বিপ্লবী বার্তা

মূল পাতা

আন্তর্জাতিক

কঙ্গোয় ইবোলার ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব, প্রাণ হারিয়েছেন ১৭৭ জন

কঙ্গোয় ইবোলার ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব, প্রাণ হারিয়েছেন ১৭৭ জন
কঙ্গোয় ইবোলার ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব। ছবি: সংগৃহীত

গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোয় (ডিআরসি) নতুন করে ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব মহামারি রূপ ধারণ করেছে। আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা ক্রমাগত বাড়তে থাকায় দেশটির দুর্বল স্বাস্থ্যব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। ভাইরাসটির দ্রুত বিস্তার রোধে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থা ও স্বাস্থ্যকর্মীরা কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় তারা সমন্বিত আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের জরুরি ও জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিআরসিতে এ পর্যন্ত যতজন ইবোলায় আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছেন বা মারা গেছেন, প্রকৃত রোগী ও মৃত্যুর সংখ্যা তার চেয়ে অনেক বেশি। দেশটির বর্তমান সীমিত স্বাস্থ্য সক্ষমতা দিয়ে এই ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব সামাল দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

গত বৃহস্পতিবার (২১ মে) আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) ‘মার্সি কোর’-এর ডিআরসি কান্ট্রি ডিরেক্টর রোজ টচওয়েনকো বলেন, "এবার প্রাদুর্ভাবের পর ইবোলা যেভাবে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এটি আরও বিস্তৃত আকারে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি এখন বাস্তব। তাই আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পর্যায়ে আরও বড় আকারের আর্থিক ও চিকিৎসা সহায়তা জরুরি।"

উল্লেখ্য, গত ১৭ মে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোয় ১৭তম বারের মতো ইবোলার প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়। ইবোলা একটি অত্যন্ত মারাত্মক ভাইরাসজনিত রোগ, যাতে আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যুহার ২৫ শতাংশ থেকে শুরু করে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত কঙ্গোয় ইবোলার প্রায় ৭৫০টি সন্দেহভাজন সংক্রমণ এবং ১৭৭টি মৃত্যুর ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।

দেশটিতে এবার ইবোলায় প্রথম মৃত্যু শনাক্ত হয়েছিল গত ২৪ এপ্রিল। আক্রান্ত ওই ব্যক্তি উত্তর–পশ্চিমের ইতুরি প্রদেশের রাজধানী বুনিয়ায় মারা যান। পরবর্তীতে কাছের শহর মংবালুতে তাঁর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার সময় শোকাহত আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীরা মৃতদেহ স্পর্শ করেন। চিকিৎসকদের মতে, মূলত এই অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার আচার থেকেই ভাইরাসটি গণহারে ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয় হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোতে দ্রুতই রোগীর চাপ বাড়তে থাকে।

রোগটির বিস্তার রোধে কঙ্গো কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত সংক্রামক মৃতদেহগুলোর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া নিজেদের নিয়ন্ত্রণে পরিচালনা করছে। তবে স্থানীয় কিছু পরিবার এই নিয়ম মানতে রাজি হচ্ছে না। কঙ্গোর ঐতিহ্য অনুযায়ী, অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার সময় মৃতদেহ স্পর্শ করার ধর্মীয় ও সামাজিক রীতি রয়েছে। পূর্বের প্রাদুর্ভাবগুলোতেও দেখা গেছে, এই ধরনের ঐতিহ্যবাহী আচার রোগ ছড়ানোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে।

এই নিয়মকে কেন্দ্র করে গত বৃহস্পতিবার বুনিয়ার কাছাকাছি রুয়ামপারা এলাকায় একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে বিক্ষুব্ধ জনতা আগুন ধরিয়ে দেয়। জানা গেছে, ওই চিকিৎসাকেন্দ্রের কর্তৃপক্ষ ইবোলা সংক্রমণে মারা যাওয়া এক ব্যক্তির মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করতে অস্বীকৃতি জানায়। কিন্তু মৃত ব্যক্তির স্বজনেরা নিজেরাই ঐতিহ্যগত উপায়ে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া করতে চাইলে বিরোধের সৃষ্টি হয় এবং একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ জনতা হাসপাতালটিতে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করে।

বর্তমানে কঙ্গোর এই পরিস্থিতিকে বৈশ্বিক স্বাস্থ্য নিরাপত্তার জন্য একটি বড় হুমকি হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

ইবোলা ভাইরাস ডিআরসি মহামারি

আপনার মতামত লিখুন

বিপ্লবী বার্তা

শনিবার, ২৩ মে ২০২৬


কঙ্গোয় ইবোলার ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব, প্রাণ হারিয়েছেন ১৭৭ জন

