বিপ্লবী বার্তা

আফতাবনগরে পশুর হাট বাতিলের দাবিতে এলাকাবাসীর ক্ষোভ

রাজধানীর বাড্ডা থানাধীন আফতাবনগর জহুরুল ইসলাম সিটি আবাসিক এলাকায় আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা ২০২৬ উপলক্ষে পশুর হাট বসানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা বজায় রাখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। আবাসিক এলাকার সুষ্ঠু পরিবেশ রক্ষা এবং জনদুর্ভোগ এড়াতে আদালতের দেওয়া পূর্বের স্থগিতাদেশকে কার্যকর রাখার জন্য তারা প্রশাসনের প্রতি জোর আহ্বান জানিয়েছেন।বর্তমানে আফতাবনগর এলাকায় অসংখ্য সুউচ্চ ইমারত নির্মিত হয়েছে। এখানে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সামরিক বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং আইনজীবীদের পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ বসবাস করেন। এছাড়া ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি, ইম্পেরিয়াল কলেজসহ অসংখ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, মসজিদ-মাদরাসা ও ব্যাংক এই এলাকায় অবস্থিত। একটি পরিকল্পিত আবাসিক এলাকায় পশুর হাট বসানো বাসিন্দাদের মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।এলাকাবাসীর অভিযোগ, অতীতে হাটের অপরিকল্পিত পানির লাইন সংযোগ এবং পরবর্তীতে সেগুলো সঠিকভাবে মেরামত না করায় সারা বছর বাসিন্দাদের নোংরা পানি ব্যবহার করতে হয়েছে। হাটের বর্জ্য ও ময়লা-আবর্জনা মাসের পর মাস পরিষ্কার না করায় এলাকায় দুর্গন্ধ ও মশার উপদ্রব চরম আকার ধারণ করে। এছাড়া প্রবেশের রাস্তা একটিই হওয়ায় পশুর ট্রাক ঢুকলে যাতায়াত ব্যবস্থা পুরোপুরি অচল হয়ে পড়ে।বাসিন্দাদের দুর্ভোগের কথা বিবেচনায় নিয়ে 'জহুরুল ইসলাম সিটি সোসাইটি' বিগত ২০২৪ এবং ২০২৫ সালে উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন দাখিল করেছিল। আদালত বিস্তারিত শুনানি শেষে পশুর হাট বসানোর ওপর স্থগিতাদেশ প্রদান করেন, যা সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগেও বহাল থাকে। এর ফলে গত দুই বছর সিটি কর্পোরেশন আফতাবনগর এলাকায় পশুর হাটের টেন্ডার বাতিল করতে বাধ্য হয়।বিগত দুই বছর আদালতের হস্তক্ষেপে এলাকাটি হাটমুক্ত ও শান্ত থাকলেও, ২০২৬ সালে আবারও নতুন করে হাটের পাঁয়তারা হতে পারে এমন আশঙ্কায় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মতে, গত কয়েক দিনের গুঞ্জনে জনমনে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। বাসিন্দারা বলছেন, হাটের পরবর্তী বিভীষিকাময় পরিবেশ সামলাতেই তাদের বছরের অর্ধেক সময় চলে যায়।ক্ষোভের প্রধান কারণসমূহ:১। হাজার হাজার বহিরাগত ও ট্রাক চলাচলের কারণে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ে।২। বর্জ্যের দুর্গন্ধ থেকে বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিদের শ্বাসকষ্টসহ নানা জটিলতা দেখা দেয়।৩। বিশ্ববিদ্যালয় ও স্কুল থাকায় পরীক্ষার মৌসুমে হাটের উচ্চ শব্দ ও হট্টগোল পড়াশোনায় মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটায়।জহুরুল ইসলাম সিটি সোসাইটির প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, আদালতের স্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও যদি এখানে পশুর হাটের কোনো কার্যক্রম শুরু করার চেষ্টা করা হয়, তবে সাধারণ মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে তা প্রতিহত করবে। জনস্বার্থে এবং আবাসিক এলাকার পরিবেশ রক্ষায় প্রশাসন যেন দ্রুত 'হাটমুক্ত আফতাবনগর' এর নিশ্চয়তা প্রদান করে, এটাই এখন এলাকাবাসীর প্রধান দাবি।

আফতাবনগরে পশুর হাট বাতিলের দাবিতে এলাকাবাসীর ক্ষোভ