নেত্রকোণার মদন উপজেলায় ১২ বছরের এক মাদরাসা ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর ওই ছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ায় বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সন্ধ্যায় মদন থানায় ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে একটি অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযুক্ত মাদরাসা শিক্ষকের নাম আমান উল্লাহ সাগর। তিনি উপজেলার কাইটাইল ইউনিয়নের পাঁচহার বড়বাড়ি গ্রামের মৃত শামসুদ্দিন মিয়ার ছেলে এবং হযরত ফাতেমা তুজ্জহুরা মহিলা কওমি মাদরাসার পরিচালক ও শিক্ষক।
শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগর ২০২২ সালে মদন উপজেলার পাঁচহার গ্রামে হযরত ফাতেমা তুজ্জহুরা মহিলা কওমি মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন। ওই মাদরাসাতেই তার স্ত্রী প্রধান শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত।
শিশুটির মা জীবিকার তাগিদে সিলেটে গৃহপরিচারিকার কাজ করেন। বাবা ছেড়ে যাওয়ায় শিশুটি তার নানির কাছে থেকে মাদরাসায় পড়াশোনা করত।
অভিযোগ রয়েছে, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগর শিশুটিকে ধর্ষণ করেন এবং কাউকে না জানানোর জন্য প্রাণনাশের ভয় দেখান।
গত ১৮ এপ্রিল শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগর ছুটি নিয়ে মাদরাসা থেকে চলে যান এবং এরপর আর মাদরাসায় আসেননি বলে জানিয়েছেন আরেক শিক্ষক।
ঘটনার পর থেকে ওই ছাত্রী গত পাঁচ মাস ধরে মাদরাসায় যাওয়া বন্ধ করে দেয়।
শিশুটির শারীরিক পরিবর্তন দেখে পরিবারের সন্দেহ হয়। এরপর তার মা সিলেট থেকে বাড়িতে এসে জিজ্ঞাসাবাদ করলে শিশুটি পুরো ঘটনা খুলে বলে।
ঘটনার পর পরিবার শিশুটিকে মদন উপজেলার একটি বেসরকারি ক্লিনিকে গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. সায়মা আক্তারের কাছে নিয়ে যায়।
"বাচ্চাটি তার মায়ের সঙ্গে ক্লিনিকে আসে এবং জানায় যে তার পেট সবসময় ভারী লাগে এবং পেটের ভেতর কিছু একটা নড়াচড়া করছে বলে মনে হয়। চিকিৎসক তাকে পরীক্ষা করে দেখতে পান যে বাচ্চাটি প্রচণ্ড রক্তশূন্যতায় ভুগছে। তার শরীরে রক্ত নেই বললেই চলে।" ডা. সায়মা আক্তার, গাইনি বিশেষজ্ঞ
আক্ষেপ প্রকাশ করে ডা. সায়মা আক্তার আরও জানান, এই বয়সে যেখানে একজন শিশুর শিশু বিশেষজ্ঞের কাছে যাওয়ার কথা, সেখানে তাকে গাইনোকোলজিস্টের কাছে আসতে হয়েছে। মেয়েদের জন্মের সময় ডিম্বাণু থাকে যা সাধারণত ১১-১২ বছর বয়সে পূর্ণতা পায়। এই শিশুটি তার জীবনের প্রথম মাসিক হওয়ার অভিজ্ঞতা পাওয়ার আগেই অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে গর্ভবতী হয়ে পড়েছে, যা তাকে এবং তার পরিবারকে গভীর সংকটের মুখে ফেলেছে।
মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম জানান, "এ ধরনের একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। আমি এখানে নতুন যোগদান করায় বিস্তারিত বলতে পারছি না। তবে আইন তার নিজস্ব প্রক্রিয়া মেনে এগিয়ে যাবে।"

সোমবার, ০৪ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ মে ২০২৬
নেত্রকোণার মদন উপজেলায় ১২ বছরের এক মাদরাসা ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর ওই ছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ায় বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সন্ধ্যায় মদন থানায় ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে একটি অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযুক্ত মাদরাসা শিক্ষকের নাম আমান উল্লাহ সাগর। তিনি উপজেলার কাইটাইল ইউনিয়নের পাঁচহার বড়বাড়ি গ্রামের মৃত শামসুদ্দিন মিয়ার ছেলে এবং হযরত ফাতেমা তুজ্জহুরা মহিলা কওমি মাদরাসার পরিচালক ও শিক্ষক।
শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগর ২০২২ সালে মদন উপজেলার পাঁচহার গ্রামে হযরত ফাতেমা তুজ্জহুরা মহিলা কওমি মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন। ওই মাদরাসাতেই তার স্ত্রী প্রধান শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত।
শিশুটির মা জীবিকার তাগিদে সিলেটে গৃহপরিচারিকার কাজ করেন। বাবা ছেড়ে যাওয়ায় শিশুটি তার নানির কাছে থেকে মাদরাসায় পড়াশোনা করত।
অভিযোগ রয়েছে, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগর শিশুটিকে ধর্ষণ করেন এবং কাউকে না জানানোর জন্য প্রাণনাশের ভয় দেখান।
গত ১৮ এপ্রিল শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগর ছুটি নিয়ে মাদরাসা থেকে চলে যান এবং এরপর আর মাদরাসায় আসেননি বলে জানিয়েছেন আরেক শিক্ষক।
ঘটনার পর থেকে ওই ছাত্রী গত পাঁচ মাস ধরে মাদরাসায় যাওয়া বন্ধ করে দেয়।
শিশুটির শারীরিক পরিবর্তন দেখে পরিবারের সন্দেহ হয়। এরপর তার মা সিলেট থেকে বাড়িতে এসে জিজ্ঞাসাবাদ করলে শিশুটি পুরো ঘটনা খুলে বলে।
ঘটনার পর পরিবার শিশুটিকে মদন উপজেলার একটি বেসরকারি ক্লিনিকে গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. সায়মা আক্তারের কাছে নিয়ে যায়।
"বাচ্চাটি তার মায়ের সঙ্গে ক্লিনিকে আসে এবং জানায় যে তার পেট সবসময় ভারী লাগে এবং পেটের ভেতর কিছু একটা নড়াচড়া করছে বলে মনে হয়। চিকিৎসক তাকে পরীক্ষা করে দেখতে পান যে বাচ্চাটি প্রচণ্ড রক্তশূন্যতায় ভুগছে। তার শরীরে রক্ত নেই বললেই চলে।" ডা. সায়মা আক্তার, গাইনি বিশেষজ্ঞ
আক্ষেপ প্রকাশ করে ডা. সায়মা আক্তার আরও জানান, এই বয়সে যেখানে একজন শিশুর শিশু বিশেষজ্ঞের কাছে যাওয়ার কথা, সেখানে তাকে গাইনোকোলজিস্টের কাছে আসতে হয়েছে। মেয়েদের জন্মের সময় ডিম্বাণু থাকে যা সাধারণত ১১-১২ বছর বয়সে পূর্ণতা পায়। এই শিশুটি তার জীবনের প্রথম মাসিক হওয়ার অভিজ্ঞতা পাওয়ার আগেই অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে গর্ভবতী হয়ে পড়েছে, যা তাকে এবং তার পরিবারকে গভীর সংকটের মুখে ফেলেছে।
মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম জানান, "এ ধরনের একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। আমি এখানে নতুন যোগদান করায় বিস্তারিত বলতে পারছি না। তবে আইন তার নিজস্ব প্রক্রিয়া মেনে এগিয়ে যাবে।"

আপনার মতামত লিখুন