ময়মনসিংহের ভালুকায় নিজ প্রতিষ্ঠানে চুরির ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে ফেসবুকে লাইভ করার জেরে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে গ্রেপ্তার হওয়া নারী ব্যবসায়ী সাথী আক্তার (৩০) আদালত থেকে জামিন লাভ করেছেন।
আজ বুধবার (২৮ অক্টোবর) ময়মনসিংহের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় (অপরাধ প্রতিরোধমূলক ক্ষমতা) গ্রেপ্তার সাথী আক্তারের জামিন মঞ্জুর করেন। এর আগে গত সোমবার (২৬ অক্টোবর) পুলিশ তাঁকে আদালতে পাঠায়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ অক্টোবর (রবিবার) বেলা ২টার দিকে ভালুকার স্কয়ার মাস্টারবাড়ী এলাকার ‘খাদিজা প্যালেস’ মার্কেটের ‘সাথী বিউটি পার্লার’-এর মালিক সাথী আক্তার তাঁর প্রতিষ্ঠানে বারবার চুরির ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে ‘সাথী মেকওভার’ নামের আইডি থেকে ৫ মিনিটের দুটি লাইভ করেন। ব্যবসায়িক নিরাপত্তার অভাব ও ক্ষতির কথা বলতে গিয়ে লাইভে তিনি ক্ষোভের সাথে উচ্চারণ করেন, "বিএনপি সরকারকে ভোট দিয়া আজকে ভুক্তভোগী।"
জামিন পাওয়ার পর সাথী আক্তার গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, দীর্ঘ ১২ বছর ধরে তিনি ভালুকায় অত্যন্ত সুনামের সাথে ব্যবসা পরিচালনা করছেন এবং তাঁর প্রতিষ্ঠানগুলোতে অন্তত ১০ জন নারীর কর্মসংস্থান রয়েছে। সম্প্রতি ২০২৬ সালে এসে তাঁর তিনটি শোরুমের এসি ও মিটারের তার কেটে নিয়ে যায় চোরচক্র।
ক্ষোভের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, "এক কয়েল তারের দাম ১২ হাজার টাকা। আমার চার কয়েল তারের মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। আমি কোনো সরকারের বিরুদ্ধে বলিনি, একজন ব্যবসায়ী হিসেবে বারবার চুরির শিকার হয়ে নিরাপত্তাহীনতা ও ক্ষোভ থেকে লাইভটি করেছিলাম।"
সাথী আক্তার আরও অভিযোগ করেন, লাইভটি ছড়িয়ে পড়ার পর বেলা ১১টা-১২টার দিকে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা পরিকল্পনা করে স্কয়ার মাস্টারবাড়ী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় তাঁর শোরুমের সামনে এসে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি করেন। তাঁরা গালিগালাজ শুরু করলে সাথী তা নিজের মোবাইলে ধারণ করার চেষ্টা করেন। বিকেল ৪টার দিকে 'ইব্রাহিম' নামের এক নেতার নেতৃত্বে তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়, মোবাইল কেড়ে নেওয়া হয় এবং শারীরিক নির্যাতন ও লাঞ্ছিত করা হয়। পরে সেদিন রাত ১০টার দিকে পুলিশ তাঁকে আটক করে নিয়ে যায়।
নিজের রাজনৈতিক অবস্থানের বিষয়ে সাথী আক্তার জানান, তিনি কোনো পদে না থাকলেও বিভিন্ন সময় ময়মনসিংহে বিএনপির কর্মসূচিতে সক্রিয় ছিলেন। নেত্রীর সুস্থতা ও বিদেশে পাঠানোর দাবিতে আন্দোলনে ফখরুদ্দিন আহমেদ বাচ্চু সাহেবের সারিতেই প্রথম দিকে অংশ নিয়েছিলেন। এমনকি নির্বাচনে তিনি নিজে ভোট দেওয়া ছাড়াও অন্যদের ভোট কেন্দ্রে এনে ফখরুদ্দিন আহমেদ বাচ্চুর পক্ষে ভোট চেয়েছেন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, "যে দলের আন্দোলনের অগ্রভাগে থেকেছি, আজ তাদের লোকজনই আমার গায়ে হাত তুলল এবং লাথি মারল। যা অত্যন্ত কষ্টের।"
বর্তমানে শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ থাকায় চিকিৎসা ও বিশ্রামে আছেন জানিয়ে এই নারী উদ্যোক্তা বলেন, তিনি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং সুস্থ হওয়ার পর এই ঘটনার বিষয়ে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ ও বিস্তারিত সংবাদমাধ্যমকে জানাবেন।

বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ অক্টোবর ২০২৬
