বিপ্লবী বার্তা

মূল পাতা

শিক্ষাঙ্গন

৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৪ নভেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ
৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি
ছবি: সংগৃহীত

অবিলম্বে বদলি প্রথা চালু, নবম পে-স্কেল অনুযায়ী বেতন-ভাতা এবং আসন্ন ঈদুল ফিতর থেকে শতভাগ উৎসব ভাতা প্রদানের ৩ দফা দাবি জানিয়েছে ‘এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোট’। আগামী ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে এসব দাবি বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে সারা দেশে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সংগঠনটির শীর্ষ নেতারা।

বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জোটের সদস্য সচিব অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজিজী এই অবস্থান পরিষ্কার করেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জোটের সদস্য সচিব বলেন, "দেশের ছয় লক্ষাধিক এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী দীর্ঘদিন ধরে তীব্র বৈষম্য ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। বহু শিক্ষক নিজ এলাকা ছেড়ে শত শত কিলোমিটার দূরে পরিবার-পরিজন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে চাকরি করছেন। এতে তাঁদের পারিবারিক ও সামাজিক জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। তাই শিক্ষক স্থানান্তরের এই বদলি প্রথা কোনো বিলাসিতা নয়, এটি এক অতীব মানবিক ও জরুরি প্রয়োজন। অবিলম্বে এ সংক্রান্ত সরকারি নির্দেশনা বা আদেশ জারি করতে হবে।"

দ্বিতীয় দাবি প্রসঙ্গে তিনি তুলে ধরেন, সমান শিক্ষাগত যোগ্যতা ও দায়িত্ব পালন করা সত্ত্বেও এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা আজ আর্থিক বৈষম্যের শিকার। ঊর্ধ্বগতির এই বাজারে টিকতে তাঁদের জন্য নবম পে-স্কেল অনুযায়ী বেতন নির্ধারণের বিকল্প নেই।

তবে সরকারের সাম্প্রতিক পদক্ষেপে সন্তোষ প্রকাশ করে অধ্যক্ষ আজিজী জানান, শিক্ষক জোটের গত ৩১ অক্টোবরের দেশব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচির পর গত ১ নভেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে স্কুল-কলেজের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ চেয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এ উদ্যোগের জন্য সরকার প্রধান, শিক্ষামন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে ধন্যবাদ জানালেও তিনি অভিযোগ করেন, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ থেকে এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে এখনো কোনো প্রস্তাবনা বা চিঠি পাঠানো হয়নি। দ্রুত সময়ের মধ্যে মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষকদের জন্যও সমপরিমাণ অর্থ বরাদ্দের আবেদন পাঠানোর দাবি জানান তিনি।

জোটের তৃতীয় দাবি হিসেবে ঈদুল ফিতর থেকেই শতভাগ উৎসব ভাতা প্রদানের জোর দাবি জানানো হয়। বর্তমানে শিক্ষক-কর্মচারীরা মূল বেতনের মাত্র ৫০ শতাংশ উৎসব ভাতা পান, যা অত্যন্ত আপত্তিকর ও বৈষম্যমূলক বলে উল্লেখ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে জোটের সদস্য সচিব বলেন, "পূর্বঘোষিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আজ আমাদের প্রেসক্লাবের সামনে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান কর্মসূচি পালনের কথা ছিল। তবে সরকার আমাদের বড় ও ব্যয়বহুল একটি দাবি বাস্তবায়নে নীতিগত উদ্যোগ নেওয়ায় এবং ঢাকার আশপাশের শ্রমিক অসন্তোষসহ সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে আমরা সহকর্মীদের নিরাপত্তার স্বার্থে অবস্থান কর্মসূচির পরিবর্তে ইনডোরে সংবাদ সম্মেলন করছি। এটি আমাদের আন্দোলন স্থগিতের বার্তা দেয় না বরং কৌশলগত পরিবর্তন।"

সরকারকে হুঁশিয়ারি করে তিনি বলেন, "আমরা সরকারের মুখোমুখি কোনো সংঘাত কিংবা বিশৃঙ্খলা চাই না। কিন্তু দিনের পর দিন অনির্দিষ্ট আশ্বাসের ফাঁদেও আর পা দেব না। আগামী ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে যদি আমাদের বদলি, পে-স্কেল ও শতভাগ উৎসব ভাতার সুনির্দিষ্ট ঘোষণা না আসে, তবে সারা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে সাথে নিয়ে বৃহত্তর ও কঠোর কর্মসূচি গ্রহণে বাধ্য হবে শিক্ষক সমাজ।"

