তপ্ত দুপুরে এক গ্লাস ঠাণ্ডা পানীয় কার না ভালো লাগে? কিন্তু যখন সেই পানীয় হয় কয়েক শ বছরের পুরনো ঐতিহ্যবাহী কোনো রেসিপি, তখন তার স্বাদ যেন অমৃতের সমান। বরিশালের তেমনই এক বিলুপ্তপ্রায় রাজকীয় পানীয়র নাম ‘মলিদা’। এক সময় মেহমানদারি আর উৎসবের অবিচ্ছেদ্য অংশ থাকলেও, সময়ের বিবর্তনে এই স্বাস্থ্যকর পানীয়টি এখন কেবল বয়োজ্যেষ্ঠদের স্মৃতিতেই টিকে আছে।
কী এই মলিদা?
মলিদা মূলত চালের গুঁড়া, ডাবের পানি, নারকেল এবং বিভিন্ন মশলার সংমিশ্রণে তৈরি এক প্রকার সুস্বাদু শরবত। এটি তৈরি করতে কোনো কৃত্রিম রঙ বা ফ্লেভারের প্রয়োজন হয় না।
মলিদার প্রধান উপকরণসমূহ:
আতপ চালের মিহি গুঁড়া
মিষ্টি ডাবের পানি ও কচি ডাবের শাঁস
কোড়ানো নারকেল ও নারকেলের দুধ
নারকেলের ফোপরা
আদা কুচি
গুড় (স্বাদমতো)
এক চিমটি লবণ
বরিশালে আগেকার দিনে বিয়েবাড়ি কিংবা বড় কোনো সামাজিক অনুষ্ঠানে আগত অতিথিদের সবার আগে এক গ্লাস মলিদা দিয়ে আপ্যায়ন করা হতো। বিশেষ করে রোজা বা গরমে তৃষ্ণা মেটাতে এর কোনো বিকল্প ছিল না। এটি কেবল তৃষ্ণা মেটায় না, বরং পেটের স্বস্তি ও হজমেও দারুণ কাজ করে।
আধুনিক যুগের প্যাকেটজাত কোমল পানীয় আর কৃত্রিম জুসের ভিড়ে মলিদা এখন ঘরোয়া রান্নাঘর থেকেও প্রায় নির্বাসিত। বরিশাল শহরের হাতেগোনা দু-একটি ঐতিহ্যবাহী পরিবার ছাড়া এখন আর কোথাও এই পানীয়র চল দেখা যায় না। নতুন প্রজন্মের অনেকেই এই নামটির সাথে পরিচিত নয়।
পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা
খাদ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, মলিদা অত্যন্ত পুষ্টিকর। এতে ডাবের পানি ও নারকেল থাকার কারণে প্রচুর পরিমাণে ইলেকট্রোলাইটস থাকে, যা শরীরের পানিশূন্যতা রোধ করে। আদা এবং এলাচ শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।
ঐতিহ্যের পুনর্জাগরণ
বরিশালের সাংস্কৃতিক কর্মীদের মতে, আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতি ও খাবারের ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে মলিদার মতো পানীয়গুলোকে আবার জনপ্রিয় করা উচিত। বিভিন্ন ফুড ফেস্টিভ্যাল বা রেস্তোরাঁগুলোতে মলিদা অন্তর্ভুক্ত করলে এটি আবারও তার হারানো গৌরব ফিরে পেতে পারে।

