বিপ্লবী বার্তা

মূল পাতা

আন্তর্জাতিক

সমকামিতা নিয়ে পশ্চিমা বিশ্বের সমালোচনা, বরখাস্ত সেনেগাল প্রধানমন্ত্রী

সমকামিতা নিয়ে পশ্চিমা বিশ্বের সমালোচনা, বরখাস্ত সেনেগাল প্রধানমন্ত্রী
ওসমান সোনকো। ছবি: সংগৃহীত

সমকামিতা ইস্যুতে পশ্চিমা বিশ্বের কড়া সমালোচনা করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেনেগালের প্রধানমন্ত্রী ওসমান সোনকোকে বরখাস্ত করেছেন প্রেসিডেন্ট বাসিরু দিওমায়ে ফায়ে। একই সঙ্গে ভেঙে দেওয়া হয়েছে পুরো মন্ত্রিসভাও। শুক্রবার(২৩ মে) রাতে আকস্মিক এক অধ্যাদেশ জারি করে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কয়েক মাস ধরে চলা প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর দ্বন্দ্বের চূড়ান্ত পরিণতি হলো এই বরখাস্তের ঘটনা। এতে পশ্চিম আফ্রিকার ঋণসংকটে জর্জরিত সেনেগালে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা আরও বেড়ে গেল।

সম্প্রতি সেনেগালে সমকামিতার অপরাধে শাস্তি আরও কঠোর করে একটি নতুন আইন পাস হয়। এ নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর সমালোচনার জবাবে ওসমান সোনকো তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, পশ্চিমা দেশগুলো বিশ্বের অন্য রাষ্ট্রগুলোর ওপর সমকামিতা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে।

ফ্রান্সসহ পশ্চিমা দেশগুলোর সমালোচনার প্রসঙ্গে সোনকো বলেন, “তারা যদি এই পথ বেছে নেয়, সেটা তাদের ব্যাপার। এ বিষয়ে তাদের কাছ থেকে আমাদের কোনো শিক্ষা নেওয়ার প্রয়োজন নেই।”
তার এই বক্তব্য প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের কর্মকর্তা ওমর সাম্বা অধ্যাদেশ পড়ে শোনান। তিনি বলেন, “প্রেসিডেন্ট ফায়ে প্রধানমন্ত্রী ওসমান সোনকোকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন। এর ফলে সরকারের সব মন্ত্রীর দায়িত্বও শেষ হয়েছে।”

তবে নতুন প্রধানমন্ত্রী কে হচ্ছেন, সে বিষয়ে তখন কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

বরখাস্তের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক সংক্ষিপ্ত পোস্টে সোনকো লেখেন, “আলহামদুলিল্লাহ। আজ রাতে আমি কুয়ের গরগুইয়ে শান্তিতে ঘুমাব।”

ডাকারে অবস্থিত নিজের এলাকায় ফিরে গেলে সেখানে শত শত সমর্থক তাকে স্বাগত জানান বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপি।

প্রেসিডেন্ট ফায়ে মূলত ওসমান সোনকোর সমর্থনেই ক্ষমতায় আসেন। ২০২৪ সালের নির্বাচনে সোনকোর প্রেসিডেন্ট হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি ছিল। কিন্তু মানহানির মামলায় দণ্ডিত হওয়ায় তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি। পরে নিজের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ফায়েকে সমর্থন দিয়ে নির্বাচনে জয়ের পথ তৈরি করে দেন।

একসময় ফায়ের রাজনৈতিক গুরু হিসেবে পরিচিত ছিলেন সোনকো। দুজন মিলে ‘পাস্তেফ’ পার্টি গঠন করেন এবং দুর্নীতি দমন ও অর্থনৈতিক সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় আসেন। তবে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই তাদের সম্পর্ক ধীরে ধীরে তিক্ত হয়ে ওঠে।

গত কয়েক মাস ধরে প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে মতবিরোধ প্রকাশ্যে আসে। বিশেষ করে ক্ষমতাসীন দলের ভেতরে সোনকোর বাড়তে থাকা প্রভাব নিয়ে অসন্তোষ দেখা দেয়।
মে মাসে এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ফায়ে বলেছিলেন, “যত দিন তাঁর ওপর আমার আস্থা থাকবে, তত দিন তিনি প্রধানমন্ত্রী থাকবেন। যেদিন সেই আস্থা থাকবে না, সেদিন নতুন প্রধানমন্ত্রী আসবেন।”

অন্যদিকে সমালোচনার মুখে তাকে রাজনৈতিকভাবে সুরক্ষা না দেওয়ার অভিযোগ এনে ফায়ের নেতৃত্ব নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন সোনকো।

এদিকে অর্থনৈতিক সংকটও সেনেগালের রাজনীতিতে চাপ বাড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) তথ্য অনুযায়ী, দেশটির মোট ঋণের পরিমাণ এখন জিডিপির ১৩২ শতাংশে পৌঁছেছে। 

সাব-সাহারা আফ্রিকার দেশগুলোর মধ্যে সেনেগাল বর্তমানে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ঋণগ্রস্ত দেশ। তবে রাজনৈতিকভাবে এখনও গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছেন সোনকো। গত মাসে সেনেগালের পার্লামেন্টে একটি নতুন আইন পাস হয়েছে, যার মাধ্যমে ২০২৯ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তার অংশগ্রহণের পথ খুলে গেছে। নতুন এই সংশোধনী অনুযায়ী, মানহানির মামলায় দণ্ডিত ব্যক্তিদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ওপর আগের নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়েছে।

