শিশুর ছোটবেলার অভ্যাসই তার ভবিষ্যৎ জীবনের ভিত্তি গড়ে দেয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাবা-মা যদি শৈশব থেকেই সন্তানদের মধ্যে কিছু ইতিবাচক ও স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তোলেন, তবে তা তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে দীর্ঘমেয়াদে বড় ভূমিকা রাখে। শিশুদের সুস্থতা, আত্মবিশ্বাস ও সাফল্য নিশ্চিত করতে কয়েকটি ভালো অভ্যাস বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
দাঁতের যত্নে নিয়মিত ব্রাশ:
প্রতিদিন সকালে ও রাতে—দুইবার দাঁত ব্রাশ করার অভ্যাস শিশুর মুখগহ্বরের স্বাস্থ্য রক্ষা করে। এতে দাঁতের ক্ষয়, গহ্বর ও মাড়ির নানা সমস্যা প্রতিরোধ করা সম্ভব। চিকিৎসকদের মতে, এই সাধারণ অভ্যাস শিশুকে নানা সংক্রমণ থেকেও দূরে রাখে।
পরিচ্ছন্নতায় প্রতিদিন গোসল:
প্রতিদিন গোসল করার অভ্যাস শরীর থেকে ময়লা, ঘাম ও জীবাণু দূর করতে সহায়তা করে। বিশেষ করে গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় এটি শিশুকে সতেজ রাখে এবং ত্বকের সংক্রমণের ঝুঁকি কমায়। পরিচ্ছন্নতা শিশুর আত্মবিশ্বাস বাড়াতেও ভূমিকা রাখে।
স্বাস্থ্যকর নাস্তার অভ্যাস:
গবেষণায় দেখা গেছে, সকালের স্বাস্থ্যকর নাস্তা শিশুদের মস্তিষ্কের কার্যকারিতা ও শক্তি বাড়ায়। Centers for Disease Control and Prevention–এর একাধিক জরিপে সকালের নাস্তার ইতিবাচক প্রভাব তুলে ধরা হয়েছে। নিয়মিত পুষ্টিকর নাস্তা শিশুর ওজন নিয়ন্ত্রণ ও পুষ্টির ভারসাম্য রক্ষায় সহায়ক।
প্রতিদিন পড়ার চর্চা:
শিশুর মেধা বিকাশে পড়ার অভ্যাস অত্যন্ত কার্যকর। নিয়মিত পড়া ভাষা দক্ষতা, কল্পনাশক্তি ও সৃজনশীলতা বাড়ায়। বই পড়ার মাধ্যমে শিশুরা নতুন শব্দ, ধারণা ও নৈতিক মূল্যবোধ সম্পর্কে জানতে পারে। এতে সমস্যা সমাধানের দক্ষতাও বাড়ে।
সততা শেখানো জরুরি:
সত্য বলার অভ্যাস শিশুকে দায়িত্বশীল ও বিশ্বাসযোগ্য মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে। পরিবার থেকেই সততার শিক্ষা শুরু হয়। মা-বাবা নিজের আচরণের মাধ্যমে সততার দৃষ্টান্ত স্থাপন করলে শিশুরা তা সহজে রপ্ত করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব ভালো অভ্যাস ছোটবেলা থেকেই গড়ে তুলতে পারলে শিশু সুস্থ, আত্মবিশ্বাসী ও নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ হিসেবে বড় হয়ে ওঠে। বাবা-মায়ের সচেতন ভূমিকাই পারে শিশুদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে।

