বিপ্লবী বার্তা

ইবির বটতলা যখন বইপ্রেমীদের আড্ডা

প্রযুক্তি নির্ভর এ সময়ে বই পড়ার অভ্যাস অনেকটাই কমে এসেছে। বর্তমানে শিক্ষার্থীরা অনলাইনভিত্তিক বিনোদনে আসক্ত হয়ে জীবনের মূল্যবান সময় নষ্ট করছেন। এছাড়াও শিক্ষার্থীদের ক্লাস-পরীক্ষার ব্যস্ততার বাইরে অবসর সময়ের বড় একটি  অংশই কেটে যায় বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায়। এমন বাস্তবতায় শিক্ষার্থীদের আবারও বইমুখী করতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন তারুণ্য ২০১৯ সালের মার্চ থেকে যাত্রা শুরু করে তারুণ্য লাইব্রেরি।[TECHTARANGA-POST:7626]ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখর প্রাণবন্ত আড্ডাস্থল বটতলায় এ ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরিটির কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এতে আড্ডার মাঝে কেউ গভীর মনোযোগ দিয়ে পড়ছেন উপন্যাসের বই, কেউবা আবৃত্তি করছেন কবিতার বই, কেউ ডুব দিচ্ছেন ইতিহাসে, আবার কেউ খুঁজে নিচ্ছেন আত্মউন্নয়নের বই।প্রচলিত লাইব্রেরির মতো নির্দিষ্ট কোনো কক্ষ বা ভবনে নয়, বরং ছোট কিছু বইয়ের তাকে এ লাইব্রেরির কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। সপ্তাহে প্রতি বুধবার সকাল ১০ টা থেকে সাড়ে ১২ টা পর্যন্ত বই নিয়ে হাজির হন সংগঠনের সদস্যরা। এতে খুব সহজে বই পড়া কিংবা পছন্দের বই সংগ্রহ করে অবসর সময়ে পড়ার সুযোগ পাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। ছোট পরিসরে শুরু হলেও সময়ের সঙ্গে সমৃদ্ধ হচ্ছ এর সংগ্রহ। বর্তমানে লাইব্রেরিটিতে রয়েছে দেড় হাজারের বেশি বই। এখানে সাহিত্য, ইতিহাস, দর্শন, বিজ্ঞান, মুক্তিযুদ্ধ, আত্মউন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয়ের বই রয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীরা নিজের আগ্রহ ও রুচি অনুযায়ী বই বেছে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। লাইব্রেরিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীর জন্যই উন্মুক্ত।বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মানিক রহমান বলেন, ক্যাম্পাসে এমন একটি জায়গায় বই পড়ার সুযোগ তৈরি হওয়ায় ভালো লাগে। আগে বটতলায় মূলত আড্ডা দেওয়ার জন্যই আসতাম। এখন মাঝে মাঝে বন্ধুদের সঙ্গে এসে বইও দেখি। পছন্দের বই পেলে নিয়ে পড়ি।লাইব্রেরিকে তরুণদের গড়ে তোলার নির্ভরযোগ্য আশ্রয় উল্লেখ করে তারুণ্যের সাধারণ সম্পাদক সালমানা আইরিন মনি বলেন, তারুণ্য লাইব্রেরি শুধু বই রাখার একটি স্থান নয় বরং এটি জ্ঞান, চিন্তা ও স্বপ্নের এক সুন্দর আশ্রয়। একটি সমাজের প্রকৃত উন্নয়ন শুধু অবকাঠামোর অগ্রগতিতে নয়, বরং তার মানুষের জ্ঞান, চিন্তা ও মননের বিকাশে নিহিত। সেই বিশ্বাস থেকেই জ্ঞানচর্চার একটি উন্মুক্ত ও সুন্দর পরিবেশ তৈরির প্রত্যয়ে তারুণ্য লাইব্রেরির যাত্রা শুরু।তিনি আরও বলেন, একটি বই একজন মানুষের চিন্তাকে বদলে দিতে পারে, আর একজন চিন্তাশীল মানুষ বদলে দিতে পারে একটি সমাজকে। তাই লাইব্রেরিটি শুধু বই পড়ার জায়গা নয়, এটি তরুণদের স্বপ্ন দেখা, শেখা এবং নিজেদের গড়ে তোলার একটি নির্ভরযোগ্য আশ্রয়। বর্তমানে লাইব্রেরিটি নিয়মিতভাবে পাঠকদের জন্য উন্মুক্ত থাকে এবং জ্ঞানচর্চাকে আরও সহজলভ্য করার চেষ্টা করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে লাইব্রেরি ভ্যান চালু করা এবং এর কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে জ্ঞানের আলো আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়।এ বিষয়ে তারুণ্যের সভাপতি ইমন হোসেন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে প্রাণবন্ত আড্ডার স্থান অনুষদ ভবনের সামনের বটতলায় গড়ে তোলা হয়েছে এই ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি। এখানে সাহিত্য, ইতিহাস, দর্শন, বিজ্ঞান, মুক্তিযুদ্ধ, আত্মউন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয়ের ১ হাজার ৫০০-এর অধিক বই রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থী এখান থেকে বই পড়তে ও ধার নিতে পারেন। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠাভ্যাস গড়ে তোলা, শিল্প-সাহিত্যচর্চায় উৎসাহিত করা এবং একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি তাদের মানবিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশে এই লাইব্রেরি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। জ্ঞানভিত্তিক, সচেতন ও আলোকিত প্রজন্ম গঠনের প্রত্যয়ে 'তারুণ্য লাইব্রেরি' ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অনন্য উদ্যোগ।

ইবির বটতলা যখন বইপ্রেমীদের আড্ডা