‘নিরাপদ সড়ক সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে ময়মনসিংহে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস-২০২৬ পালিত হয়েছে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) ময়মনসিংহ সার্কেলের আয়োজনে র্যালি, লিফলেট বিতরণ, সচেতনতামূলক স্টিকার লাগানো এবং আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বিআরটিএর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ময়মনসিংহ জেলায় ১৭৩টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় ১৭২ জন নিহত ও ১৯১ জন আহত হয়েছেন। উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক মো. সাইদুর রহমান
দিবসটি উপলক্ষে পেশাগত দক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার স্বীকৃতিস্বরূপ ছয়জন পেশাদার চালককে পুরস্কৃত করা হয়। তাঁরা হলেন মেহেদী হাসান সোহেল, মো. আতিকুল ইসলাম, মো. হাবিবুর রহমান, মো. রাকিবুল হাসান ইমন, রাশিদুল ইসলাম রবিন ও রবিকুল ইসলাম।
আলোচনা সভায় ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (পুলিশ) গোলাম মাওলা বলেন, সড়ক পারাপারের সময় অনেক পথচারী যানবাহনের গতিবেগ বিবেচনা না করে হাত উঁচু করে রাস্তা পার হওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু দ্রুতগতির যানবাহন সব সময় তাৎক্ষণিকভাবে থামানো সম্ভব হয় না। এ ধরনের অসচেতনতা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ায়। তাই পথচারীদের ট্রাফিক আইন মেনে সতর্কতার সঙ্গে রাস্তা পার হতে হবে।
নিরাপদ সড়ক ময়মনসিংহ জেলা শাখার সভাপতি আব্দুল কাদির চৌধুরী বলেন, সড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা না গেলে দুর্ঘটনা কমানো সম্ভব নয়। নিরাপদ সড়কের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চলছে। চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনের উদ্যোগে গড়ে ওঠা নিরাপদ সড়ক আন্দোলন দেশের মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে সড়ক দুর্ঘটনার জন্য শুধু চালকদের দায়ী করলে হবে না। সড়কের অবস্থা, যানবাহনের ফিটনেস, চালকদের দায়িত্বশীলতা এবং পথচারীদের অসচেতনতাসহ বিভিন্ন বিষয় দুর্ঘটনার জন্য দায়ী হতে পারে।
বিআরটিএর উপপরিচালক আলী হাসান মিলন বলেন, সড়কে উপযুক্ত যানবাহন চলাচল নিশ্চিত করা এবং সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টি করাই দিবসটি উদযাপনের মূল লক্ষ্য। সড়ক আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাই শুধু একটি নির্দিষ্ট দিনে নয়, সারা বছর সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করতে হবে। প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিতে হবে। নিজে নিরাপদ থাকার পাশাপাশি প্রতিবেশী, আত্মীয়স্বজন ও আপনজনদেরও সচেতন করতে হবে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নিরাপদ সড়কব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো. সাইদুর রহমান বলেন, সড়ক নিরাপত্তা কোনো একক পক্ষের বিষয় নয়; এটি চালক, যাত্রী, পরিবহনমালিক, শ্রমিক, পথচারী ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সম্মিলিত দায়িত্ব। প্রত্যেকে শুধু নিজের স্বার্থকে প্রাধান্য দিলে অন্য পক্ষের অধিকার ও নিরাপত্তা উপেক্ষিত হয়। এ মানসিকতা থেকে বেরিয়ে এসে সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সড়কে যানবাহনের সংখ্যাও বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে সড়ক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। নিরাপদ সড়ক গড়ে তুলতে জনসচেতনতা, যথাযথ ব্যবস্থাপনা ও সংশ্লিষ্ট সবার আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মো. সাইদুর রহমান এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিআরটিএর এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ইফফাত হাশেম, সহকারী পরিচালক আনিসুর রহমান, মোটরযান পরিদর্শক জহির রাইহান, ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (পুলিশ) গোলাম মাওলা, নিরাপদ সড়ক ময়মনসিংহ জেলা শাখার সভাপতি আব্দুল কাদির চৌধুরী, ময়মনসিংহ মোটরযান শ্রমিক সভাপতি নজরুল ইসলামসহ বিআরটিএর কর্মকর্তা-কর্মচারী শ্রমিক মালিক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
আলোচনা সভায় বক্তারা সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে ট্রাফিক আইন মেনে চলা, যানবাহনের ফিটনেস নিশ্চিত করা, সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা এবং চালক ও পথচারীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ অক্টোবর ২০২৬
