মুগদা মেডিকেল কলেজের (মুমেক) সদ্য সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোস্তাফিজুর রহমানকে বদলির পর ১৩ দিনেও যোগদানপত্র গ্রহণ করা হয়নি। গত সোমবার (১৪ এপ্রিল) তাকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করে মাতুয়াইল শিশু ও মাতৃ-স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়েছে। এর আগে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার পক্ষ নেওয়া এবং অর্থ সরবরাহের অভিযোগে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ থেকে রাঙামাটি মেডিকেল কলেজে বদলি করা হয়েছিল তাকে।
২০২৪ সালে অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান পুরান ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের পেডিয়াট্রিক্স বিভাগে কর্মরত ছিলেন। সে সময়ে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অংশগ্রহণ ও অর্থ সরবরাহের অভিযোগ তোলে সরকারপন্থী চিকিৎসকরা। এ অভিযোগে ১৮ জুলাই অধ্যাপক পদ থেকে পদাবনতি দিয়ে স্ট্যান্ড রিলিজ আকারে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে রাঙামাটি মেডিকেল কলেজে বদলি করা হয়। ব্যাপক সমালোচনার পর ওই বছরের ১১ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার সেই বদলি আদেশ বাতিল করে।
অধ্যাপক ডা. মোস্তাফিজুর রহমান চলতি বছরের ১১ জানুয়ারি মুগদা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করেন। মুমেকের একাধিক শিক্ষক-কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় বাংলাদেশের ইতিহাসে চিকিৎসকদের যে সর্ববৃহৎ সুপারনিউমারারি পদোন্নতি হয়, সেই পদোন্নতি প্রক্রিয়ায় অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। এর ধারাবাহিকতায় তাকে মুমেকে অধ্যক্ষ করা হয়। সে সময় বাজেট জটিলতায় মুগদা মেডিকেল কলেজের শিক্ষকরা দুই মাস এবং আউটসোর্সিং কর্মচারীরা ৬ মাস যাবত বেতন পাচ্ছিলেন না। অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান যোগদানের অল্প কিছুদিন পরই এই সমস্যার সমাধান করেন। এ ছাড়া তিনি ডোনেশনের মাধ্যমে একটি ব্যাংক থেকে ছাত্রছাত্রীদের চলাচলের জন্য একটি বাস সংগ্রহের জন্য একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্তও গ্রহণ করেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে মুগদা মেডিকেল কলেজের এক শিক্ষক বলেন, এত কিছুর পরেও কোন কারণ ছাড়াই মাত্র দুই মাস ২০ দিনের মাথায় অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমানকে অধ্যক্ষের পদ থেকে সরিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজে অধ্যাপক হিসেবে পদায়ন করা হয়। কিন্তু তিনি পহেলা এপ্রিল মুগদা মেডিকেল কলেজ থেকে রিলিজ নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজে যোগদানপত্র জমা দিলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ তার যোগদান গ্রহণ করেনি। আবারও ১৩ দিনের মাথায় তাকে ওএসডি করে মাতুয়াইল হাসপাতালে সংযুক্ত করা হয়েছে।
সোমবার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের পার-১ শাখা থেকে যুগ্মসচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে তাকে ওএসডি করা হয়। এর আগে গত ৩০ মার্চ এক আদেশে অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমানকে মুমেক অধ্যক্ষ থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজের পেডিয়াট্রিক্স বিভাগে বদলি করা হয়েছিল।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অধ্যাপক ডা. মোস্তাফিজুর রহমান আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ২০১১ ও ২০১৩ সালে প্রমোশন বঞ্চিত হয়েছেন। পরবর্তীতে ২০২১ সালে সহযোগী অধ্যাপক হিসেব পদোন্নতির একদিন পরেই সেই পদোন্নতি আদেশ বাতিল করা হয়।

বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ এপ্রিল ২০২৬
মুগদা মেডিকেল কলেজের (মুমেক) সদ্য সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোস্তাফিজুর রহমানকে বদলির পর ১৩ দিনেও যোগদানপত্র গ্রহণ করা হয়নি। গত সোমবার (১৪ এপ্রিল) তাকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করে মাতুয়াইল শিশু ও মাতৃ-স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়েছে। এর আগে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার পক্ষ নেওয়া এবং অর্থ সরবরাহের অভিযোগে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ থেকে রাঙামাটি মেডিকেল কলেজে বদলি করা হয়েছিল তাকে।
২০২৪ সালে অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান পুরান ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের পেডিয়াট্রিক্স বিভাগে কর্মরত ছিলেন। সে সময়ে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অংশগ্রহণ ও অর্থ সরবরাহের অভিযোগ তোলে সরকারপন্থী চিকিৎসকরা। এ অভিযোগে ১৮ জুলাই অধ্যাপক পদ থেকে পদাবনতি দিয়ে স্ট্যান্ড রিলিজ আকারে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে রাঙামাটি মেডিকেল কলেজে বদলি করা হয়। ব্যাপক সমালোচনার পর ওই বছরের ১১ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার সেই বদলি আদেশ বাতিল করে।
অধ্যাপক ডা. মোস্তাফিজুর রহমান চলতি বছরের ১১ জানুয়ারি মুগদা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করেন। মুমেকের একাধিক শিক্ষক-কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় বাংলাদেশের ইতিহাসে চিকিৎসকদের যে সর্ববৃহৎ সুপারনিউমারারি পদোন্নতি হয়, সেই পদোন্নতি প্রক্রিয়ায় অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। এর ধারাবাহিকতায় তাকে মুমেকে অধ্যক্ষ করা হয়। সে সময় বাজেট জটিলতায় মুগদা মেডিকেল কলেজের শিক্ষকরা দুই মাস এবং আউটসোর্সিং কর্মচারীরা ৬ মাস যাবত বেতন পাচ্ছিলেন না। অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান যোগদানের অল্প কিছুদিন পরই এই সমস্যার সমাধান করেন। এ ছাড়া তিনি ডোনেশনের মাধ্যমে একটি ব্যাংক থেকে ছাত্রছাত্রীদের চলাচলের জন্য একটি বাস সংগ্রহের জন্য একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্তও গ্রহণ করেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে মুগদা মেডিকেল কলেজের এক শিক্ষক বলেন, এত কিছুর পরেও কোন কারণ ছাড়াই মাত্র দুই মাস ২০ দিনের মাথায় অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমানকে অধ্যক্ষের পদ থেকে সরিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজে অধ্যাপক হিসেবে পদায়ন করা হয়। কিন্তু তিনি পহেলা এপ্রিল মুগদা মেডিকেল কলেজ থেকে রিলিজ নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজে যোগদানপত্র জমা দিলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ তার যোগদান গ্রহণ করেনি। আবারও ১৩ দিনের মাথায় তাকে ওএসডি করে মাতুয়াইল হাসপাতালে সংযুক্ত করা হয়েছে।
সোমবার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের পার-১ শাখা থেকে যুগ্মসচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে তাকে ওএসডি করা হয়। এর আগে গত ৩০ মার্চ এক আদেশে অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমানকে মুমেক অধ্যক্ষ থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজের পেডিয়াট্রিক্স বিভাগে বদলি করা হয়েছিল।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অধ্যাপক ডা. মোস্তাফিজুর রহমান আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ২০১১ ও ২০১৩ সালে প্রমোশন বঞ্চিত হয়েছেন। পরবর্তীতে ২০২১ সালে সহযোগী অধ্যাপক হিসেব পদোন্নতির একদিন পরেই সেই পদোন্নতি আদেশ বাতিল করা হয়।

আপনার মতামত লিখুন