পে-স্কেল অধ্যক্ষ আজিজী এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ

আপনার মতামত লিখুন

বিপ্লবী বার্তা

বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬


৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

প্রকাশের তারিখ : ০৪ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

অবিলম্বে বদলি প্রথা চালু, নবম পে-স্কেল অনুযায়ী বেতন-ভাতা এবং আসন্ন ঈদুল ফিতর থেকে শতভাগ উৎসব ভাতা প্রদানের ৩ দফা দাবি জানিয়েছে ‘এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোট’। আগামী ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে এসব দাবি বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে সারা দেশে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সংগঠনটির শীর্ষ নেতারা।

বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জোটের সদস্য সচিব অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজিজী এই অবস্থান পরিষ্কার করেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জোটের সদস্য সচিব বলেন, "দেশের ছয় লক্ষাধিক এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী দীর্ঘদিন ধরে তীব্র বৈষম্য ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। বহু শিক্ষক নিজ এলাকা ছেড়ে শত শত কিলোমিটার দূরে পরিবার-পরিজন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে চাকরি করছেন। এতে তাঁদের পারিবারিক ও সামাজিক জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। তাই শিক্ষক স্থানান্তরের এই বদলি প্রথা কোনো বিলাসিতা নয়, এটি এক অতীব মানবিক ও জরুরি প্রয়োজন। অবিলম্বে এ সংক্রান্ত সরকারি নির্দেশনা বা আদেশ জারি করতে হবে।"

দ্বিতীয় দাবি প্রসঙ্গে তিনি তুলে ধরেন, সমান শিক্ষাগত যোগ্যতা ও দায়িত্ব পালন করা সত্ত্বেও এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা আজ আর্থিক বৈষম্যের শিকার। ঊর্ধ্বগতির এই বাজারে টিকতে তাঁদের জন্য নবম পে-স্কেল অনুযায়ী বেতন নির্ধারণের বিকল্প নেই।

তবে সরকারের সাম্প্রতিক পদক্ষেপে সন্তোষ প্রকাশ করে অধ্যক্ষ আজিজী জানান, শিক্ষক জোটের গত ৩১ অক্টোবরের দেশব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচির পর গত ১ নভেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে স্কুল-কলেজের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ চেয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এ উদ্যোগের জন্য সরকার প্রধান, শিক্ষামন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে ধন্যবাদ জানালেও তিনি অভিযোগ করেন, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ থেকে এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে এখনো কোনো প্রস্তাবনা বা চিঠি পাঠানো হয়নি। দ্রুত সময়ের মধ্যে মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষকদের জন্যও সমপরিমাণ অর্থ বরাদ্দের আবেদন পাঠানোর দাবি জানান তিনি।

জোটের তৃতীয় দাবি হিসেবে ঈদুল ফিতর থেকেই শতভাগ উৎসব ভাতা প্রদানের জোর দাবি জানানো হয়। বর্তমানে শিক্ষক-কর্মচারীরা মূল বেতনের মাত্র ৫০ শতাংশ উৎসব ভাতা পান, যা অত্যন্ত আপত্তিকর ও বৈষম্যমূলক বলে উল্লেখ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে জোটের সদস্য সচিব বলেন, "পূর্বঘোষিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আজ আমাদের প্রেসক্লাবের সামনে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান কর্মসূচি পালনের কথা ছিল। তবে সরকার আমাদের বড় ও ব্যয়বহুল একটি দাবি বাস্তবায়নে নীতিগত উদ্যোগ নেওয়ায় এবং ঢাকার আশপাশের শ্রমিক অসন্তোষসহ সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে আমরা সহকর্মীদের নিরাপত্তার স্বার্থে অবস্থান কর্মসূচির পরিবর্তে ইনডোরে সংবাদ সম্মেলন করছি। এটি আমাদের আন্দোলন স্থগিতের বার্তা দেয় না বরং কৌশলগত পরিবর্তন।"

সরকারকে হুঁশিয়ারি করে তিনি বলেন, "আমরা সরকারের মুখোমুখি কোনো সংঘাত কিংবা বিশৃঙ্খলা চাই না। কিন্তু দিনের পর দিন অনির্দিষ্ট আশ্বাসের ফাঁদেও আর পা দেব না। আগামী ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে যদি আমাদের বদলি, পে-স্কেল ও শতভাগ উৎসব ভাতার সুনির্দিষ্ট ঘোষণা না আসে, তবে সারা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে সাথে নিয়ে বৃহত্তর ও কঠোর কর্মসূচি গ্রহণে বাধ্য হবে শিক্ষক সমাজ।"


বিপ্লবী বার্তা

প্রকাশক
শেখ মাহমুদ উজ্জ্বল
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
কাইয়ুম তালুকদার (কানন)
উপদেষ্টা সম্পাদক
ড. জাহিদ আহমেদ চৌধুরী

কপিরাইট © ২০২৬ । বিপ্লবী বার্তা