‘নিরাপদ সড়ক সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে ময়মনসিংহে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস-২০২৬ পালিত হয়েছে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) ময়মনসিংহ সার্কেলের আয়োজনে র্যালি, লিফলেট বিতরণ, সচেতনতামূলক স্টিকার লাগানো এবং আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বিআরটিএর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ময়মনসিংহ জেলায় ১৭৩টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় ১৭২ জন নিহত ও ১৯১ জন আহত হয়েছেন। উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক মো. সাইদুর রহমান
দিবসটি উপলক্ষে পেশাগত দক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার স্বীকৃতিস্বরূপ ছয়জন পেশাদার চালককে পুরস্কৃত করা হয়। তাঁরা হলেন মেহেদী হাসান সোহেল, মো. আতিকুল ইসলাম, মো. হাবিবুর রহমান, মো. রাকিবুল হাসান ইমন, রাশিদুল ইসলাম রবিন ও রবিকুল ইসলাম।
আলোচনা সভায় ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (পুলিশ) গোলাম মাওলা বলেন, সড়ক পারাপারের সময় অনেক পথচারী যানবাহনের গতিবেগ বিবেচনা না করে হাত উঁচু করে রাস্তা পার হওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু দ্রুতগতির যানবাহন সব সময় তাৎক্ষণিকভাবে থামানো সম্ভব হয় না। এ ধরনের অসচেতনতা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ায়। তাই পথচারীদের ট্রাফিক আইন মেনে সতর্কতার সঙ্গে রাস্তা পার হতে হবে।
নিরাপদ সড়ক ময়মনসিংহ জেলা শাখার সভাপতি আব্দুল কাদির চৌধুরী বলেন, সড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা না গেলে দুর্ঘটনা কমানো সম্ভব নয়। নিরাপদ সড়কের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চলছে। চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনের উদ্যোগে গড়ে ওঠা নিরাপদ সড়ক আন্দোলন দেশের মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে সড়ক দুর্ঘটনার জন্য শুধু চালকদের দায়ী করলে হবে না। সড়কের অবস্থা, যানবাহনের ফিটনেস, চালকদের দায়িত্বশীলতা এবং পথচারীদের অসচেতনতাসহ বিভিন্ন বিষয় দুর্ঘটনার জন্য দায়ী হতে পারে।
বিআরটিএর উপপরিচালক আলী হাসান মিলন বলেন, সড়কে উপযুক্ত যানবাহন চলাচল নিশ্চিত করা এবং সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টি করাই দিবসটি উদযাপনের মূল লক্ষ্য। সড়ক আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাই শুধু একটি নির্দিষ্ট দিনে নয়, সারা বছর সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করতে হবে। প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিতে হবে। নিজে নিরাপদ থাকার পাশাপাশি প্রতিবেশী, আত্মীয়স্বজন ও আপনজনদেরও সচেতন করতে হবে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নিরাপদ সড়কব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো. সাইদুর রহমান বলেন, সড়ক নিরাপত্তা কোনো একক পক্ষের বিষয় নয়; এটি চালক, যাত্রী, পরিবহনমালিক, শ্রমিক, পথচারী ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সম্মিলিত দায়িত্ব। প্রত্যেকে শুধু নিজের স্বার্থকে প্রাধান্য দিলে অন্য পক্ষের অধিকার ও নিরাপত্তা উপেক্ষিত হয়। এ মানসিকতা থেকে বেরিয়ে এসে সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সড়কে যানবাহনের সংখ্যাও বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে সড়ক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। নিরাপদ সড়ক গড়ে তুলতে জনসচেতনতা, যথাযথ ব্যবস্থাপনা ও সংশ্লিষ্ট সবার আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মো. সাইদুর রহমান এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিআরটিএর এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ইফফাত হাশেম, সহকারী পরিচালক আনিসুর রহমান, মোটরযান পরিদর্শক জহির রাইহান, ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (পুলিশ) গোলাম মাওলা, নিরাপদ সড়ক ময়মনসিংহ জেলা শাখার সভাপতি আব্দুল কাদির চৌধুরী, ময়মনসিংহ মোটরযান শ্রমিক সভাপতি নজরুল ইসলামসহ বিআরটিএর কর্মকর্তা-কর্মচারী শ্রমিক মালিক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
আলোচনা সভায় বক্তারা সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে ট্রাফিক আইন মেনে চলা, যানবাহনের ফিটনেস নিশ্চিত করা, সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা এবং চালক ও পথচারীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

আপনার মতামত লিখুন