আনন্দ, উৎসব আর প্রতিবাদের মিশেলে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) উদযাপিত হয়েছে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরোনো কলাভবন প্রাঙ্গণ থেকে ‘নববর্ষের ঐক্যতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’ প্রতিপাদ্যে বের করা হয় বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা। তবে এবারের আয়োজনে বিশেষ মাত্রা যোগ করেছে ‘মব জাস্টিস’ বা সংঘবদ্ধ সহিংসতার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের শৈল্পিক ও জোরালো প্রতিবাদ।শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের হাতে ‘ম-তে মব নয়, ম-তে মঙ্গল হয়’, ‘কিসের এত সংশয়, মঙ্গল শব্দে কেন ভয়?’—এমন সব স্লোগান সংবলিত প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। এই প্রতিবাদের বিষয়ে ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের সাধারণ সম্পাদক ফাইযান আহমেদ অর্ক বলেন, “আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া কোনোভাবেই সভ্য সমাজের লক্ষণ হতে পারে না। মঙ্গল শোভাযাত্রা আমাদের অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রতীক, তাই এই আনন্দের দিনে আমরা মব-সন্ত্রাস প্রতিরোধের বার্তা দিচ্ছি।”এবারের শোভাযাত্রার মূল মোটিফ হিসেবে ছিল ষাঁড় ও লোকোমোটিভ ঘোড়া। চারুকলা বিভাগের শিক্ষার্থী মো. ফিরদাউস জানান, ষাঁড় দিয়ে কৃষকের দুর্দশা, ঘোড়া দিয়ে জীবনের গতি এবং পাখি দিয়ে বাক্স্বাধীনতার প্রতীক বোঝানো হয়েছে। এছাড়াও বাঘ, প্যাঁচা ও রাজা-রানির মুখোশ নিয়ে শিক্ষার্থীরা শোভাযাত্রায় অংশ নেন।শোভাযাত্রা শেষে টিএসসি মাঠে বৈশাখী মেলার উদ্বোধন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, “২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানের অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সবাইকে কাজ করতে হবে। আমরা আর রক্ত বা সংঘাত চাই না, চাই শুধু কল্যাণ ও উন্নতি।”অনুষ্ঠানে উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মো. মাহফুজুর রহমান শিক্ষার্থীদের ভার্চ্যুয়াল জগতের বাইরে এসে দেশীয় ঐতিহ্য ধারণ করার আহ্বান জানান। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সোহেল আহমেদ, জাকসু ভিপি আব্দুর রশিদ জিতুসহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন ও শিক্ষক-কর্মকর্তারা। নববর্ষ উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক জামাল উদ্দিন রুনু আগামী দিনের সংকট মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধ থাকার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।