ নন। সাংবাদিকতার মূল দায়িত্ব হলো যেকোনো অসংগতি বা জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে বস্তুনিষ্ঠভাবে তথ্য তুলে ধরা। ভিডিওতে ওই শিক্ষার্থীদের আচরণ দেখে আমি গভীরভাবে মর্মাহত। এ ধরনের আচরণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে স্বাধীন, নিরাপদ ও নির্ভয়ে পেশাগত দায়িত্ব পালনের উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করার জোর দাবি জানাচ্ছি।”

জাবি প্রেসক্লাবের সভাপতি তাওহিদুর রহমান বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে একটি গোষ্ঠী সাংবাদিকদের সংবাদ সংগ্রহে বাধা সৃষ্টি করছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে বারবার অভিযোগ জানিয়েও বিচার না পাওয়ায় একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে। মুক্তমঞ্চে বিশৃঙ্খলাকালে সাংবাদিকেরা যখন ভিডিও করতে যান, তখন বাধা দেওয়া হয়েছে। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং প্রশাসনের কাছে যথাযথ বিচার দাবি করছি। অন্যথায় আমরা কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হব।”

​সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ড. আবদুস সাত্তার বলেন, “আমরা এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

জাবি সাংবাদিক

আপনার মতামত লিখুন

বিপ্লবী বার্তা

শনিবার, ০৮ আগস্ট ২০২৬


জাবিতে পেশাগত দায়িত্ব পালনে সাংবাদিকদের বাধা দেওয়ার অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ০৭ আগস্ট ২০২৬

featured Image

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে দুই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সেলিম আল দীন মুক্তমঞ্চে এ ঘটনা ঘটে।

​অভিযুক্তরা হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের ৫৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সুস্মিতা সাহা মাটি ও আইরিস হাজং পুনম।

​বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে বৃহস্পতিবার রাতে সেলিম আল দীন মুক্তমঞ্চে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আসিফ আকবরসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন পরিবেশনায় অংশ নেয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উচ্চপদস্থ ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

​প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী সাংবাদিকদের সূত্রে জানা যায়, অনুষ্ঠান চলাকালে মঞ্চে উপস্থাপক কর্তৃক নাম ঘোষণাকে কেন্দ্র করে জাবি শাখা ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও হট্টগোল শুরু হয়। এ সময় উপস্থিত কয়েকজন সাংবাদিক ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে গেলে ওই দুই শিক্ষার্থী তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দেন এবং আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে চড়াও হন।

​এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষার্থী সুস্মিতা সাহা মাটি বলেন, “যারা ভিডিও করছিলেন, ওই মুহূর্তে তারা সাংবাদিকতার কোনো পরিচয়পত্র দেখাতে পেরেছিলেন কি না, সেটা আগে নিশ্চিত হোন। আমি ব্যক্তিগতভাবে এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে ইচ্ছুক নই।”

​আরেক অভিযুক্ত শিক্ষার্থী আইরিস হাজং পুনম বলেন, “ক্যাম্পাসে একটি বাজে ঝামেলা হচ্ছিল। এগুলো ভিডিও করে পোস্ট করলে ক্যাম্পাসের আরও বেশি দুর্নাম ছড়ায়। আমাদের জুনিয়ররা সেখানে পারফর্ম করার জন্য বসে ছিল, তাদের সামনেই ঝামেলা হচ্ছিল। তাই আমি ভিডিও করতে নিষেধ করেছি।”

​এদিকে পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাবি সাংবাদিক সমিতি ও জাবি প্রেসক্লাব।

​জাবি সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মাহ্ আলম বলেন, “শিক্ষক, শিক্ষার্থী কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোনো পর্যায়ের অংশীজন কেউই আমাদের প্রতিপক্ষ নন। সাংবাদিকতার মূল দায়িত্ব হলো যেকোনো অসংগতি বা জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে বস্তুনিষ্ঠভাবে তথ্য তুলে ধরা। ভিডিওতে ওই শিক্ষার্থীদের আচরণ দেখে আমি গভীরভাবে মর্মাহত। এ ধরনের আচরণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে স্বাধীন, নিরাপদ ও নির্ভয়ে পেশাগত দায়িত্ব পালনের উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করার জোর দাবি জানাচ্ছি।”

জাবি প্রেসক্লাবের সভাপতি তাওহিদুর রহমান বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে একটি গোষ্ঠী সাংবাদিকদের সংবাদ সংগ্রহে বাধা সৃষ্টি করছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে বারবার অভিযোগ জানিয়েও বিচার না পাওয়ায় একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে। মুক্তমঞ্চে বিশৃঙ্খলাকালে সাংবাদিকেরা যখন ভিডিও করতে যান, তখন বাধা দেওয়া হয়েছে। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং প্রশাসনের কাছে যথাযথ বিচার দাবি করছি। অন্যথায় আমরা কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হব।”

​সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ড. আবদুস সাত্তার বলেন, “আমরা এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


বিপ্লবী বার্তা

প্রকাশক
শেখ মাহমুদ উজ্জ্বল
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
কাইয়ুম তালুকদার (কানন)
উপদেষ্টা সম্পাদক
ড. জাহিদ আহমেদ চৌধুরী

কপিরাইট © ২০২৬ । বিপ্লবী বার্তা