প্রকাশের তারিখ : ২৩ মে ২০২৬

featured Image

গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোয় (ডিআরসি) নতুন করে ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব মহামারি রূপ ধারণ করেছে। আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা ক্রমাগত বাড়তে থাকায় দেশটির দুর্বল স্বাস্থ্যব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। ভাইরাসটির দ্রুত বিস্তার রোধে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থা ও স্বাস্থ্যকর্মীরা কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় তারা সমন্বিত আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের জরুরি ও জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন।


বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিআরসিতে এ পর্যন্ত যতজন ইবোলায় আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছেন বা মারা গেছেন, প্রকৃত রোগী ও মৃত্যুর সংখ্যা তার চেয়ে অনেক বেশি। দেশটির বর্তমান সীমিত স্বাস্থ্য সক্ষমতা দিয়ে এই ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব সামাল দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে।



গত বৃহস্পতিবার (২১ মে) আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) ‘মার্সি কোর’-এর ডিআরসি কান্ট্রি ডিরেক্টর রোজ টচওয়েনকো বলেন, "এবার প্রাদুর্ভাবের পর ইবোলা যেভাবে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এটি আরও বিস্তৃত আকারে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি এখন বাস্তব। তাই আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পর্যায়ে আরও বড় আকারের আর্থিক ও চিকিৎসা সহায়তা জরুরি।"


উল্লেখ্য, গত ১৭ মে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোয় ১৭তম বারের মতো ইবোলার প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়। ইবোলা একটি অত্যন্ত মারাত্মক ভাইরাসজনিত রোগ, যাতে আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যুহার ২৫ শতাংশ থেকে শুরু করে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।



সরকারি হিসাব অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত কঙ্গোয় ইবোলার প্রায় ৭৫০টি সন্দেহভাজন সংক্রমণ এবং ১৭৭টি মৃত্যুর ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।


দেশটিতে এবার ইবোলায় প্রথম মৃত্যু শনাক্ত হয়েছিল গত ২৪ এপ্রিল। আক্রান্ত ওই ব্যক্তি উত্তর–পশ্চিমের ইতুরি প্রদেশের রাজধানী বুনিয়ায় মারা যান। পরবর্তীতে কাছের শহর মংবালুতে তাঁর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার সময় শোকাহত আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীরা মৃতদেহ স্পর্শ করেন। চিকিৎসকদের মতে, মূলত এই অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার আচার থেকেই ভাইরাসটি গণহারে ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয় হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোতে দ্রুতই রোগীর চাপ বাড়তে থাকে।



রোগটির বিস্তার রোধে কঙ্গো কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত সংক্রামক মৃতদেহগুলোর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া নিজেদের নিয়ন্ত্রণে পরিচালনা করছে। তবে স্থানীয় কিছু পরিবার এই নিয়ম মানতে রাজি হচ্ছে না। কঙ্গোর ঐতিহ্য অনুযায়ী, অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার সময় মৃতদেহ স্পর্শ করার ধর্মীয় ও সামাজিক রীতি রয়েছে। পূর্বের প্রাদুর্ভাবগুলোতেও দেখা গেছে, এই ধরনের ঐতিহ্যবাহী আচার রোগ ছড়ানোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে।


এই নিয়মকে কেন্দ্র করে গত বৃহস্পতিবার বুনিয়ার কাছাকাছি রুয়ামপারা এলাকায় একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে বিক্ষুব্ধ জনতা আগুন ধরিয়ে দেয়। জানা গেছে, ওই চিকিৎসাকেন্দ্রের কর্তৃপক্ষ ইবোলা সংক্রমণে মারা যাওয়া এক ব্যক্তির মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করতে অস্বীকৃতি জানায়। কিন্তু মৃত ব্যক্তির স্বজনেরা নিজেরাই ঐতিহ্যগত উপায়ে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া করতে চাইলে বিরোধের সৃষ্টি হয় এবং একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ জনতা হাসপাতালটিতে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করে।


বর্তমানে কঙ্গোর এই পরিস্থিতিকে বৈশ্বিক স্বাস্থ্য নিরাপত্তার জন্য একটি বড় হুমকি হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।


বিপ্লবী বার্তা

প্রকাশক
শেখ মাহমুদ উজ্জ্বল
সম্পাদক
ড. জাহিদ আহমেদ চৌধুরী
নির্বাহী সম্পাদক
কাইয়ুম তালুকদার (কানন)

কপিরাইট © ২০২৬ । বিপ্লবী বার্তা