মানুষ পৃথিবীতে আসে অল্প সময়ের জন্য। জন্মের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের জীবনের পথ চলা শুরু হয়, আর একদিন নির্ধারিত সময়ে তা থেমেও যায়। এই সত্যটি আমরা সবাই জানি, তবুও যেন ভুলে থাকতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। অর্থ, প্রতিপত্তি, ক্ষমতা ও ভোগের প্রতিযোগিতায় আমরা এমনভাবে ছুটে চলি যে জীবনের প্রকৃত উদ্দেশ্য আমরা ভুলে যাই ।
ইসলাম মানুষকে স্মরণ করিয়ে দেয় পার্থিব জীবন চূড়ান্ত গন্তব্য নয়, এটি একটি পরীক্ষা। তাই দুনিয়ার প্রয়োজনীয় কাজ, জীবিকা অর্জন ও উন্নতির চেষ্টা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি গুরুত্বপূর্ণ নৈতিকতা, জবাবদিহির বোধ এবং সৃষ্টিকর্তার প্রতি দায়বদ্ধতা। যখন মানুষ এই ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে, তখন অশান্তি, হিংসা, শত্রুতা ও মানসিক চাপ বেড়ে যায়। বাহ্যিক সাফল্য বাড়লেও অন্তরের শান্তি অধরাই থেকে যায়।
আমরা প্রায়ই এমনভাবে জীবনযাপন করি যেন এই পৃথিবীতেই চিরকাল থাকব। অথচ বাস্তবতা হলো, কয়েক বছর কিংবা কয়েক দশক পর আমরা কেউই এখানে থাকব না। আমাদের পরিচয়, সম্পদ, পদমর্যাদা সবকিছু একদিন অন্য কারও হাতে চলে যাবে। কিন্তু আমাদের কর্ম, চরিত্র এবং মানুষের জন্য রেখে যাওয়া কল্যাণকর অবদানই স্মৃতিতে বেঁচে থাকতে পারে।
তাই জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে অর্থবহ করে তোলা আমাদের দায়িত্ব। পরিবার, প্রতিবেশী ও সমাজের প্রতি দায়িত্ব পালন, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, সততা ও ন্যায়ের পথে চলা, অন্যের অধিকার রক্ষা করা এবং মানবকল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করা এসবই একটি সুন্দর সমাজ গঠনের ভিত্তি। ধর্মীয় অনুশাসন মানুষকে শুধু আচার পালনের শিক্ষা দেয় না; বরং দয়া, ক্ষমা, সহমর্মিতা, সংযম ও মানবসেবার মতো মূল্যবোধও শেখায়।
বর্তমান বিশ্বে প্রযুক্তির অগ্রগতি যেমন মানুষের জীবন সহজ করেছে, তেমনি উদ্বেগ, প্রতিযোগিতা ও একাকীত্বও অনেক ক্ষেত্রে বাড়িয়েছে। এই বাস্তবতায় আত্মিক প্রশান্তির গুরুত্ব আরও বেড়েছে। সৃষ্টিকর্তার স্মরণ, সৎকর্ম, আত্মসমালোচনা এবং মানুষের কল্যাণে কাজ এসবই অন্তরের শান্তি অর্জনের গুরুত্বপূর্ণ পথ হতে পারে।
আমরা যদি দুনিয়ার প্রয়োজনীয় দায়িত্ব পালন করি এবং মনে রাখি যে, এই জীবন ক্ষণস্থায়ী তাহলে অহংকার, লোভ ও অযথা বিদ্বেষ অনেকটাই কমে আসবে। আমাদের উচিত ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা নিয়ে অতিরিক্ত উদ্বিগ্ন না হয়ে বর্তমান সময়কে সৎকর্মে, মানবসেবায় এবং নৈতিক জীবনে ব্যয় করা। কারণ মানুষের প্রকৃত সফলতা শুধু সে কী অর্জন করেছে, তা দিয়ে নয়; বরং সে কী রেখে গেছে তার চরিত্র, তার সেবা এবং তার মানবিকতার মাধ্যমে মূল্যায়িত হয়।
জীবন অল্প সময়ের। তাই আসুন, অপ্রয়োজনীয় শত্রুতা ও হিংসা নয় বরং ভালোবাসা, ন্যায়, সহমর্মিতা এবং মানবকল্যাণকে জীবনের মূল আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করি। নিজের বিশ্বাস ও বিবেকের আলোকে সৎ জীবন গড়ে তুলি, মানুষের উপকারে আসি এবং এমন কিছু কাজ করে যাই, যা আমাদের অনুপস্থিতিতেও সমাজকে আলোকিত করবে।

শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ জুলাই ২০২৬