সমকামিতা সমালোচনা বরখাস্ত

আপনার মতামত লিখুন

বিপ্লবী বার্তা

শনিবার, ২৩ মে ২০২৬


সমকামিতা নিয়ে পশ্চিমা বিশ্বের সমালোচনা, বরখাস্ত সেনেগাল প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ২৩ মে ২০২৬

featured Image

সমকামিতা ইস্যুতে পশ্চিমা বিশ্বের কড়া সমালোচনা করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেনেগালের প্রধানমন্ত্রী ওসমান সোনকোকে বরখাস্ত করেছেন প্রেসিডেন্ট বাসিরু দিওমায়ে ফায়ে। একই সঙ্গে ভেঙে দেওয়া হয়েছে পুরো মন্ত্রিসভাও। শুক্রবার(২৩ মে) রাতে আকস্মিক এক অধ্যাদেশ জারি করে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কয়েক মাস ধরে চলা প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর দ্বন্দ্বের চূড়ান্ত পরিণতি হলো এই বরখাস্তের ঘটনা। এতে পশ্চিম আফ্রিকার ঋণসংকটে জর্জরিত সেনেগালে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা আরও বেড়ে গেল।

সম্প্রতি সেনেগালে সমকামিতার অপরাধে শাস্তি আরও কঠোর করে একটি নতুন আইন পাস হয়। এ নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর সমালোচনার জবাবে ওসমান সোনকো তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, পশ্চিমা দেশগুলো বিশ্বের অন্য রাষ্ট্রগুলোর ওপর সমকামিতা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে।

ফ্রান্সসহ পশ্চিমা দেশগুলোর সমালোচনার প্রসঙ্গে সোনকো বলেন, “তারা যদি এই পথ বেছে নেয়, সেটা তাদের ব্যাপার। এ বিষয়ে তাদের কাছ থেকে আমাদের কোনো শিক্ষা নেওয়ার প্রয়োজন নেই।”
তার এই বক্তব্য প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের কর্মকর্তা ওমর সাম্বা অধ্যাদেশ পড়ে শোনান। তিনি বলেন, “প্রেসিডেন্ট ফায়ে প্রধানমন্ত্রী ওসমান সোনকোকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন। এর ফলে সরকারের সব মন্ত্রীর দায়িত্বও শেষ হয়েছে।”

তবে নতুন প্রধানমন্ত্রী কে হচ্ছেন, সে বিষয়ে তখন কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

বরখাস্তের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক সংক্ষিপ্ত পোস্টে সোনকো লেখেন, “আলহামদুলিল্লাহ। আজ রাতে আমি কুয়ের গরগুইয়ে শান্তিতে ঘুমাব।”

ডাকারে অবস্থিত নিজের এলাকায় ফিরে গেলে সেখানে শত শত সমর্থক তাকে স্বাগত জানান বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপি।

প্রেসিডেন্ট ফায়ে মূলত ওসমান সোনকোর সমর্থনেই ক্ষমতায় আসেন। ২০২৪ সালের নির্বাচনে সোনকোর প্রেসিডেন্ট হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি ছিল। কিন্তু মানহানির মামলায় দণ্ডিত হওয়ায় তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি। পরে নিজের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ফায়েকে সমর্থন দিয়ে নির্বাচনে জয়ের পথ তৈরি করে দেন।

একসময় ফায়ের রাজনৈতিক গুরু হিসেবে পরিচিত ছিলেন সোনকো। দুজন মিলে ‘পাস্তেফ’ পার্টি গঠন করেন এবং দুর্নীতি দমন ও অর্থনৈতিক সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় আসেন। তবে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই তাদের সম্পর্ক ধীরে ধীরে তিক্ত হয়ে ওঠে।

গত কয়েক মাস ধরে প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে মতবিরোধ প্রকাশ্যে আসে। বিশেষ করে ক্ষমতাসীন দলের ভেতরে সোনকোর বাড়তে থাকা প্রভাব নিয়ে অসন্তোষ দেখা দেয়।
মে মাসে এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ফায়ে বলেছিলেন, “যত দিন তাঁর ওপর আমার আস্থা থাকবে, তত দিন তিনি প্রধানমন্ত্রী থাকবেন। যেদিন সেই আস্থা থাকবে না, সেদিন নতুন প্রধানমন্ত্রী আসবেন।”

অন্যদিকে সমালোচনার মুখে তাকে রাজনৈতিকভাবে সুরক্ষা না দেওয়ার অভিযোগ এনে ফায়ের নেতৃত্ব নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন সোনকো।

এদিকে অর্থনৈতিক সংকটও সেনেগালের রাজনীতিতে চাপ বাড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) তথ্য অনুযায়ী, দেশটির মোট ঋণের পরিমাণ এখন জিডিপির ১৩২ শতাংশে পৌঁছেছে। 

সাব-সাহারা আফ্রিকার দেশগুলোর মধ্যে সেনেগাল বর্তমানে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ঋণগ্রস্ত দেশ। তবে রাজনৈতিকভাবে এখনও গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছেন সোনকো। গত মাসে সেনেগালের পার্লামেন্টে একটি নতুন আইন পাস হয়েছে, যার মাধ্যমে ২০২৯ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তার অংশগ্রহণের পথ খুলে গেছে। নতুন এই সংশোধনী অনুযায়ী, মানহানির মামলায় দণ্ডিত ব্যক্তিদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ওপর আগের নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়েছে।


বিপ্লবী বার্তা

প্রকাশক
শেখ মাহমুদ উজ্জ্বল
সম্পাদক
ড. জাহিদ আহমেদ চৌধুরী
নির্বাহী সম্পাদক
কাইয়ুম তালুকদার (কানন)

কপিরাইট © ২০২৬ । বিপ্লবী বার্তা