ময়মনসিংহের ভালুকায় নিজ প্রতিষ্ঠানে চুরির ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে ফেসবুকে লাইভ করার জেরে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে গ্রেপ্তার হওয়া নারী ব্যবসায়ী সাথী আক্তার (৩০) আদালত থেকে জামিন লাভ করেছেন।
আজ বুধবার (২৮ অক্টোবর) ময়মনসিংহের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় (অপরাধ প্রতিরোধমূলক ক্ষমতা) গ্রেপ্তার সাথী আক্তারের জামিন মঞ্জুর করেন। এর আগে গত সোমবার (২৬ অক্টোবর) পুলিশ তাঁকে আদালতে পাঠায়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ অক্টোবর (রবিবার) বেলা ২টার দিকে ভালুকার স্কয়ার মাস্টারবাড়ী এলাকার ‘খাদিজা প্যালেস’ মার্কেটের ‘সাথী বিউটি পার্লার’-এর মালিক সাথী আক্তার তাঁর প্রতিষ্ঠানে বারবার চুরির ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে ‘সাথী মেকওভার’ নামের আইডি থেকে ৫ মিনিটের দুটি লাইভ করেন। ব্যবসায়িক নিরাপত্তার অভাব ও ক্ষতির কথা বলতে গিয়ে লাইভে তিনি ক্ষোভের সাথে উচ্চারণ করেন, "বিএনপি সরকারকে ভোট দিয়া আজকে ভুক্তভোগী।"
জামিন পাওয়ার পর সাথী আক্তার গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, দীর্ঘ ১২ বছর ধরে তিনি ভালুকায় অত্যন্ত সুনামের সাথে ব্যবসা পরিচালনা করছেন এবং তাঁর প্রতিষ্ঠানগুলোতে অন্তত ১০ জন নারীর কর্মসংস্থান রয়েছে। সম্প্রতি ২০২৬ সালে এসে তাঁর তিনটি শোরুমের এসি ও মিটারের তার কেটে নিয়ে যায় চোরচক্র।
ক্ষোভের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, "এক কয়েল তারের দাম ১২ হাজার টাকা। আমার চার কয়েল তারের মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। আমি কোনো সরকারের বিরুদ্ধে বলিনি, একজন ব্যবসায়ী হিসেবে বারবার চুরির শিকার হয়ে নিরাপত্তাহীনতা ও ক্ষোভ থেকে লাইভটি করেছিলাম।"
সাথী আক্তার আরও অভিযোগ করেন, লাইভটি ছড়িয়ে পড়ার পর বেলা ১১টা-১২টার দিকে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা পরিকল্পনা করে স্কয়ার মাস্টারবাড়ী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় তাঁর শোরুমের সামনে এসে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি করেন। তাঁরা গালিগালাজ শুরু করলে সাথী তা নিজের মোবাইলে ধারণ করার চেষ্টা করেন। বিকেল ৪টার দিকে 'ইব্রাহিম' নামের এক নেতার নেতৃত্বে তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়, মোবাইল কেড়ে নেওয়া হয় এবং শারীরিক নির্যাতন ও লাঞ্ছিত করা হয়। পরে সেদিন রাত ১০টার দিকে পুলিশ তাঁকে আটক করে নিয়ে যায়।
নিজের রাজনৈতিক অবস্থানের বিষয়ে সাথী আক্তার জানান, তিনি কোনো পদে না থাকলেও বিভিন্ন সময় ময়মনসিংহে বিএনপির কর্মসূচিতে সক্রিয় ছিলেন। নেত্রীর সুস্থতা ও বিদেশে পাঠানোর দাবিতে আন্দোলনে ফখরুদ্দিন আহমেদ বাচ্চু সাহেবের সারিতেই প্রথম দিকে অংশ নিয়েছিলেন। এমনকি নির্বাচনে তিনি নিজে ভোট দেওয়া ছাড়াও অন্যদের ভোট কেন্দ্রে এনে ফখরুদ্দিন আহমেদ বাচ্চুর পক্ষে ভোট চেয়েছেন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, "যে দলের আন্দোলনের অগ্রভাগে থেকেছি, আজ তাদের লোকজনই আমার গায়ে হাত তুলল এবং লাথি মারল। যা অত্যন্ত কষ্টের।"
বর্তমানে শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ থাকায় চিকিৎসা ও বিশ্রামে আছেন জানিয়ে এই নারী উদ্যোক্তা বলেন, তিনি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং সুস্থ হওয়ার পর এই ঘটনার বিষয়ে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ ও বিস্তারিত সংবাদমাধ্যমকে জানাবেন।

আপনার মতামত লিখুন