মানুষ পৃথিবীতে আসে অল্প সময়ের জন্য। জন্মের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের জীবনের পথ চলা শুরু হয়, আর একদিন নির্ধারিত সময়ে তা থেমেও যায়। এই সত্যটি আমরা সবাই জানি, তবুও যেন ভুলে থাকতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। অর্থ, প্রতিপত্তি, ক্ষমতা ও ভোগের প্রতিযোগিতায় আমরা এমনভাবে ছুটে চলি যে জীবনের প্রকৃত উদ্দেশ্য আমরা ভুলে যাই ।
ইসলাম মানুষকে স্মরণ করিয়ে দেয় পার্থিব জীবন চূড়ান্ত গন্তব্য নয়, এটি একটি পরীক্ষা। তাই দুনিয়ার প্রয়োজনীয় কাজ, জীবিকা অর্জন ও উন্নতির চেষ্টা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি গুরুত্বপূর্ণ নৈতিকতা, জবাবদিহির বোধ এবং সৃষ্টিকর্তার প্রতি দায়বদ্ধতা। যখন মানুষ এই ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে, তখন অশান্তি, হিংসা, শত্রুতা ও মানসিক চাপ বেড়ে যায়। বাহ্যিক সাফল্য বাড়লেও অন্তরের শান্তি অধরাই থেকে যায়।
আমরা প্রায়ই এমনভাবে জীবনযাপন করি যেন এই পৃথিবীতেই চিরকাল থাকব। অথচ বাস্তবতা হলো, কয়েক বছর কিংবা কয়েক দশক পর আমরা কেউই এখানে থাকব না। আমাদের পরিচয়, সম্পদ, পদমর্যাদা সবকিছু একদিন অন্য কারও হাতে চলে যাবে। কিন্তু আমাদের কর্ম, চরিত্র এবং মানুষের জন্য রেখে যাওয়া কল্যাণকর অবদানই স্মৃতিতে বেঁচে থাকতে পারে।
তাই জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে অর্থবহ করে তোলা আমাদের দায়িত্ব। পরিবার, প্রতিবেশী ও সমাজের প্রতি দায়িত্ব পালন, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, সততা ও ন্যায়ের পথে চলা, অন্যের অধিকার রক্ষা করা এবং মানবকল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করা এসবই একটি সুন্দর সমাজ গঠনের ভিত্তি। ধর্মীয় অনুশাসন মানুষকে শুধু আচার পালনের শিক্ষা দেয় না; বরং দয়া, ক্ষমা, সহমর্মিতা, সংযম ও মানবসেবার মতো মূল্যবোধও শেখায়।
বর্তমান বিশ্বে প্রযুক্তির অগ্রগতি যেমন মানুষের জীবন সহজ করেছে, তেমনি উদ্বেগ, প্রতিযোগিতা ও একাকীত্বও অনেক ক্ষেত্রে বাড়িয়েছে। এই বাস্তবতায় আত্মিক প্রশান্তির গুরুত্ব আরও বেড়েছে। সৃষ্টিকর্তার স্মরণ, সৎকর্ম, আত্মসমালোচনা এবং মানুষের কল্যাণে কাজ এসবই অন্তরের শান্তি অর্জনের গুরুত্বপূর্ণ পথ হতে পারে।
আমরা যদি দুনিয়ার প্রয়োজনীয় দায়িত্ব পালন করি এবং মনে রাখি যে, এই জীবন ক্ষণস্থায়ী তাহলে অহংকার, লোভ ও অযথা বিদ্বেষ অনেকটাই কমে আসবে। আমাদের উচিত ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা নিয়ে অতিরিক্ত উদ্বিগ্ন না হয়ে বর্তমান সময়কে সৎকর্মে, মানবসেবায় এবং নৈতিক জীবনে ব্যয় করা। কারণ মানুষের প্রকৃত সফলতা শুধু সে কী অর্জন করেছে, তা দিয়ে নয়; বরং সে কী রেখে গেছে তার চরিত্র, তার সেবা এবং তার মানবিকতার মাধ্যমে মূল্যায়িত হয়।
জীবন অল্প সময়ের। তাই আসুন, অপ্রয়োজনীয় শত্রুতা ও হিংসা নয় বরং ভালোবাসা, ন্যায়, সহমর্মিতা এবং মানবকল্যাণকে জীবনের মূল আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করি। নিজের বিশ্বাস ও বিবেকের আলোকে সৎ জীবন গড়ে তুলি, মানুষের উপকারে আসি এবং এমন কিছু কাজ করে যাই, যা আমাদের অনুপস্থিতিতেও সমাজকে আলোকিত করবে।

আপনার মতামত লিখুন